জ্বালানির দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতি তেমন বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানির দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতি তেমন বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ৩০

সংসদ অধিবেশন চলছে। ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির দাম তুলনামূলক কম হারে বাড়ানো হয়েছে, ফলে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ে এর প্রভাব সীমিত থাকবে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
রুমিন ফারহানা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি সেভাবে বাড়বে না। কেন বাড়বে না, সেটি বোঝা দরকার।
তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম যে হারে বেড়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে দাম বাড়ানো হয়েছে ‘মডেস্ট’ পর্যায়ে।
সংসদে উদাহরণ দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ শুরুর আগে অনেক জায়গায় প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম ছিল ২ ডলার ৭০ থেকে ৮০ সেন্ট, যা পরে ৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনীয় অর্থনীতির দেশগুলোতেও জ্বালানি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
দেশে ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি শিল্পকারখানার মোট উৎপাদন ব্যয়ের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ জ্বালানির পেছনে যায়। সে হিসেবে ১৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয়ে বড় প্রভাব ফেলে না।
পরিবহন খরচের উদাহরণ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে একটি বাসে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লিটার ডিজেল লাগে। এতে অতিরিক্ত ব্যয় হয় প্রায় ৪৫০ টাকা। একইভাবে পণ্য পরিবহনে এই অতিরিক্ত ব্যয় বড় পরিমাণ পণ্যের ওপর ভাগ হয়ে যাওয়ায় ইউনিটপ্রতি ব্যয় খুব বেশি বাড়ে না।
তিনি বলেন, ইউনিটভিত্তিক হিসাবে এই বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির জন্য বড় কোনো উদ্দীপক নয়। বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ‘মডারেট’ পর্যায়ে মূল্য সমন্বয় করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে রপ্তানিতে চাপ
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে, যার বাইরে বাংলাদেশও নয়।
তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও ওমানের বাজারে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্য ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি, আমদানি ব্যয়, শিপিং ও বীমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানিতে চাপ তৈরি হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে রেমিটেন্স প্রবাহেও প্রভাব পড়তে পারে। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিকল্প বাজার খোঁজার পাশাপাশি লজিস্টিক ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বিশ্বে গড়ে লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির ১০ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে তা প্রায় ১৬ শতাংশ।
সার্ক দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ ছাড়া অন্য সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে এই ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭ হাজার ৮৬০ মিলিয়ন ডলার। পাকিস্তানের সঙ্গে ৬৮১ মিলিয়ন, আফগানিস্তানের সঙ্গে ১০ দশমিক ৭১ মিলিয়ন এবং ভুটানের সঙ্গে ২৯ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতির তথ্য দেন তিনি।
অন্যদিকে নেপালের সঙ্গে ২৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ৬ দশমিক ২৫ মিলিয়ন এবং মালদ্বীপের সঙ্গে ২ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।
রপ্তানি আয়ের ওঠানামা
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর জানান, গত পাঁচ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের ওঠানামা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ৪৫ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬০ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৩ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫১ দশমিক ১১ বিলিয়ন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার।
শ্রমবাজারে চাপের আশঙ্কা
প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন। কুড়িগ্রাম-2 আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০২৫ সালে কুড়িগ্রাম থেকে ৫ হাজার ৮৬২ জন কর্মী বিদেশে গেছেন।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চল এখনও বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শ্রমবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত প্রার্থীর নাম তালিকায় ওঠার পর দুই বছরের মধ্যে চাকরি না হলে তা বাতিল হয়ে যায়, যা অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
বিদেশগামী কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের বিধান রয়েছে বলেও জানান নুরুল হক, যদিও এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ কম আসে বলে উল্লেখ করেন।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির দাম তুলনামূলক কম হারে বাড়ানো হয়েছে, ফলে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ে এর প্রভাব সীমিত থাকবে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
রুমিন ফারহানা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি সেভাবে বাড়বে না। কেন বাড়বে না, সেটি বোঝা দরকার।
তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম যে হারে বেড়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে দাম বাড়ানো হয়েছে ‘মডেস্ট’ পর্যায়ে।
সংসদে উদাহরণ দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ শুরুর আগে অনেক জায়গায় প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম ছিল ২ ডলার ৭০ থেকে ৮০ সেন্ট, যা পরে ৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনীয় অর্থনীতির দেশগুলোতেও জ্বালানি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
দেশে ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি শিল্পকারখানার মোট উৎপাদন ব্যয়ের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ জ্বালানির পেছনে যায়। সে হিসেবে ১৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয়ে বড় প্রভাব ফেলে না।
পরিবহন খরচের উদাহরণ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে একটি বাসে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লিটার ডিজেল লাগে। এতে অতিরিক্ত ব্যয় হয় প্রায় ৪৫০ টাকা। একইভাবে পণ্য পরিবহনে এই অতিরিক্ত ব্যয় বড় পরিমাণ পণ্যের ওপর ভাগ হয়ে যাওয়ায় ইউনিটপ্রতি ব্যয় খুব বেশি বাড়ে না।
তিনি বলেন, ইউনিটভিত্তিক হিসাবে এই বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির জন্য বড় কোনো উদ্দীপক নয়। বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ‘মডারেট’ পর্যায়ে মূল্য সমন্বয় করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে রপ্তানিতে চাপ
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে, যার বাইরে বাংলাদেশও নয়।
তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও ওমানের বাজারে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্য ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি, আমদানি ব্যয়, শিপিং ও বীমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানিতে চাপ তৈরি হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে রেমিটেন্স প্রবাহেও প্রভাব পড়তে পারে। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিকল্প বাজার খোঁজার পাশাপাশি লজিস্টিক ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বিশ্বে গড়ে লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির ১০ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে তা প্রায় ১৬ শতাংশ।
সার্ক দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ ছাড়া অন্য সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে এই ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭ হাজার ৮৬০ মিলিয়ন ডলার। পাকিস্তানের সঙ্গে ৬৮১ মিলিয়ন, আফগানিস্তানের সঙ্গে ১০ দশমিক ৭১ মিলিয়ন এবং ভুটানের সঙ্গে ২৯ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতির তথ্য দেন তিনি।
অন্যদিকে নেপালের সঙ্গে ২৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ৬ দশমিক ২৫ মিলিয়ন এবং মালদ্বীপের সঙ্গে ২ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।
রপ্তানি আয়ের ওঠানামা
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর জানান, গত পাঁচ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের ওঠানামা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ৪৫ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬০ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৩ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫১ দশমিক ১১ বিলিয়ন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার।
শ্রমবাজারে চাপের আশঙ্কা
প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন। কুড়িগ্রাম-2 আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০২৫ সালে কুড়িগ্রাম থেকে ৫ হাজার ৮৬২ জন কর্মী বিদেশে গেছেন।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চল এখনও বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শ্রমবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত প্রার্থীর নাম তালিকায় ওঠার পর দুই বছরের মধ্যে চাকরি না হলে তা বাতিল হয়ে যায়, যা অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
বিদেশগামী কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের বিধান রয়েছে বলেও জানান নুরুল হক, যদিও এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ কম আসে বলে উল্লেখ করেন।

জ্বালানির দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতি তেমন বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ৩০

সংসদ অধিবেশন চলছে। ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির দাম তুলনামূলক কম হারে বাড়ানো হয়েছে, ফলে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ে এর প্রভাব সীমিত থাকবে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
রুমিন ফারহানা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি সেভাবে বাড়বে না। কেন বাড়বে না, সেটি বোঝা দরকার।
তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম যে হারে বেড়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে দাম বাড়ানো হয়েছে ‘মডেস্ট’ পর্যায়ে।
সংসদে উদাহরণ দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ শুরুর আগে অনেক জায়গায় প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম ছিল ২ ডলার ৭০ থেকে ৮০ সেন্ট, যা পরে ৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনীয় অর্থনীতির দেশগুলোতেও জ্বালানি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
দেশে ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি শিল্পকারখানার মোট উৎপাদন ব্যয়ের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ জ্বালানির পেছনে যায়। সে হিসেবে ১৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয়ে বড় প্রভাব ফেলে না।
পরিবহন খরচের উদাহরণ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে একটি বাসে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লিটার ডিজেল লাগে। এতে অতিরিক্ত ব্যয় হয় প্রায় ৪৫০ টাকা। একইভাবে পণ্য পরিবহনে এই অতিরিক্ত ব্যয় বড় পরিমাণ পণ্যের ওপর ভাগ হয়ে যাওয়ায় ইউনিটপ্রতি ব্যয় খুব বেশি বাড়ে না।
তিনি বলেন, ইউনিটভিত্তিক হিসাবে এই বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির জন্য বড় কোনো উদ্দীপক নয়। বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ‘মডারেট’ পর্যায়ে মূল্য সমন্বয় করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে রপ্তানিতে চাপ
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে, যার বাইরে বাংলাদেশও নয়।
তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও ওমানের বাজারে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্য ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি, আমদানি ব্যয়, শিপিং ও বীমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানিতে চাপ তৈরি হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে রেমিটেন্স প্রবাহেও প্রভাব পড়তে পারে। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিকল্প বাজার খোঁজার পাশাপাশি লজিস্টিক ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বিশ্বে গড়ে লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির ১০ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে তা প্রায় ১৬ শতাংশ।
সার্ক দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ ছাড়া অন্য সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে এই ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭ হাজার ৮৬০ মিলিয়ন ডলার। পাকিস্তানের সঙ্গে ৬৮১ মিলিয়ন, আফগানিস্তানের সঙ্গে ১০ দশমিক ৭১ মিলিয়ন এবং ভুটানের সঙ্গে ২৯ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতির তথ্য দেন তিনি।
অন্যদিকে নেপালের সঙ্গে ২৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ৬ দশমিক ২৫ মিলিয়ন এবং মালদ্বীপের সঙ্গে ২ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।
রপ্তানি আয়ের ওঠানামা
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর জানান, গত পাঁচ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের ওঠানামা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ৪৫ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬০ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৩ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫১ দশমিক ১১ বিলিয়ন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার।
শ্রমবাজারে চাপের আশঙ্কা
প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন। কুড়িগ্রাম-2 আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০২৫ সালে কুড়িগ্রাম থেকে ৫ হাজার ৮৬২ জন কর্মী বিদেশে গেছেন।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চল এখনও বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শ্রমবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত প্রার্থীর নাম তালিকায় ওঠার পর দুই বছরের মধ্যে চাকরি না হলে তা বাতিল হয়ে যায়, যা অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
বিদেশগামী কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের বিধান রয়েছে বলেও জানান নুরুল হক, যদিও এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ কম আসে বলে উল্লেখ করেন।
/এসএ/

বাড়ছে না ভোজ্যতেলের দাম: বাণিজ্যমন্ত্রী


