শিরোনাম

স্বাস্থ্য না স্বাদ, কোনটি জরুরি?

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
স্বাস্থ্য না স্বাদ, কোনটি জরুরি?
ছবি: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স

বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে খাবারের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। উৎসব, পারিবারিক আয়োজন কিংবা অতিথি আপ্যায়ন-সব ক্ষেত্রেই সুস্বাদু খাবারের উপস্থিতি যেন অবিচ্ছেদ্য। বছরের বিভিন্ন সময়ে নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে বাহারি খাবারের আয়োজন আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। ফলে অতিরিক্ত খাওয়াকে অনেক সময় স্বাভাবিক কিংবা আনন্দের অংশ হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু এই খাদ্যপ্রিয়তার আড়ালে যে আমাদের শারীরিক সুস্থতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সে বিষয়টি প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়।

বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোগল আমল থেকে সমৃদ্ধ, তেল-ঘি ও মসলায় ভরপুর নানা পদ এ অঞ্চলের মানুষের রুচিকে প্রভাবিত করেছে। পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ শাসনের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের বিভিন্ন খাবারও আমাদের খাদ্যতালিকায় যুক্ত হয়। তবে সেই খাবারগুলো গ্রহণের সময় আমরা সেগুলোকে নিজেদের স্বাদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অতিরিক্ত তেল, মাখন, মসলা ও নানা উপাদান যোগ করেছি। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই মূল খাবারের স্বাস্থ্যকর বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়ে গেছে। অর্থাৎ আমরা পুষ্টির চেয়ে স্বাদকেই আমরা বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। এই প্রবণতার ফলেই ধীরে ধীরে জীবনযাপন-সম্পর্কিত নানা রোগ আমাদের সমাজে বেড়ে চলেছে।

একসময় অনেকের ধারণা ছিল, শরীর যত ভারী, মানুষ তত বেশি সুস্থ। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রমাণ করেছে, অতিরিক্ত ওজন সুস্বাস্থ্যের পরিচায়ক নয়। বরং এটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তবুও সুস্বাদু খাবার তৈরির জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল, ঘি, চিনি ও মসলা ব্যবহারের প্রবণতা আজও কমেনি। এতে খাবারের স্বাদ বাড়লেও পুষ্টিমান অনেকটাই কমে যায়। ফলস্বরূপ আমরা পেট ভরে খেয়েও শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হই।

অনেকেই মনে করেন, বেশি খেলে শরীর ভালো থাকে। বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উল্টো। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ যেমন ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়, তেমনি অপুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস শরীরকে ভেতর থেকে দুর্বল করে তোলে। তাই শুধু পরিমাণ নয়, খাবারের গুণগত মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করলে অল্প পরিমাণ খাবারেও শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি পেতে পারে।

আমাদের মধ্যে আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই স্বাদহীন খাবার। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। সঠিক উপায়ে রান্না, উপযুক্ত উপকরণের ব্যবহার এবং পরিমিত মসলার মাধ্যমে এমন খাবার তৈরি করা সম্ভব, যা একই সঙ্গে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। অর্থাৎ স্বাদ ও স্বাস্থ্যের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব থাকার প্রয়োজন নেই; বরং সচেতনতা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এ দুটির সুন্দর সমন্বয় সম্ভব।

/এসবি/