শিরোনাম

ইসরায়েলগামী অস্ত্রের চালান জব্দ করলো বেলজিয়াম

সিটিজেন ডেস্ক
ইসরায়েলগামী অস্ত্রের চালান জব্দ করলো বেলজিয়াম
বিমান। ছবি: সংগৃহীত

গত তিন বছরের অধিক সময় ধরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গাজায় নির্বিচারে হামলায় হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে দখলদার দেশটি। এদিকে সম্প্রতি ইরানেও নির্বিচার হামলা চালিয়ে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এর মধ্যেই যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলে পাঠানোর উদ্দেশ্যে আনা সামরিক যন্ত্রাংশের দুটি চালান জব্দ করেছে বেলজিয়াম। ২৩ মার্চ ব্রিটেন থেকে পাঠানো চালান দুটি মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা পরেই (২৪ মার্চ) বেলজিয়ামের লিজ বিমানবন্দরে জব্দ করা হয়।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।

গত মাসেই ব্রিটিশ নিউজ সাইট ডিক্লাসিফাইড, বেলজিয়াম এনজিও ভ্রেডেসাক্টি, আইরিশ নিউজ সাইট দ্য ডিচ এবং প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট যৌথভাবে অস্ত্রের এই চালান সম্পর্কে বেলজিয়াম সরকারকে সতর্ক করে।

বেলজিয়ামে ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জামবাহী যেকোনো বিমানের অবতরণ বা আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নির্দেশনার ভিত্তিতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার।

চালানগুলো তল্লাশি করে ‘ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং সামরিক বিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ’ খুঁজে পাওয়া গেছে। তবে জানানো হয়েছিল এতে ‘সাধারণ বিমানের যন্ত্রাংশ’ রয়েছে।

জানা গেছে, বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু অভিযোগে জড়িত সংস্থাগুলোর নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তবে দক্ষিণ বেলজিয়ামের ওয়ালুন আঞ্চলিক সরকার ‘মুগ’ নামে একটি কোম্পানির নাম প্রকাশ করেছে। এটি আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। এর কারখানা বৃটেনে অবস্থিত।

‘মুগ’ কোম্পানি মূলত ইসরায়েলি পাইলটদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত এম-৩৪৬ বিমানের জন্য অ্যাকচুয়েটর তৈরি করে।

বেলজিয়াম সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছে, এই কার্গোর জন্য কোনো ট্রানজিট লাইসেন্সের অনুরোধ জারি করা হয়নি। ‘যদি তা-ই হতো, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হতো।’

ট্র্যাকিং প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত সূত্রগুলো জানিয়েছে, যন্ত্রাংশগুলো যুক্তরাজ্য থেকে একটি ‘ওপেন ইন্ডিভিজুয়াল এক্সপোর্ট লাইসেন্স’-এর অধীনে রপ্তানি করা হয়েছিল। এগুলোকে সামরিক সরঞ্জামের পরিবর্তে বিমান-সম্পর্কিত যন্ত্রাংশ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল।

তারা আরও জানতে পেরেছে, মুগ থেকে আসা অন্তত ১৭টি চালান যুক্তরাজ্য থেকে লিয়েজ বিমানবন্দরে সরানো হয়েছে। যেগুলো ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র চাপের মুখে যুক্তরাজ্য সরকার ইসরায়েলে দেওয়া তাদের ৩৫০টি অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্সের মধ্যে ৩০টি স্থগিত করে। সংস্থাগুলো যুক্তি দেয়, এই ধরনের রপ্তানি গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি শাসনের গণহত্যায় ব্রিটেনকে সহযোগী করে তুলবে।

যুক্তরাজ্য ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের মে মাসের মধ্যেই ইসরায়েলে যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক এবং গোলাবারুদের যন্ত্রাংশসহ ১০০টিরও বেশি সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির লাইসেন্স দিয়েছে।

সূত্র: প্রেস টিভি, মিডল ইস্ট আই

/জেএইচ/