শিরোনাম

ভারতীয়দের ১ বছর স্বর্ণ না কেনার আহ্বান মোদির

সিটিজেন ডেস্ক
ভারতীয়দের ১ বছর স্বর্ণ না কেনার আহ্বান মোদির
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

দেশবাসীকে অন্তত এক বছর স্বর্ণ না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট সংকট নিরসন ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা করতেই এই আহ্বান।

রবিবার (১০ মে) নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘এক বছরের জন্য, যেকোনো অনুষ্ঠানেই হোক, আমাদের স্বর্ণের গহনা কেনা উচিত নয়।’ এর পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহার কমানো ও অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মোদি বলেন, ভারত স্বর্ণ আমদানিতে প্রচুর অর্থ খরচ করে। একইসঙ্গে তিনি অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা থেকে বিরত থাকা উচিত বলেও জানান।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও এর ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়িয়ে তুলেছে। এর ফলে দেশটির মুদ্রা রুপির মান দুর্বল হয়ে পড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘সারা বিশ্বে পেট্রোল-ডিজেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। পেট্রোল-ডিজেল সংরক্ষণের মাধ্যমে তা কেনার জন্য ব্যয় হওয়া বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো আমাদের সকলের দায়িত্ব।’

অর্থনৈতিকভাবে ভারতের জন্য স্বর্ণ এবং অপরিশোধিত তেলের মধ্যে একটি মিল রয়েছে। উভয়ই মূলত আমদানি করা হয় এবং মার্কিন ডলারে এর মূল্য পরিশোধ করা হয়।

ভারত অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করে, আর বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্বর্ণ আমদানিকারক দেশও এটি।

অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে এবং স্বর্ণ আমদানি বেশি থাকায় আমদানির খরচ মেটাতে ভারতের অনেক বেশি ডলারের প্রয়োজন। এর ফলে মুদ্রা বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

স্বর্ণ কেনা রুপির ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে

অর্থনীতিবিদরা স্বর্ণকে সাধারণ ভোগ্যপণ্য হিসেবে গণ্য করেন না। পরিবহন, বিদ্যুৎ ও শিল্প কার্যকলাপের জন্য অপরিহার্য তেলের বিপরীতে স্বর্ণ আমদানিকে মূলত ঐচ্ছিক ব্যয় বা সঞ্চয়ের চাহিদা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বৈশ্বিক সংকটের সময় পরিবারগুলো যখন বিপুল পরিমাণে আমদানি করা স্বর্ণ কেনে, তখন দেশ থেকে আরও বেশি ডলার বেরিয়ে যায়।

এর ফলে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়তে পারে, যা আমদানি ও রপ্তানির মধ্যকার ব্যবধান পরিমাপ করে।

ঘাটতি বাড়লে প্রায়শই রুপির মূল্য কমে যায়, কারণ আয়ের চেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়।

এই কারণেই সরকার প্রায়ই তেলের উচ্চ মূল্য এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে স্বর্ণ আমদানির বিষয়ে সতর্ক হয়ে ওঠে।

ভারত অতীতেও অর্থনৈতিক সংকটের সময় অতিরিক্ত স্বর্ণ আমদানি নিরুৎসাহিত করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে।

তাই বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী মোদির আবেদনটি বিবাহ বা গহনা কেনাকাটা নিরুৎসাহিত করার চেয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে ভারতের বাহ্যিক আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই মূল উদ্দেশ্য।

এদিকে মোদির এই আহ্বান ভারতীয়রা কতটুকু মানবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ, স্বর্ণ দেশটির অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের প্রতিটি দিকে মিশে আছে। অনেকে সঞ্চয় হিসেবে স্বর্ণ রাখেন। তবে বিয়ে ও উৎসবে স্বর্ণ কেনাকে দেশটিতে শুভ মনে করা হয়।

তবে মোদির মন্তব্যের প্রভাব সোমবার (১১ মে) শেয়ারবাজারে তাৎক্ষণিকভাবে দেখা গেছে। ভারতের সবচেয়ে বড় জুয়েলারি কোম্পানি টাইটান কোং-এর শেয়ার মুম্বাইয়ে সাড়ে ছয় শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। সেনকো গোল্ড লিমিটেড ও কল্যাণ জুয়েলার্স ইন্ডিয়া লিমিটেডের শেয়ার যথাক্রমে প্রায় ১১ ও সাড়ে ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

/জেএইচ/