শিরোনাম

নিরাপত্তা নিশ্চিতে হরমুজের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ফরাসি রণতরি

সিটিজেন ডেস্ক
নিরাপত্তা নিশ্চিতে হরমুজের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ফরাসি রণতরি
ফরাসী বিমানবাহী রণতরী শার্ল দ্য গল। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে বিমানবাহী রণতরি ‘শার্ল দ্য গল’ মোতায়েন করছে ফ্রান্স। লোহিত সাগর হয়ে রণতরিটি এখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরিটি মূলত একটি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষামূলক মিশনের প্রস্তুতি হিসেবে পাঠানো হয়েছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের ত্রিমুখী টানাপোড়েনে কার্যত স্থবির হয়ে পড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে একসময় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল বাণিজ্য পরিচালিত হতো। গুরুত্বপূর্ণ এ আন্তর্জাতিক রুটটি পুনরায় সচল করতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একটি বহুজাতিক মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মাখোঁ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এ উদ্যোগ জাহাজ মালিক ও বিমা কোম্পানিগুলোর হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, এটি কোনো যুদ্ধংদেহী পদক্ষেপ নয় বরং বিবদমান পক্ষগুলোর বাইরে একটি সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বাধীন নিরাপত্তা উদ্যোগ।

এ সামরিক প্রস্তুতির সমান্তরালে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতাও সমানতালে চলছে। সম্প্রতি ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলাপের পর মাখোঁ জানিয়েছেন, তিনি শীঘ্রই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও এ সংকটের সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী একটি ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ পলিসি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। যেখানে ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে অবাধে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে, যার বিনিময়ে তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসতে সম্মত হবে। অন্যদিকে, আলোচনার টেবিলে বসার আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি পেলে যুক্তরাষ্ট্রও হরমুজ প্রণালিতে তাদের আরোপিত অবরোধ তুলে নিতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (৬ মে) আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি মার্কিন প্রস্তাব মানতে ব্যর্থ হয় তবে আবারও বড় ধরনের বোমা হামলা শুরু হতে পারে। ওয়াশিংটনের এমন অবস্থানের বিপরীতে তেহরান কিছুটা সতর্ক পথে হাঁটছে। ইরান জানিয়েছে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আসা প্রস্তাবের নথিপত্রগুলো তারা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে, তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে চার্লস দ্য গলের এ যাত্রা মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় নতুন কোনো সংঘাতের সূচনা করবে নাকি দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/