এক্সপ্লেইনার
মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আশার আলো দেখাতে ব্যর্থ শি-ট্রাম্প বৈঠক
সিটিজেন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আশার আলো দেখাতে ব্যর্থ শি-ট্রাম্প বৈঠক
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ১৭: ৪৮

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর শেষ হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা অবসানের কোন ফলপ্রসূ আলোচনা হয়নি চীন-যুক্তরাষ্ট্রের। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর শুক্রবার (১৫ মে) এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে ট্রাম্প যখন বেইজিং ছাড়ছিলেন, তখন মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত নিরসনে বিশ্বের দুই পরাশক্তির মধ্যে কোনো চুক্তির সামান্যতম প্রমাণও মেলেনি। অথচ এ সফরের আগের কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য চীনের ওপর দফায় দফায় কূটনৈতিক চাপ দিয়ে আসছিল ট্রাম্প প্রশাসন।
২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে দেশটির ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে একই দিনে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ইসরায়েলের পাশাপাশি বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকেও নিশানা করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতেই এ হামলা চালানো হচ্ছে এবং এটি সম্পূর্ণ ন্যায়সম্পন্ন। যদিও তেহরান শুরু থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
এ সংঘাতের শুরু থেকেই তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসা চীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরকালেও তাদের বিরোধিতার অবস্থান আরও জোরদার করেছে। বেইজিংয়ে ট্রাম্পের অবস্থানকালীন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, এ সংঘাত ইরান ও আঞ্চলিক দেশগুলোর জনগণের ওপর মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। বেইজিং মনে করে, দ্রুততম সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো উচিত। এ লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পূর্ব প্রস্তাবিত চার-দফা শান্তি পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন, যার মূল ভিত্তি হলো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, যৌথ নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সংলাপ।
যুদ্ধের অন্যতম বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর। মার্চের শুরু থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে ইরান। বিশ্বের মোট ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করা এ জলপথটি দিয়ে যাতায়াতের জন্য বর্তমানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অনুমতি নিতে হচ্ছে। পরবর্তীতে এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ ঘোষণা করলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের তীব্রতা আরও বাড়ে। হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ রুটের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চীন আরও বেশি আমেরিকান তেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে বেইজিংয়ের বিবৃতিতে প্রণালির সামরিকীকরণ কিংবা ইরানের টোল আদায়ের চেষ্টার কোনো সরাসরি উল্লেখ ছিল না।
পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে উভয় দেশ একমত। তবে চীনের বিবৃতিতে এ ধরনের কোনো কঠোর ভাষা ব্যবহার না করে বরং সকল পক্ষের উদ্বেগকে বিবেচনায় নিয়ে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে চীন ও অন্যান্য পরাশক্তিগুলো বারাক ওবামার আমলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার চুক্তিতে ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি (৯৭০ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই দেশের এ ভিন্নমুখী বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, শীর্ষ সম্মেলন শেষেও ইরান ইস্যুতে কোনো পক্ষই তাদের মূল অবস্থান থেকে সরে আসেনি। সফর শুরুর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্তারা চীনকে এ অভিযানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেও, শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগে মার্কিন নেতাদের সুর বদলে যায়। মঙ্গলবার (১২ মে) খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের ব্যাপারে তাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই এবং যেকোনো উপায়েই হোক যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধে জিতবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ক্যাপিটাল হিলের এক শুনানিতে স্বীকার করেছেন, ইরানের ওপর চীনের প্রচুর প্রভাব থাকলেও মূল নিয়ন্ত্রণ আসলে ট্রাম্পের হাতেই রয়েছে। একই সুর শোনা গেছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কণ্ঠেও। তিনি জানান, চীনের নিজস্ব জ্বালানি স্বার্থেই পারস্য উপসাগরে ইরানের তৎপরতা বন্ধে তাদের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত, তবে এর জন্য ওয়াশিংটন বেইজিংয়ের মুখাপেক্ষী নয়। ফলশ্রুতিতে, দীর্ঘ আলোচনার পরও মধ্যপ্রাচ্যের এ যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর বৈশ্বিক প্রচেষ্টা এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়ে গেল।
সূত্র: আল জাজিরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর শেষ হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা অবসানের কোন ফলপ্রসূ আলোচনা হয়নি চীন-যুক্তরাষ্ট্রের। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর শুক্রবার (১৫ মে) এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে ট্রাম্প যখন বেইজিং ছাড়ছিলেন, তখন মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত নিরসনে বিশ্বের দুই পরাশক্তির মধ্যে কোনো চুক্তির সামান্যতম প্রমাণও মেলেনি। অথচ এ সফরের আগের কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য চীনের ওপর দফায় দফায় কূটনৈতিক চাপ দিয়ে আসছিল ট্রাম্প প্রশাসন।
২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে দেশটির ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে একই দিনে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ইসরায়েলের পাশাপাশি বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকেও নিশানা করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতেই এ হামলা চালানো হচ্ছে এবং এটি সম্পূর্ণ ন্যায়সম্পন্ন। যদিও তেহরান শুরু থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
এ সংঘাতের শুরু থেকেই তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসা চীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরকালেও তাদের বিরোধিতার অবস্থান আরও জোরদার করেছে। বেইজিংয়ে ট্রাম্পের অবস্থানকালীন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, এ সংঘাত ইরান ও আঞ্চলিক দেশগুলোর জনগণের ওপর মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। বেইজিং মনে করে, দ্রুততম সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো উচিত। এ লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পূর্ব প্রস্তাবিত চার-দফা শান্তি পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন, যার মূল ভিত্তি হলো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, যৌথ নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সংলাপ।
যুদ্ধের অন্যতম বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর। মার্চের শুরু থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে ইরান। বিশ্বের মোট ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করা এ জলপথটি দিয়ে যাতায়াতের জন্য বর্তমানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অনুমতি নিতে হচ্ছে। পরবর্তীতে এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ ঘোষণা করলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের তীব্রতা আরও বাড়ে। হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ রুটের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চীন আরও বেশি আমেরিকান তেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে বেইজিংয়ের বিবৃতিতে প্রণালির সামরিকীকরণ কিংবা ইরানের টোল আদায়ের চেষ্টার কোনো সরাসরি উল্লেখ ছিল না।
পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে উভয় দেশ একমত। তবে চীনের বিবৃতিতে এ ধরনের কোনো কঠোর ভাষা ব্যবহার না করে বরং সকল পক্ষের উদ্বেগকে বিবেচনায় নিয়ে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে চীন ও অন্যান্য পরাশক্তিগুলো বারাক ওবামার আমলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার চুক্তিতে ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি (৯৭০ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই দেশের এ ভিন্নমুখী বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, শীর্ষ সম্মেলন শেষেও ইরান ইস্যুতে কোনো পক্ষই তাদের মূল অবস্থান থেকে সরে আসেনি। সফর শুরুর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্তারা চীনকে এ অভিযানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেও, শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগে মার্কিন নেতাদের সুর বদলে যায়। মঙ্গলবার (১২ মে) খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের ব্যাপারে তাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই এবং যেকোনো উপায়েই হোক যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধে জিতবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ক্যাপিটাল হিলের এক শুনানিতে স্বীকার করেছেন, ইরানের ওপর চীনের প্রচুর প্রভাব থাকলেও মূল নিয়ন্ত্রণ আসলে ট্রাম্পের হাতেই রয়েছে। একই সুর শোনা গেছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কণ্ঠেও। তিনি জানান, চীনের নিজস্ব জ্বালানি স্বার্থেই পারস্য উপসাগরে ইরানের তৎপরতা বন্ধে তাদের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত, তবে এর জন্য ওয়াশিংটন বেইজিংয়ের মুখাপেক্ষী নয়। ফলশ্রুতিতে, দীর্ঘ আলোচনার পরও মধ্যপ্রাচ্যের এ যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর বৈশ্বিক প্রচেষ্টা এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়ে গেল।
সূত্র: আল জাজিরা

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আশার আলো দেখাতে ব্যর্থ শি-ট্রাম্প বৈঠক
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ১৭: ৪৮

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর শেষ হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা অবসানের কোন ফলপ্রসূ আলোচনা হয়নি চীন-যুক্তরাষ্ট্রের। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর শুক্রবার (১৫ মে) এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে ট্রাম্প যখন বেইজিং ছাড়ছিলেন, তখন মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত নিরসনে বিশ্বের দুই পরাশক্তির মধ্যে কোনো চুক্তির সামান্যতম প্রমাণও মেলেনি। অথচ এ সফরের আগের কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য চীনের ওপর দফায় দফায় কূটনৈতিক চাপ দিয়ে আসছিল ট্রাম্প প্রশাসন।
২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে দেশটির ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে একই দিনে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ইসরায়েলের পাশাপাশি বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকেও নিশানা করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতেই এ হামলা চালানো হচ্ছে এবং এটি সম্পূর্ণ ন্যায়সম্পন্ন। যদিও তেহরান শুরু থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
এ সংঘাতের শুরু থেকেই তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসা চীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরকালেও তাদের বিরোধিতার অবস্থান আরও জোরদার করেছে। বেইজিংয়ে ট্রাম্পের অবস্থানকালীন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, এ সংঘাত ইরান ও আঞ্চলিক দেশগুলোর জনগণের ওপর মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। বেইজিং মনে করে, দ্রুততম সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো উচিত। এ লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পূর্ব প্রস্তাবিত চার-দফা শান্তি পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন, যার মূল ভিত্তি হলো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, যৌথ নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সংলাপ।
যুদ্ধের অন্যতম বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর। মার্চের শুরু থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে ইরান। বিশ্বের মোট ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করা এ জলপথটি দিয়ে যাতায়াতের জন্য বর্তমানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অনুমতি নিতে হচ্ছে। পরবর্তীতে এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ ঘোষণা করলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের তীব্রতা আরও বাড়ে। হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ রুটের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চীন আরও বেশি আমেরিকান তেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে বেইজিংয়ের বিবৃতিতে প্রণালির সামরিকীকরণ কিংবা ইরানের টোল আদায়ের চেষ্টার কোনো সরাসরি উল্লেখ ছিল না।
পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে উভয় দেশ একমত। তবে চীনের বিবৃতিতে এ ধরনের কোনো কঠোর ভাষা ব্যবহার না করে বরং সকল পক্ষের উদ্বেগকে বিবেচনায় নিয়ে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে চীন ও অন্যান্য পরাশক্তিগুলো বারাক ওবামার আমলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার চুক্তিতে ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি (৯৭০ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই দেশের এ ভিন্নমুখী বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, শীর্ষ সম্মেলন শেষেও ইরান ইস্যুতে কোনো পক্ষই তাদের মূল অবস্থান থেকে সরে আসেনি। সফর শুরুর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্তারা চীনকে এ অভিযানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেও, শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগে মার্কিন নেতাদের সুর বদলে যায়। মঙ্গলবার (১২ মে) খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের ব্যাপারে তাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই এবং যেকোনো উপায়েই হোক যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধে জিতবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ক্যাপিটাল হিলের এক শুনানিতে স্বীকার করেছেন, ইরানের ওপর চীনের প্রচুর প্রভাব থাকলেও মূল নিয়ন্ত্রণ আসলে ট্রাম্পের হাতেই রয়েছে। একই সুর শোনা গেছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কণ্ঠেও। তিনি জানান, চীনের নিজস্ব জ্বালানি স্বার্থেই পারস্য উপসাগরে ইরানের তৎপরতা বন্ধে তাদের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত, তবে এর জন্য ওয়াশিংটন বেইজিংয়ের মুখাপেক্ষী নয়। ফলশ্রুতিতে, দীর্ঘ আলোচনার পরও মধ্যপ্রাচ্যের এ যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর বৈশ্বিক প্রচেষ্টা এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়ে গেল।
সূত্র: আল জাজিরা
/এমএকে/

বৈঠকে কী চুক্তি করলেন ট্রাম্প-শি
চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের পথে ট্রাম্প


