শিরোনাম

নেত্রকোনায় এমপির গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

নেত্রকোনা  সংবাদদাতা
নেত্রকোনায় এমপির গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি
এমপি মাছুম মোস্তফা এবং তার গাড়ি। কোলাজ: সিটিজেন জার্নাল

নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রদানের লক্ষ্যে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা বিএনপি। রবিবার (২৬ এপ্রিল) নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক এবং নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী এ কমিটি গঠন করেন।

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নূরুজ্জামান নূরুকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুর রহমান খান পাঠান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল কাদের সুজা, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন খান মিলকি এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনীক মাহবুব চৌধুরী। কমিটি গঠনের পরপরই তদন্তকাজ শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নূরুজ্জামান নূরু।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পূর্বধলা উপজেলার গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে এমপির ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য জ্বালানি তেল আনতে গেলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সে সময় সংসদ সদস্য স্থানীয় একটি মসজিদে নামাজরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা পরে তাকে মসজিদেও অবরুদ্ধ করে রাখে। ঘটনার পরপরই পূর্বধলা উপজেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা দাবি করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতারাই এ হামলা চালিয়েছে এবং মসজিদে গিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টাও করেছে।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ৬৩ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়। পুলিশের চালানো অভিযানে ইতোমধ্যে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক যৌথ বার্তায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একজন সংসদ সদস্যের গাড়ি ভাঙচুর কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং কোনো গণতান্ত্রিক দল এটি সমর্থন করতে পারে না। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

যেহেতু এ ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাই দলীয়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তারা। এদিকে, নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলার পরপরই গ্রেপ্তারকৃত ৯ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

/এমএকে/