শিরোনাম

অনিয়ন্ত্রিত রাগ শরীরে যে প্রভাব ফেলে

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
অনিয়ন্ত্রিত রাগ শরীরে যে প্রভাব ফেলে
প্রতীকী ছবি

রাগ মানুষের স্বাভাবিক আবেগের একটি অংশ। অন্যায়, অপমান, হতাশা কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপের মতো পরিস্থিতিতে রাগ হওয়া স্বাভাবিক। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন এই আবেগ ঘন ঘন প্রকাশ পেতে থাকে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন তা শুধু মানসিক শান্তিই নষ্ট করে না, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মানুষ সামান্য বিষয়েও দ্রুত ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন। কেউ উচ্চস্বরে প্রতিক্রিয়া জানান, আবার কেউ দীর্ঘ সময় ধরে ভেতরে ক্ষোভ পুষে রাখেন। এই দুই ধরনের আচরণই মানসিক চাপ বাড়ায় এবং ধীরে ধীরে শারীরিক সুস্থতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র রাগের মুহূর্তে শরীর ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ বা আত্মরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়ায় চলে যায়। তখন মস্তিষ্ক শরীরকে সম্ভাব্য বিপদের জন্য প্রস্তুত করতে শুরু করে। এর ফলে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে এসব হরমোন প্রয়োজনীয় হলেও নিয়মিত বা অতিরিক্ত মাত্রায় নিঃসৃত হলে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এ সময় হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়, পেশিতে টান অনুভূত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।

দীর্ঘদিন ধরে রাগ ও মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা। এতে বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, সহজেই ক্লান্তি ভর করে এবং হৃদরোগ, ঘুমের সমস্যা, হজমের জটিলতা ও মানসিক অস্থিরতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অনিয়ন্ত্রিত রাগের প্রভাব কেবল ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক সম্পর্কেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একজনের রাগ ও বিরূপ আচরণ আশপাশের মানুষের মধ্যে অস্বস্তি ও চাপের পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

তবে কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে রাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, রাগের মুহূর্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কয়েক সেকেন্ড বিরতি নেওয়া, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া, পানি পান করা কিংবা কিছু সময়ের জন্য স্থান পরিবর্তন করলে মন অনেকটাই শান্ত হয়। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মেডিটেশন, প্রার্থনা এবং সচেতন শ্বাস-প্রশ্বাসের চর্চা মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাগকে দমন নয়, বরং সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের আবেগকে বুঝে স্বাস্থ্যকর উপায়ে প্রকাশ করতে পারলে সুস্থ শরীরের পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি ও পারিবারিক সম্পর্কও ভালো রাখা সম্ভব।

/এসবি/