শিরোনাম

শীর্ষ পাঁচ শিল্পগোষ্ঠীর অনিয়ম খুঁজতে ব্যাংক ও এনবিআরে দুদকের চিঠি

শীর্ষ পাঁচ শিল্পগোষ্ঠীর অনিয়ম খুঁজতে
ব্যাংক ও এনবিআরে দুদকের চিঠি
দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যালয় ছবি: সংগৃহীত

নানা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের পাঁচ শিল্পগোষ্ঠীর মালিকদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এগুলো হলো বসুন্ধরা, যমুনা, হা-মীম, তমা এবং ম্যাক্স। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এসব শিল্পগোষ্ঠীর বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) তলব করা হয়েছে।

গত ১২ জানুয়ারি দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান টিমের প্রধান ও পরিচালক আবুল হাসনাতের সই করা পৃথক চিঠি জনতা, রূপালি, এনআরবি, প্রিমিয়ারসহ বিভিন্ন ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং জয়েন্ট স্টক কোম্পানি বা যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) পাঠানো হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে শিল্পগোষ্ঠীগুলোর অনেকগুলো অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনও তলব করা হতে পারে।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে শিল্পগোষ্ঠীগুলোর অনেকগুলো অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনও তলব করা হতে পারে।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম এ বিষয়ে সিটিজেন জার্নালকে বলেন, দায়িত্ব পাওয়া অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা দুদকের আইন ও বিধি অনুযায়ী কাজ করছেন। অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের সত্যতা জানা যাবে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক নোটিশের পরও ব্যাংকগুলোতে প্রয়োজনীয় নথি জমা না পড়লে পুনরায় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর কাছে তা তলব করা হবে।

দুদকের চিঠিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের অনুলিপি ২৫ জানুয়ারির মধ্যে দুদকে জমা দিতে বলা হয়। দুদক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকগুলো থেকে ইতিমধ্যে তথ্যবিবরণী পাঠানো হয়েছে। দুদক এ বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবর রহমান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকে এক সপ্তাহ আগে দুদকের পাঠানো চিঠি এসেছে। মতিঝিল, দিলকুশা ও লোকাল অফিস শাখা থেকে বসুন্ধরা ও যমুনা সম্পর্কে তথ্য এবং নথিপত্র পাঠানোর কাজ চলছে।

আমার ব্যাংকে এ ধরনের চিঠি এসেছে। তথ্য পাঠানোর কাজ চলমান রয়েছে।
তারেক রিয়াজ খান ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এনআরবি ব্যাংক পিএলসি

এ বিষয়ে এনআরবি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রিয়াজ খান বলেন, ‘আমার ব্যাংকে এ ধরনের চিঠি এসেছে। তথ্য পাঠানোর কাজ চলমান রয়েছে।’

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মালিকেরা তাদের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয়-ব্যয় বা লাভ-লোকসানের তথ্য গোপন ও জালিয়াতি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), জয়েন্ট স্টক কোম্পানি বা যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) এবং বিভিন্ন ব্যাংকে তিন রকমের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই প্রতিবেদনগুলোতেই আর্থিক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। ব্যাংকঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকে জমা দেওয়া বার্ষিক প্রতিবেদনে আলোচিত শিল্পগোষ্ঠীগুলোর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ লাভের কথা বলা হয়েছে। অথচ এনবিআরে জমা দেওয়া আর্থিক প্রতিবেদনে লোকসান দেখানো হয়েছে। আবার জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে জমা দেওয়া আর্থিক প্রতিবেদনে সীমিত লাভ ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে লোকসান দেখানো হয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে ওই পাঁচ শিল্পগোষ্ঠীর ৬২ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।

বসুন্ধরা গ্রুপের ২০ প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে

বসুন্ধরা গ্রুপের ২০টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে । এগুলো হলো বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, ইস্ট ওয়েস্ট প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, মেঘনা সিমেন্ট মিলস লিমিটেড, বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেড, বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, বসুন্ধরা স্টিল কমপ্লেক্স লিমিটেড, বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড, বসুন্ধরা স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, বসুন্ধরা লজিস্টিকস লিমিটেড, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন, বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার, বসুন্ধরা ড্রেজিং কোম্পানি লিমিটেড, বসুন্ধরা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, বসুন্ধরা টেলিকমিউনিকেশনস নেটওয়ার্ক লিমিটেড, বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সুন্দরবন ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড, বসুন্ধরা সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বসুন্ধরা কিংস, কেবাব তুর্কি বাবা রাফি (বাংলাদেশ) এবং মেঘনা সিমেন্ট মিলস লিমিটেড। পর্যায়ক্রমে গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য চাওয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রেস এন্ড মিডিয়া উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবু তৈয়বের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘আমি এখন আর মিডিয়া দেখছি না। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে আগ্রহী নই।’

তবে এ বিষয়ে দেলে আরেক শিল্পগোষ্ঠী যমুনার কমার্শিয়াল ডিরেক্টর শামসুল হাসান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘দুদকের চিঠির বিষয়ে আমাদের জানা নেই। তবে আমাদের যমুনা নিটিং অ্যান্ড ডায়িং প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সাল থেকেই বন্ধ আছে। এ ছাড়া জে ডব্লিউ মেরিয়টের সঙ্গে এখনো কোন কার্যক্রমই শুরু হয়নি। তিনি আরও বলেন, শেয়ার বাজারেও আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এরপরও দুদক যদি আর্থিক প্রতিবেদন চেয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই আমরা সহযোগিতা করবো।’

যমুনা গ্রুপের ১৬ প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে

যমুনা গ্রুপের ১৬ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। এগুলো হলো যমুনা ফিউচার পার্ক, যমুনা টিভি, জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলস (বাংলাদেশ), ক্রাউন বেভারেজ, যমুনা নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমেটেড, যমুনা ডেনিমস লিমিটেড, যমুনা স্পিনিং মিলস লিমিটেড, শামীম স্পিনিং মিলস লিমিটেড, শামীম কম্পোজিট মিলস লিমিটেড, শামীম রোটর স্পিনিং লিমিটেড, যমুনা সিটি, নিউ উত্তরা মডেল টাউন, পেগাসাস লেদারস লিমিটেড, যমুনা ডিস্টিলারি লিমেিটড, যমুনা ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোড লিমিটেড ও যমুনা ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড অটোমোবাইলস।

তমা গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কাছে আর্থিক প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড, তমা কনক্রিট, তমা ট্যাক্সি, তমা প্রোপার্টিজ লিমিটেডও ভ্যাটিকান প্রোপার্টিজ লিমিটেড।

তমা গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কাছে আর্থিক প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড, তমা কনক্রিট, তমা ট্যাক্সি, তমা প্রোপার্টিজ লিমিটেডও ভ্যাটিকান প্রোপার্টিজ লিমিটেড।

হা-মীম গ্রুপের ১০ প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে

হা-মীম গ্রুপের ডেনিম মিল, সোয়েটার ফ্যাক্টরি, এমব্রয়ডারি অ্যান্ড প্রিন্টিং ফ্যাক্টরি, কার্টন ফ্যাক্টরি, পলি ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রি, লেবেল ফ্যাক্টরি, পাটকল, কেমিক্যাল ফর্মুলেশন প্ল্যান্ট, চা বাগান এবং ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।

ম্যাক্স গ্রুপের ১০ প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে

ম্যাক্স গ্রুপের ১০টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন চেয়েছে দুদক। এগুলো হলো ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড, কুশিয়ারা পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি লিমিটেড, ম্যাক্স পাওয়ার লিমিটেড, ম্যাক্স ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, ম্যাক্সিনক্স লিমিটেড, ম্যাক্স এসসিআইসিওএসও লিমিটেড, ম্যাক্স বিল্ডিং টেকনোলজি লিমিটেড, ম্যাক্স প্রি-স্ট্রেস লিমিটেড, লুব হাউস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও এএফএ স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

/বিবি/