শিরোনাম

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২২৮ মার্কিন সামরিক স্থাপনা ধ্বংস

সিটিজেন ডেস্ক
ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২২৮ মার্কিন সামরিক স্থাপনা ধ্বংস
ছবি: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর ইরানের ধারাবাহিক হামলা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। বুধবার (৬ মে) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পাল্টা জবাবে ইরানের ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর অন্তত ২২৮টি প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত অথবা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। মূলত ড্রোন ও সফল বিমান হামলার মাধ্যমে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির হ্যাঙ্গার, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, যুদ্ধবিমান এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান।

ওয়াশিংটন পোস্টের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্কিন সামরিক সম্পদের যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এর আগে জনসমক্ষে এসেছিল, প্রকৃত চিত্র তার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ হতে পারে। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এখন পর্যন্ত এ অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির কোনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি।

প্রতিবেদনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৫ মে) মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি কেসি-১৩৫ স্টার্টোট্যাঙ্কার বিমান হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড়ার সময় হঠাৎ রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। প্রায় ৪০ থেকে ৫২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিমানটি আকাশে অন্যান্য যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি ফ্লাইটরাডার২৪ এর তথ্য ব্যবহার করে প্রথম এ নিখোঁজ হওয়ার খবর জানায়।

একই সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন একটি প্রতিবেদনে এ অঞ্চলের অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির’ কথা উল্লেখ করেছে, যা পেন্টাগন শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছিল। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টিডব্লিউজেড (TWZ) তাদের অভ্যন্তরীণ তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৩৯টি সামরিক বিমান হারিয়েছে, যার মধ্যে চারটি শক্তিশালী এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান রয়েছে এবং আরও ১০টি বিমান বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ড্রোন ও বিমান হামলার তীব্রতা অঞ্চলের কিছু ঘাঁটি সামরিক অভিযানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে কমান্ডাররা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তাদের বাহিনীর বড় একটি অংশকে ইরানি হামলার আওতার বাইরে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে একজন সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির এ পরিসংখ্যানকে যেন মার্কিন বাহিনীর ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখা না হয়, কারণ পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ কংগ্রেসে স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধের প্রাথমিক ব্যয় হবে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার এবং ধ্বংস হওয়া গোলাবারুদ ও সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহ করতে কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে পেন্টাগন ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট দাবি করেছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

/এমএকে/