ইসলামাবাদ স্মারক ভেস্তে যাওয়ায় বদলে গেছে সমীকরণ

ইসলামাবাদ স্মারক ভেস্তে যাওয়ায় বদলে গেছে সমীকরণ
সিটিজেন ডেস্ক

ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত আবার নতুন করে শুরু হয়েছে। যুদ্ধবিরতির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই ম্লান। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে। এর মধ্যেই টানা নবম রাতের মতো ইরানের সামরিক স্থাপনা ও সামুদ্রিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে ইরানও মার্কিন ঘাঁটি ও আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে।
এই সংঘাতের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্ব জ্বালানি বাজার, উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান সব ক্ষেত্রেই নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
ভেঙে গেল সমঝোতার আশা
১৭ জুন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল। ওই সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেই সমঝোতা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ওই সমঝোতাকে আর কার্যকর মনে করছেন না। ইরানও জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আর ওই সমঝোতা অনুসরণ করবে না।
এরপর থেকেই দুই দেশের সামরিক তৎপরতা আবার বেড়ে যায়।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা
বর্তমান সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধের পর তেহরান এই জলপথ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সামনে এনেছে। ইরান সতর্ক করেছে, প্রয়োজন হলে এই পথে তেল ও গ্যাস পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সমঝোতা স্মারকের পর যখন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছিল। কিন্তু সংঘাত আবার শুরু হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ফের বাড়তে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে শুধু জ্বালানি বাজার নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে উপসাগরীয় দেশগুলো
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলোর অর্থনীতি মূলত জ্বালানি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল।
তবে বর্তমান সংকট শুধু তেল রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ নয়। পর্যটন, বিমান চলাচল, নির্মাণ খাত, রিয়েল এস্টেট এবং বিদেশি বিনিয়োগও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
জার্মানির মারবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ রেজা ফারজানেগানের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি বহুমুখীকরণের পরিকল্পনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করে এমন খাতগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বীমা ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধে চাপে ইরানের অর্থনীতি
ইসলামাবাদ সমঝোতার পর ইরানের জন্য কিছুটা স্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। দেশটির বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ শিথিল হয়েছিল এবং তেল রপ্তানি ও ব্যাংকিং খাতে কিছুটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
তেহরান তখন দ্রুত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর চেষ্টা শুরু করে।
কিন্তু সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের তেল পরিবহন ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানি তেলবাহী একটি জাহাজ আটকের ঘটনাও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ফারজানেগানের মতে, নতুন করে আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ আগের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এবার ইরানের তেল রপ্তানির বিকল্প পথ সীমিত হয়ে গেছে।
এর ফলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমতে পারে, রিয়ালের মান আরও দুর্বল হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
ইতোমধ্যে ইরানের মুদ্রা রিয়াল বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তেহরান স্টক এক্সচেঞ্জেও বড় পতন দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রেও বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, অর্থনীতি বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। আর এই পরিস্থিতি ২০২৬ সালের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সামরিক সংঘাতে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। পরে ইরাকে একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার সময় আরও একজন সেনা নিহত হন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, নিহত সেনাদের সম্মান জানাতেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বেসামরিক স্থাপনা নিয়েও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা মূলত ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও নজরদারি কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
তবে ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন হামলায় সেতু, সুড়ঙ্গ, বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগারের মতো বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন হামলায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।
যুদ্ধের নতুন কেন্দ্র: হরমুজের নিয়ন্ত্রণ
বর্তমান সংঘাতের বড় অংশ এখন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের সামরিক অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এই জলপথে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ইরানের সক্ষমতা কমানো।
অন্যদিকে তেহরানের কাছে হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার। এই জলপথ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা ইরানকে আন্তর্জাতিক দর-কষাকষিতে বাড়তি সুবিধা দেয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
অর্থনীতিবিদ ফারজানেগানের মতে, ইরান জানে যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে চাপ তৈরি করলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে। এর মাধ্যমে তারা আলোচনায় ফেরার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করতে পারে।
নতুন চুক্তির সম্ভাবনা কতটা
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদ সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—কূটনৈতিক সমাধানের ওপর আস্থা কমে গেছে।
তবে অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন কিছু বিশ্লেষক।
তাদের মতে, যখন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খরচ উভয় পক্ষের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠবে, তখন কূটনৈতিক সমাধানের পথ আবারও সামনে আসতে পারে।
তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সামনে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে, আর সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত আবার নতুন করে শুরু হয়েছে। যুদ্ধবিরতির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই ম্লান। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে। এর মধ্যেই টানা নবম রাতের মতো ইরানের সামরিক স্থাপনা ও সামুদ্রিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে ইরানও মার্কিন ঘাঁটি ও আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে।
এই সংঘাতের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্ব জ্বালানি বাজার, উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান সব ক্ষেত্রেই নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
ভেঙে গেল সমঝোতার আশা
১৭ জুন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল। ওই সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেই সমঝোতা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ওই সমঝোতাকে আর কার্যকর মনে করছেন না। ইরানও জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আর ওই সমঝোতা অনুসরণ করবে না।
এরপর থেকেই দুই দেশের সামরিক তৎপরতা আবার বেড়ে যায়।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা
বর্তমান সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধের পর তেহরান এই জলপথ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সামনে এনেছে। ইরান সতর্ক করেছে, প্রয়োজন হলে এই পথে তেল ও গ্যাস পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সমঝোতা স্মারকের পর যখন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছিল। কিন্তু সংঘাত আবার শুরু হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ফের বাড়তে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে শুধু জ্বালানি বাজার নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে উপসাগরীয় দেশগুলো
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলোর অর্থনীতি মূলত জ্বালানি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল।
তবে বর্তমান সংকট শুধু তেল রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ নয়। পর্যটন, বিমান চলাচল, নির্মাণ খাত, রিয়েল এস্টেট এবং বিদেশি বিনিয়োগও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
জার্মানির মারবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ রেজা ফারজানেগানের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি বহুমুখীকরণের পরিকল্পনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করে এমন খাতগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বীমা ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধে চাপে ইরানের অর্থনীতি
ইসলামাবাদ সমঝোতার পর ইরানের জন্য কিছুটা স্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। দেশটির বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ শিথিল হয়েছিল এবং তেল রপ্তানি ও ব্যাংকিং খাতে কিছুটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
তেহরান তখন দ্রুত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর চেষ্টা শুরু করে।
কিন্তু সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের তেল পরিবহন ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানি তেলবাহী একটি জাহাজ আটকের ঘটনাও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ফারজানেগানের মতে, নতুন করে আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ আগের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এবার ইরানের তেল রপ্তানির বিকল্প পথ সীমিত হয়ে গেছে।
এর ফলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমতে পারে, রিয়ালের মান আরও দুর্বল হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
ইতোমধ্যে ইরানের মুদ্রা রিয়াল বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তেহরান স্টক এক্সচেঞ্জেও বড় পতন দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রেও বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, অর্থনীতি বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। আর এই পরিস্থিতি ২০২৬ সালের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সামরিক সংঘাতে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। পরে ইরাকে একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার সময় আরও একজন সেনা নিহত হন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, নিহত সেনাদের সম্মান জানাতেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বেসামরিক স্থাপনা নিয়েও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা মূলত ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও নজরদারি কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
তবে ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন হামলায় সেতু, সুড়ঙ্গ, বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগারের মতো বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন হামলায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।
যুদ্ধের নতুন কেন্দ্র: হরমুজের নিয়ন্ত্রণ
বর্তমান সংঘাতের বড় অংশ এখন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের সামরিক অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এই জলপথে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ইরানের সক্ষমতা কমানো।
অন্যদিকে তেহরানের কাছে হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার। এই জলপথ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা ইরানকে আন্তর্জাতিক দর-কষাকষিতে বাড়তি সুবিধা দেয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
অর্থনীতিবিদ ফারজানেগানের মতে, ইরান জানে যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে চাপ তৈরি করলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে। এর মাধ্যমে তারা আলোচনায় ফেরার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করতে পারে।
নতুন চুক্তির সম্ভাবনা কতটা
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদ সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—কূটনৈতিক সমাধানের ওপর আস্থা কমে গেছে।
তবে অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন কিছু বিশ্লেষক।
তাদের মতে, যখন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খরচ উভয় পক্ষের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠবে, তখন কূটনৈতিক সমাধানের পথ আবারও সামনে আসতে পারে।
তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সামনে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে, আর সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

ইসলামাবাদ স্মারক ভেস্তে যাওয়ায় বদলে গেছে সমীকরণ
সিটিজেন ডেস্ক

ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত আবার নতুন করে শুরু হয়েছে। যুদ্ধবিরতির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই ম্লান। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে। এর মধ্যেই টানা নবম রাতের মতো ইরানের সামরিক স্থাপনা ও সামুদ্রিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে ইরানও মার্কিন ঘাঁটি ও আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে।
এই সংঘাতের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্ব জ্বালানি বাজার, উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান সব ক্ষেত্রেই নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
ভেঙে গেল সমঝোতার আশা
১৭ জুন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল। ওই সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেই সমঝোতা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ওই সমঝোতাকে আর কার্যকর মনে করছেন না। ইরানও জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আর ওই সমঝোতা অনুসরণ করবে না।
এরপর থেকেই দুই দেশের সামরিক তৎপরতা আবার বেড়ে যায়।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা
বর্তমান সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধের পর তেহরান এই জলপথ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সামনে এনেছে। ইরান সতর্ক করেছে, প্রয়োজন হলে এই পথে তেল ও গ্যাস পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সমঝোতা স্মারকের পর যখন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছিল। কিন্তু সংঘাত আবার শুরু হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ফের বাড়তে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে শুধু জ্বালানি বাজার নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে উপসাগরীয় দেশগুলো
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলোর অর্থনীতি মূলত জ্বালানি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল।
তবে বর্তমান সংকট শুধু তেল রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ নয়। পর্যটন, বিমান চলাচল, নির্মাণ খাত, রিয়েল এস্টেট এবং বিদেশি বিনিয়োগও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
জার্মানির মারবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ রেজা ফারজানেগানের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি বহুমুখীকরণের পরিকল্পনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করে এমন খাতগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বীমা ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধে চাপে ইরানের অর্থনীতি
ইসলামাবাদ সমঝোতার পর ইরানের জন্য কিছুটা স্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। দেশটির বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ শিথিল হয়েছিল এবং তেল রপ্তানি ও ব্যাংকিং খাতে কিছুটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
তেহরান তখন দ্রুত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর চেষ্টা শুরু করে।
কিন্তু সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের তেল পরিবহন ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানি তেলবাহী একটি জাহাজ আটকের ঘটনাও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ফারজানেগানের মতে, নতুন করে আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ আগের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এবার ইরানের তেল রপ্তানির বিকল্প পথ সীমিত হয়ে গেছে।
এর ফলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমতে পারে, রিয়ালের মান আরও দুর্বল হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
ইতোমধ্যে ইরানের মুদ্রা রিয়াল বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তেহরান স্টক এক্সচেঞ্জেও বড় পতন দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রেও বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, অর্থনীতি বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। আর এই পরিস্থিতি ২০২৬ সালের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সামরিক সংঘাতে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। পরে ইরাকে একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার সময় আরও একজন সেনা নিহত হন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, নিহত সেনাদের সম্মান জানাতেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বেসামরিক স্থাপনা নিয়েও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা মূলত ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও নজরদারি কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
তবে ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন হামলায় সেতু, সুড়ঙ্গ, বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগারের মতো বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন হামলায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।
যুদ্ধের নতুন কেন্দ্র: হরমুজের নিয়ন্ত্রণ
বর্তমান সংঘাতের বড় অংশ এখন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের সামরিক অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এই জলপথে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ইরানের সক্ষমতা কমানো।
অন্যদিকে তেহরানের কাছে হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার। এই জলপথ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা ইরানকে আন্তর্জাতিক দর-কষাকষিতে বাড়তি সুবিধা দেয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
অর্থনীতিবিদ ফারজানেগানের মতে, ইরান জানে যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে চাপ তৈরি করলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে। এর মাধ্যমে তারা আলোচনায় ফেরার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করতে পারে।
নতুন চুক্তির সম্ভাবনা কতটা
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদ সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—কূটনৈতিক সমাধানের ওপর আস্থা কমে গেছে।
তবে অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন কিছু বিশ্লেষক।
তাদের মতে, যখন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খরচ উভয় পক্ষের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠবে, তখন কূটনৈতিক সমাধানের পথ আবারও সামনে আসতে পারে।
তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সামনে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে, আর সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।









