টেস্ট ক্রিকেটে বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশকে দেখছে সবাই

টেস্ট ক্রিকেটে বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশকে দেখছে সবাই
রুবেল আবিদ

গ্যালারির প্রান্তে বসে হতাশা নিয়ে প্রতিপক্ষ দলকে জয়োৎসব করতে অনেক দেখেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিশেষ করে ক্রিকেটের অভিজাত আঙিনা টেস্ট সংস্করণে বাংলাদেশ যখন হাঁটি হাঁটি পা বয়সে! তখন আমাদের অধিনায়কেরা একটা কথাই বারবার শোনাতেন–টেস্ট অঙ্গনে আমরা এখনো শিশু, আমরা শিখছি।
টেস্ট অঙ্গনে শৈশব পেরিয়ে বাংলাদেশ দল যখন কৈশরে পা দিয়েছে, তখনো অবস্থা ছিল তথৈবচ। সাফল্যের খেরো খাতায় প্রথম ৫০ টেস্টে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি, ড্র পাঁচটি। দেখতে দেখতে বাংলাদেশ যখন ১০০ টেস্ট খেলে ফেলল, তখন তো আর ক্রিকেটের অভিজাত আঙিনায় তাদের কিশোর আর বলা চলে না। কিন্তু ‘যুবক’ বাংলাদেশ দলও সেভাবে ‘পৌরুষ’ দেখাতে পারছিল কই! ১০০ টেস্টে জয় মাত্র ৮, ড্র ১৫টি।
সেই সময় বাংলাদেশের অধিনায়কেরা ভুলগুলো শুধরে নিয়ে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার কথা বলতেন। তাদের কথা শুনে অনেকেরই হয়তো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার একটি লাইন মনে পড়ে গিয়ে থাকবে–দেখিস, একদিন আমরাও…। সুনীলের কবিতার সেই বাবা পরে অন্ধ হয়ে গেছেন, ছেলেরও কিছুই দেখা বা পাওয়া হয়নি।
তবে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের গল্পটা দেরিতে হলেও উন্নতির এক বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে। সত্যিই বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা কিছু দেখতে পাচ্ছে, বাংলাদেশ দল যে টেস্ট ক্রিকেটে পাচ্ছে সাফল্য। সিলেটে গতকাল (২০ মে) পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ হওয়া ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৫৮তম টেস্ট, জয়টি ২৭তম। যার মানে সর্বশেষ ৫৮ টেস্টে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ১৯টি। আর ড্র করেছে ৪টি টেস্ট।
এর চেয়েও বড় ব্যাপার, বাংলাদেশ এখন বড় দলগুলোকে হারাতে শিখে গেছে, ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে। সর্বশেষ ৫৮ টেস্টে যে ১৯টি জয়, এর মধ্যে আছে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা ৪ ম্যাচ জয়। পাকিস্তানে এবং দেশের মাটিতে টানা দুটি সিরিজে তাদের ধবলধোলাই করেছে বাংলাদেশ। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশ কোনো দলকেই দুবার ধবলধোলাই করতে পারেনি।
শুধু পাকিস্তান কেন, এই সময়ে বাংলাদেশ ঘরে ও বাইরে টেস্ট জিতেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও। একটা দলের উন্নতি শুধু জয়ের সূচকে মাপলে ভুলই হওয়ার কথা। বাংলাদেশ দল যে খুব ভালোভাবে উন্নতির বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে, সেটা মাপার আরও কিছু সূচক আছে। এই যেমন পেস বোলিংয়ে বাংলাদেশ দল এখন দারুণ এক শক্তি। বিশেষ করে নাহিদ রানার গতি, তাসকিন আহমেদের রুদ্ররূপ আর শরীফুল ইসলামের গোছানো বোলিং তো বাংলাদেশ দলে অন্যরকম এক ছন্দ এনে দিয়েছে।
আগে ব্যাটসম্যানরা চাপে ভেঙে পড়তেন। সেই প্রবণতাও কমতে শুরু করেছে। ভঙ্গুর ইনিংসকে নতুন করে সাজাতে পারছে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। যেটার সর্বশেষ উদাহরণ পাকিস্তানের বিপক্ষে জেতা সিলেট টেস্ট। প্রথম ইনিংসে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলার পরও অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশ তুলেছে ২৭৮ রান। লিটন দাস করেছেন অসাধারণ একটা সেঞ্চুরি।
লিটনের সেঞ্চুরির পথ ধরেই বলতে হয়, দিনে দিনে বাংলাদেশ দলে পারফরমারের সংখ্যাও বাড়ছে। সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে যেমন লিটন সেঞ্চুরি করেছেন, দ্বিতীয় ইনিংসে তেমনি মুশফিকুর রহিম। আবার প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। মুমিনুল হক ৯১ ও মুশফিক ৭১ রানের ইনিংস খেলেছেন।
বোলিংয়েও একা কাউকে দায়িত্ব নিতে হচ্ছে না। কোনো ইনিংসে নাহিদ রানা প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিচ্ছেন তো অন্য ইনিংসে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ফিল্ডিংয়ে আত্মবিশ্বাসের ভাবটা স্পষ্ট ফুটে উঠতে দেখা যাচ্ছে।
ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডংয়ের কথা তো বলা হলো; এর সঙ্গে আরেকটা বিষয় না বললেই নয়–একটা সময় বাংলাদেশ দলের বদনাম ছিল, ঘরের মাঠে কালো মাটির স্পিনিং উইকেট বানিয়ে ঘায়েল করে তারা। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি দেখিয়ে দিয়েছে, নিখাদ স্পোর্টিং উইকেটেও বাংলাদেশ দল এখন ভালো ক্রিকেট খেলতে পারে!
সব মিলিয়ে টেস্টে বাংলাদেশ এখন বদলে যাওয়া এক দল। যারা ঘরে বা বাইরে যেকোনো দলকেই চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চোখ রাখলেও এটা স্পষ্ট হয়। এই প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার পাঁচ নম্বরে উঠেছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেনের দলের নিচে টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি ভারতও।
তাই তো সিলেট টেস্ট জয়ের পর নাজমুলের কণ্ঠেও বদলে যাওয়ার সুর, ‘যেমনটা আমি বলেছি, আমরা কিছু পরিবর্তন এনেছি এবং দল গঠনের চেষ্টা করেছি। আপনি যদি বিশ্ব ক্রিকেটের দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন কিছু গড়ে তুলতে হলে পরিবর্তন আনতেই হয়। আমি আশা করি আমরা যেভাবে খেলছি, সেভাবেই খেলে যেতে পারব।’
নাজমুলের আশা যেন সত্যি হয়। উন্নতির বাঁক ধরে টেস্টে বাংলাদেশ দলের যে পথচলা শুরু হয়েছে, তা যেন বহাল থাকে; বাংলাদেশের প্রতিটি ক্রিকেটপ্রেমীরই প্রত্যাশা এটা।

গ্যালারির প্রান্তে বসে হতাশা নিয়ে প্রতিপক্ষ দলকে জয়োৎসব করতে অনেক দেখেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিশেষ করে ক্রিকেটের অভিজাত আঙিনা টেস্ট সংস্করণে বাংলাদেশ যখন হাঁটি হাঁটি পা বয়সে! তখন আমাদের অধিনায়কেরা একটা কথাই বারবার শোনাতেন–টেস্ট অঙ্গনে আমরা এখনো শিশু, আমরা শিখছি।
টেস্ট অঙ্গনে শৈশব পেরিয়ে বাংলাদেশ দল যখন কৈশরে পা দিয়েছে, তখনো অবস্থা ছিল তথৈবচ। সাফল্যের খেরো খাতায় প্রথম ৫০ টেস্টে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি, ড্র পাঁচটি। দেখতে দেখতে বাংলাদেশ যখন ১০০ টেস্ট খেলে ফেলল, তখন তো আর ক্রিকেটের অভিজাত আঙিনায় তাদের কিশোর আর বলা চলে না। কিন্তু ‘যুবক’ বাংলাদেশ দলও সেভাবে ‘পৌরুষ’ দেখাতে পারছিল কই! ১০০ টেস্টে জয় মাত্র ৮, ড্র ১৫টি।
সেই সময় বাংলাদেশের অধিনায়কেরা ভুলগুলো শুধরে নিয়ে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার কথা বলতেন। তাদের কথা শুনে অনেকেরই হয়তো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার একটি লাইন মনে পড়ে গিয়ে থাকবে–দেখিস, একদিন আমরাও…। সুনীলের কবিতার সেই বাবা পরে অন্ধ হয়ে গেছেন, ছেলেরও কিছুই দেখা বা পাওয়া হয়নি।
তবে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের গল্পটা দেরিতে হলেও উন্নতির এক বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে। সত্যিই বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা কিছু দেখতে পাচ্ছে, বাংলাদেশ দল যে টেস্ট ক্রিকেটে পাচ্ছে সাফল্য। সিলেটে গতকাল (২০ মে) পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ হওয়া ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৫৮তম টেস্ট, জয়টি ২৭তম। যার মানে সর্বশেষ ৫৮ টেস্টে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ১৯টি। আর ড্র করেছে ৪টি টেস্ট।
এর চেয়েও বড় ব্যাপার, বাংলাদেশ এখন বড় দলগুলোকে হারাতে শিখে গেছে, ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে। সর্বশেষ ৫৮ টেস্টে যে ১৯টি জয়, এর মধ্যে আছে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা ৪ ম্যাচ জয়। পাকিস্তানে এবং দেশের মাটিতে টানা দুটি সিরিজে তাদের ধবলধোলাই করেছে বাংলাদেশ। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশ কোনো দলকেই দুবার ধবলধোলাই করতে পারেনি।
শুধু পাকিস্তান কেন, এই সময়ে বাংলাদেশ ঘরে ও বাইরে টেস্ট জিতেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও। একটা দলের উন্নতি শুধু জয়ের সূচকে মাপলে ভুলই হওয়ার কথা। বাংলাদেশ দল যে খুব ভালোভাবে উন্নতির বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে, সেটা মাপার আরও কিছু সূচক আছে। এই যেমন পেস বোলিংয়ে বাংলাদেশ দল এখন দারুণ এক শক্তি। বিশেষ করে নাহিদ রানার গতি, তাসকিন আহমেদের রুদ্ররূপ আর শরীফুল ইসলামের গোছানো বোলিং তো বাংলাদেশ দলে অন্যরকম এক ছন্দ এনে দিয়েছে।
আগে ব্যাটসম্যানরা চাপে ভেঙে পড়তেন। সেই প্রবণতাও কমতে শুরু করেছে। ভঙ্গুর ইনিংসকে নতুন করে সাজাতে পারছে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। যেটার সর্বশেষ উদাহরণ পাকিস্তানের বিপক্ষে জেতা সিলেট টেস্ট। প্রথম ইনিংসে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলার পরও অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশ তুলেছে ২৭৮ রান। লিটন দাস করেছেন অসাধারণ একটা সেঞ্চুরি।
লিটনের সেঞ্চুরির পথ ধরেই বলতে হয়, দিনে দিনে বাংলাদেশ দলে পারফরমারের সংখ্যাও বাড়ছে। সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে যেমন লিটন সেঞ্চুরি করেছেন, দ্বিতীয় ইনিংসে তেমনি মুশফিকুর রহিম। আবার প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। মুমিনুল হক ৯১ ও মুশফিক ৭১ রানের ইনিংস খেলেছেন।
বোলিংয়েও একা কাউকে দায়িত্ব নিতে হচ্ছে না। কোনো ইনিংসে নাহিদ রানা প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিচ্ছেন তো অন্য ইনিংসে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ফিল্ডিংয়ে আত্মবিশ্বাসের ভাবটা স্পষ্ট ফুটে উঠতে দেখা যাচ্ছে।
ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডংয়ের কথা তো বলা হলো; এর সঙ্গে আরেকটা বিষয় না বললেই নয়–একটা সময় বাংলাদেশ দলের বদনাম ছিল, ঘরের মাঠে কালো মাটির স্পিনিং উইকেট বানিয়ে ঘায়েল করে তারা। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি দেখিয়ে দিয়েছে, নিখাদ স্পোর্টিং উইকেটেও বাংলাদেশ দল এখন ভালো ক্রিকেট খেলতে পারে!
সব মিলিয়ে টেস্টে বাংলাদেশ এখন বদলে যাওয়া এক দল। যারা ঘরে বা বাইরে যেকোনো দলকেই চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চোখ রাখলেও এটা স্পষ্ট হয়। এই প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার পাঁচ নম্বরে উঠেছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেনের দলের নিচে টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি ভারতও।
তাই তো সিলেট টেস্ট জয়ের পর নাজমুলের কণ্ঠেও বদলে যাওয়ার সুর, ‘যেমনটা আমি বলেছি, আমরা কিছু পরিবর্তন এনেছি এবং দল গঠনের চেষ্টা করেছি। আপনি যদি বিশ্ব ক্রিকেটের দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন কিছু গড়ে তুলতে হলে পরিবর্তন আনতেই হয়। আমি আশা করি আমরা যেভাবে খেলছি, সেভাবেই খেলে যেতে পারব।’
নাজমুলের আশা যেন সত্যি হয়। উন্নতির বাঁক ধরে টেস্টে বাংলাদেশ দলের যে পথচলা শুরু হয়েছে, তা যেন বহাল থাকে; বাংলাদেশের প্রতিটি ক্রিকেটপ্রেমীরই প্রত্যাশা এটা।

টেস্ট ক্রিকেটে বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশকে দেখছে সবাই
রুবেল আবিদ

গ্যালারির প্রান্তে বসে হতাশা নিয়ে প্রতিপক্ষ দলকে জয়োৎসব করতে অনেক দেখেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিশেষ করে ক্রিকেটের অভিজাত আঙিনা টেস্ট সংস্করণে বাংলাদেশ যখন হাঁটি হাঁটি পা বয়সে! তখন আমাদের অধিনায়কেরা একটা কথাই বারবার শোনাতেন–টেস্ট অঙ্গনে আমরা এখনো শিশু, আমরা শিখছি।
টেস্ট অঙ্গনে শৈশব পেরিয়ে বাংলাদেশ দল যখন কৈশরে পা দিয়েছে, তখনো অবস্থা ছিল তথৈবচ। সাফল্যের খেরো খাতায় প্রথম ৫০ টেস্টে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি, ড্র পাঁচটি। দেখতে দেখতে বাংলাদেশ যখন ১০০ টেস্ট খেলে ফেলল, তখন তো আর ক্রিকেটের অভিজাত আঙিনায় তাদের কিশোর আর বলা চলে না। কিন্তু ‘যুবক’ বাংলাদেশ দলও সেভাবে ‘পৌরুষ’ দেখাতে পারছিল কই! ১০০ টেস্টে জয় মাত্র ৮, ড্র ১৫টি।
সেই সময় বাংলাদেশের অধিনায়কেরা ভুলগুলো শুধরে নিয়ে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার কথা বলতেন। তাদের কথা শুনে অনেকেরই হয়তো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার একটি লাইন মনে পড়ে গিয়ে থাকবে–দেখিস, একদিন আমরাও…। সুনীলের কবিতার সেই বাবা পরে অন্ধ হয়ে গেছেন, ছেলেরও কিছুই দেখা বা পাওয়া হয়নি।
তবে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের গল্পটা দেরিতে হলেও উন্নতির এক বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে। সত্যিই বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা কিছু দেখতে পাচ্ছে, বাংলাদেশ দল যে টেস্ট ক্রিকেটে পাচ্ছে সাফল্য। সিলেটে গতকাল (২০ মে) পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ হওয়া ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৫৮তম টেস্ট, জয়টি ২৭তম। যার মানে সর্বশেষ ৫৮ টেস্টে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ১৯টি। আর ড্র করেছে ৪টি টেস্ট।
এর চেয়েও বড় ব্যাপার, বাংলাদেশ এখন বড় দলগুলোকে হারাতে শিখে গেছে, ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে। সর্বশেষ ৫৮ টেস্টে যে ১৯টি জয়, এর মধ্যে আছে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা ৪ ম্যাচ জয়। পাকিস্তানে এবং দেশের মাটিতে টানা দুটি সিরিজে তাদের ধবলধোলাই করেছে বাংলাদেশ। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশ কোনো দলকেই দুবার ধবলধোলাই করতে পারেনি।
শুধু পাকিস্তান কেন, এই সময়ে বাংলাদেশ ঘরে ও বাইরে টেস্ট জিতেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও। একটা দলের উন্নতি শুধু জয়ের সূচকে মাপলে ভুলই হওয়ার কথা। বাংলাদেশ দল যে খুব ভালোভাবে উন্নতির বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে, সেটা মাপার আরও কিছু সূচক আছে। এই যেমন পেস বোলিংয়ে বাংলাদেশ দল এখন দারুণ এক শক্তি। বিশেষ করে নাহিদ রানার গতি, তাসকিন আহমেদের রুদ্ররূপ আর শরীফুল ইসলামের গোছানো বোলিং তো বাংলাদেশ দলে অন্যরকম এক ছন্দ এনে দিয়েছে।
আগে ব্যাটসম্যানরা চাপে ভেঙে পড়তেন। সেই প্রবণতাও কমতে শুরু করেছে। ভঙ্গুর ইনিংসকে নতুন করে সাজাতে পারছে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। যেটার সর্বশেষ উদাহরণ পাকিস্তানের বিপক্ষে জেতা সিলেট টেস্ট। প্রথম ইনিংসে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলার পরও অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশ তুলেছে ২৭৮ রান। লিটন দাস করেছেন অসাধারণ একটা সেঞ্চুরি।
লিটনের সেঞ্চুরির পথ ধরেই বলতে হয়, দিনে দিনে বাংলাদেশ দলে পারফরমারের সংখ্যাও বাড়ছে। সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে যেমন লিটন সেঞ্চুরি করেছেন, দ্বিতীয় ইনিংসে তেমনি মুশফিকুর রহিম। আবার প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। মুমিনুল হক ৯১ ও মুশফিক ৭১ রানের ইনিংস খেলেছেন।
বোলিংয়েও একা কাউকে দায়িত্ব নিতে হচ্ছে না। কোনো ইনিংসে নাহিদ রানা প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিচ্ছেন তো অন্য ইনিংসে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ফিল্ডিংয়ে আত্মবিশ্বাসের ভাবটা স্পষ্ট ফুটে উঠতে দেখা যাচ্ছে।
ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডংয়ের কথা তো বলা হলো; এর সঙ্গে আরেকটা বিষয় না বললেই নয়–একটা সময় বাংলাদেশ দলের বদনাম ছিল, ঘরের মাঠে কালো মাটির স্পিনিং উইকেট বানিয়ে ঘায়েল করে তারা। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি দেখিয়ে দিয়েছে, নিখাদ স্পোর্টিং উইকেটেও বাংলাদেশ দল এখন ভালো ক্রিকেট খেলতে পারে!
সব মিলিয়ে টেস্টে বাংলাদেশ এখন বদলে যাওয়া এক দল। যারা ঘরে বা বাইরে যেকোনো দলকেই চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চোখ রাখলেও এটা স্পষ্ট হয়। এই প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার পাঁচ নম্বরে উঠেছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেনের দলের নিচে টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি ভারতও।
তাই তো সিলেট টেস্ট জয়ের পর নাজমুলের কণ্ঠেও বদলে যাওয়ার সুর, ‘যেমনটা আমি বলেছি, আমরা কিছু পরিবর্তন এনেছি এবং দল গঠনের চেষ্টা করেছি। আপনি যদি বিশ্ব ক্রিকেটের দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন কিছু গড়ে তুলতে হলে পরিবর্তন আনতেই হয়। আমি আশা করি আমরা যেভাবে খেলছি, সেভাবেই খেলে যেতে পারব।’
নাজমুলের আশা যেন সত্যি হয়। উন্নতির বাঁক ধরে টেস্টে বাংলাদেশ দলের যে পথচলা শুরু হয়েছে, তা যেন বহাল থাকে; বাংলাদেশের প্রতিটি ক্রিকেটপ্রেমীরই প্রত্যাশা এটা।

প্রথমবার টেস্ট র্যাংকিংয়ে সাত নম্বরে বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ড ভারতের সঙ্গে বেশি টেস্ট খেলতে চাই: শান্ত


