শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বাদে সবার জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা: আরাঘচি

সিটিজেন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বাদে সবার জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা: আরাঘচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ছবি: এএল নিউজ টোয়েন্টিফোর

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এটি কার্যত বন্ধ। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে অনেক দেশই প্রণালিটি ব্যবহার করতে চাইছে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব বলেন।

আরাঘচি বলেন, অন্য দেশের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে চাইলে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন, অনেক ট্যাঙ্কার ও জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালি পার হচ্ছে। কিন্তু নিরাপত্তা উদ্বেগে কেউ কেউ তা করছে না– এ বিষয়ে ইরানের কিছু করার নেই।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি দেশকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিটি ‘উন্মুক্ত ও নিরাপদ’ রাখতে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের পরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্প তার পোস্টে যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর মধ্যে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের নাম রয়েছে। এসব দেশও সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি আহত এবং সম্ভবত স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছেন।

এ দাবির জবাবে আরাঘচি বলেন, সর্বোচ্চ নেতার কোনো সমস্যা নেই। তিনি গতকালই একটি বার্তা দিয়েছেন এবং সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রব্যবস্থা কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। কোনো ব্যক্তিকে হারালেও সেই শূন্যস্থান রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাই পূরণ করতে সক্ষম।আরাঘচির ভাষায়, সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে।

শনিবার পরে ট্রাম্প আবার দাবি করেন, তিনি শুনেছেন মুজতাবা খামেনি হয়তো আর জীবিত নেই। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তবে যদি তিনি জীবিত থাকেন, তাহলে দেশের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে আত্মসমর্পণ করা।

এদিকে জেনেভায় সাম্প্রতিক আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তা অস্বীকার করেছেন আরাঘচি।

তিনি বলেন, আলোচনায় তিনি কখনো বলেননি যে ইরানের কাছে ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরির মতো ইউরেনিয়াম আছে। বরং তিনি শুধু উল্লেখ করেছিলেন যে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা তাত্ত্বিকভাবে প্রায় ১০টি বোমা তৈরির জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

আরাঘচির দাবি, তিনি এটি উল্লেখ করেছিলেন আলোচনায় ইরান কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত তা বোঝানোর জন্য। তবে মার্কিন প্রতিনিধিরা হয়তো তাকে ভুল বুঝেছেন।

তার ভাষায়, সম্ভবত তাদের পর্যাপ্ত জ্ঞান ছিল না, অথবা তারা আগ্রাসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছিল।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনায় প্রকৃতপক্ষে কী কথা হয়েছিল, তা একদিন প্রকাশ পাবে।

/এসএ/