শিরোনাম

যে গ্রামে বিনামূল্যে কম্পিউটার শেখানো হয়

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
যে গ্রামে বিনামূল্যে কম্পিউটার শেখানো হয়
চুনতি লাইটহাউসে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন কয়েকজন। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম চুনতি। শিক্ষা ও প্রযুক্তির আলো ছড়িয়ে দিতেই গ্রামটিতে গড়ে তোলা হয়েছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। সেখানে প্রতিদিন কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন কম্পিউটার ও প্রযুক্তির নানা বিষয়ের ওপর।

‘চুনতি লাইটহাউস’ নামের প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে ২০২২ সালের মে মাসে। ৮ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত ‘চুনতি লাইটহাউসে’ রয়েছে ১৭টি কম্পিউটার।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে কম্পিউটারের বেসিক অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, হার্ডওয়্যারসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

চুনতি লাইটহাউসের প্রশিক্ষণার্থী সাঈদুর রহমান বলেন, কম্পিউটার শেখার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু অর্থাভাবে উপজেলা সদরে গিয়ে শেখা সম্ভব হয়নি। এখন বাড়ির কাছেই বিনা মূল্যে শিখছি। বাংলা ও ইংরেজি টাইপিং প্রায় শিখে ফেলেছি। কোর্স শেষ করে ছোট একটা চাকরি করতে চাই, যেন নিজের পড়ালেখার পাশাপাশি পরিবারের খরচও চালাতে পারি।

সরজমিনে দেখা যায়, দেড় হাজারের বেশি বই নিয়ে একটি গ্রন্থাগারও রয়েছে চুনতি লাইটহাউসে। দেয়ালে শোভা পাচ্ছে স্থানীয় শিল্পীদের আঁকা চুনতির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছবি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষক ফরিদ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের অনেকেই এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।

‘চুনতি লাইটহাউস’ পরিচালিত হয় খান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে। ফাউন্ডেশনটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চক্ষু চিকিৎসা, শীতবস্ত্র বিতরণ, শিক্ষা সহায়তা, নারী উদ্যোক্তা তৈরি, সুদবিহীন কৃষি ঋণসহ নানা সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশ্বব্যাংকের লিড ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট সুরাইয়া জান্নাতের উদ্যোগে ২০২২ সালের মে মাসে লাইটহাউসের যাত্রা শুরু হয়।

লাইটহাউসের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হাসান বলেন, প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি চালানো কঠিন। সহযোগিতা পেলে আমরা এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে চাই।

লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ প্রজন্ম গড়তে উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। আমরা দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করব।

/এসআর/