শিরোনাম

মার্কিন যুদ্ধজাহাজে পাল্টা হামলার দাবি ইরানের

সিটিজেন ডেস্ক
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে পাল্টা হামলার দাবি ইরানের
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বিভিন্ন দেশের জাহাজগুলোকে বের করে নিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে নতুন অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে ইরানের জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চরম উত্তেজনার মুখে পড়েছে।

এদিকে ইরানের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, মিনাব শহর ও দেশটির হরমুজগান প্রদেশের সিরিক শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। এটাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে তেহরান।

তবে ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে চালানো এই হামলাকে কেবল একটি ‘লাভ ট্যাপ’ বা ‘মৃদু টোকা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কিছু দেশের সহযোগিতায় ইরানের বেশ কিছু বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানায় ইরানের খতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স। এর মধ্যে কেশম দ্বীপ অন্যতম। বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এসব তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীকে ‘আগ্রাসী, সন্ত্রাসী ও দস্যু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইরানি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। আর এই আক্রমণে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। ইসলামি বিপ্লবী বাহিনী (আইআরজিসি) এই অভিযানে বিভিন্ন ধরনের ব্যালিস্টিক ও অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল এবং উচ্চ-বিস্ফোরক ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন ব্যবহার করেছে।

তবে এই দাবি অস্বীকার করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের উস্কানিমূলক আক্রমণগুলো তারা রুখে দিয়েছে এবং আত্মরক্ষার্থে পাল্টা আঘাত করেছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন কোনো সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং তারা উত্তেজনা চায় না। তবে নিজেদের সুরক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

/জেএইচ/