শিরোনাম

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, ভিডিও ভাইরাল

শরীয়তপুর সংবাদদাতা
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, ভিডিও ভাইরাল
ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুর সদর উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত জুলাই জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের শরীয়তপুর শাখার আহ্বায়ক মহসিন মাদবর তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি লিখেন, ‘সাব্বাশ শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। শরীয়তপুরের জুলাই স্মৃতি নামক ভণ্ডামিতে আগুন দেওয়ায় অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।’

ভিডিওতে দেখা যায়, অজ্ঞাত এক ব্যক্তি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিচ্ছেন করেন। আর একজন ভিডিও করছেন। তবে ভিডিওটির সময়কাল বা ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্মৃতিস্তম্ভটির বিভিন্ন স্থানে আগুনের চিহ্ন রয়েছে এবং কয়েকটি অংশ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনে নিহত শরীয়তপুরের ১৪ জন শহীদের স্মরণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করে। শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশেই স্থাপন করা এ স্মৃতিস্তম্ভটি কংক্রিটের গাঁথুনির ওপর লোহার কাঠামো দিয়ে তৈরি, যেখানে শহীদদের নাম খোদাই করা রয়েছে।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, ‘প্রশাসনের ব্যর্থতা ও আঁতাতের কারণে বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এটি শুধু একটি অগ্নিকাণ্ড নয়, পুরো ‘জুলাই’কে অবমাননা করা হয়েছে। দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে এসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এভাবে আগুন দিয়েছে এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্টদের আগে থেকেই জানা থাকার কথা ছিল। এখানে সরকারের এবং প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল স্মৃতিস্তম্ভটি রক্ষা করা। এত গোয়েন্দা সংস্থা সক্রিয় থাকার পরও কেন এটি প্রতিরোধ করা গেল না, সেটি প্রশ্নের বিষয়। এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে, ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তাই জনগণ, রাষ্ট্র এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।’

ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) জাতীয় যুবশক্তির শরীয়তপুর জেলা আহ্বায়ক কাউসার মৃধা বলেন, ‘শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়কের একটি ফেসবুক পোস্টে আমরা দেখতে পেয়েছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। আমরা চাই শরীয়তপুরসহ সারাদেশের জনগণ সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাইয়ের ইতিহাস যেন মুছে ফেলা না হয়। যারা এই ঘটনায় জড়িত, তাদের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়বে। প্রয়োজনে আমরা আন্দোলনে নামব।’

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ‘আমরা ঘটনার খবর পেয়েছি। তবে এটি আজকের ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভিডিওটির সত্যতা যাচাইসহ ঘটনার সময় ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।’

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

/জেএইচ/