টানা ৬৫ দিন তালাবদ্ধ জাবির প্রক্টর অফিস, বাড়ছে ভোগান্তি

টানা ৬৫ দিন তালাবদ্ধ জাবির প্রক্টর অফিস, বাড়ছে ভোগান্তি
জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার বিচার দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ১৭ মে প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। ঘটনার প্রায় ৬৫ দিন পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তর এখনও খুলে দেওয়া হয়নি। ফলে একদিকে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে প্রক্টরিয়াল বডির স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার তদন্তভার ইতোমধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিচারের দাবিতে প্রক্টর অফিস দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই। পাশাপাশি প্রক্টর অফিস খুলে দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট থেকেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গত ১২ মে রাত প্রায় ১১টার দিকে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল ও আলবেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশ সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে এক বহিরাগত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
তবে আন্দোলনের বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। দাবি-দাওয়া নির্ধারণ, কর্মসূচির ধরন, সাংবাদিকদের হেনস্তা, প্রক্টরকে অশালীন ভাষায় সম্বোধন এবং উপাচার্যকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেওয়াসহ নানা ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ প্রক্টর অফিসের আগের তালা ভেঙে নিজেদের তালা লাগিয়ে দেয়। সেই তালাই এখনও বহাল রয়েছে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি প্রশাসনিক সভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও দপ্তরগুলোর দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানাকে কমিটির সভাপতি এবং উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান আরিফকে সদস্যসচিব করা হয়।
গত ১৪ জুন উপাচার্য জানিয়েছিলেন, ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভার পর প্রক্টর অফিস খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু ওই সভা সম্পন্ন হলেও এখন পর্যন্ত অফিসটি খুলে দেওয়া হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে প্রক্টর অফিস বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা তদারকি, শিক্ষার্থীসেবা এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয়, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ কিংবা আ ফ ম কামালউদ্দীন হলের অফিসে বসে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে প্রক্টর অফিসসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইতিহাস বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শামীম হোসেন বলেন, প্রক্টর অফিস তালাবদ্ধ থাকার কারণে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রয়োজনের সময় অফিসে গিয়ে বন্ধ পেয়েছি। এই অবস্থায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দায়ভার কে নেবে? শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যেখানে প্রক্টর অফিস সার্বক্ষণিক সচল থাকার কথা, সেখানে প্রায় দুই মাস ধরে এটি বন্ধ রয়েছে।
প্রক্টর অফিসে তালা দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজন সজিব আহমেদ জেনিচ বলেন, ঈদের পরে আমরা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করেছি। প্রক্টরিয়াল বডি পুনর্গঠনসহ আমরা বেশ কিছু দাবি দাওয়া দিয়েছি। প্রশাসন আমাদের থেকে এক সপ্তাহের সময় নিয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমরা এই প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। প্রক্টর পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা তালা খুলবো না।
অফিস তালাবদ্ধ থাকায় প্রক্টরিয়াল কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনকে বলেছি এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করুন। এখনো পর্যন্ত আসামিকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে প্রক্টরও পদত্যাগ করছে না, যা বেশ সন্দেহজনক।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশে প্রক্টর অফিস খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছে, তারা তদন্তের ফলাফলে সন্তুষ্ট নয় এবং বিচার সঠিকভাবে হয়নি। আমরা শিক্ষার্থীদের বক্তব্য পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারি না। একই সঙ্গে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তও অমান্য করা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে, দ্রুতই প্রক্টর অফিস খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার বিচার দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ১৭ মে প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। ঘটনার প্রায় ৬৫ দিন পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তর এখনও খুলে দেওয়া হয়নি। ফলে একদিকে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে প্রক্টরিয়াল বডির স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার তদন্তভার ইতোমধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিচারের দাবিতে প্রক্টর অফিস দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই। পাশাপাশি প্রক্টর অফিস খুলে দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট থেকেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গত ১২ মে রাত প্রায় ১১টার দিকে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল ও আলবেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশ সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে এক বহিরাগত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
তবে আন্দোলনের বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। দাবি-দাওয়া নির্ধারণ, কর্মসূচির ধরন, সাংবাদিকদের হেনস্তা, প্রক্টরকে অশালীন ভাষায় সম্বোধন এবং উপাচার্যকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেওয়াসহ নানা ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ প্রক্টর অফিসের আগের তালা ভেঙে নিজেদের তালা লাগিয়ে দেয়। সেই তালাই এখনও বহাল রয়েছে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি প্রশাসনিক সভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও দপ্তরগুলোর দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানাকে কমিটির সভাপতি এবং উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান আরিফকে সদস্যসচিব করা হয়।
গত ১৪ জুন উপাচার্য জানিয়েছিলেন, ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভার পর প্রক্টর অফিস খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু ওই সভা সম্পন্ন হলেও এখন পর্যন্ত অফিসটি খুলে দেওয়া হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে প্রক্টর অফিস বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা তদারকি, শিক্ষার্থীসেবা এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয়, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ কিংবা আ ফ ম কামালউদ্দীন হলের অফিসে বসে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে প্রক্টর অফিসসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইতিহাস বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শামীম হোসেন বলেন, প্রক্টর অফিস তালাবদ্ধ থাকার কারণে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রয়োজনের সময় অফিসে গিয়ে বন্ধ পেয়েছি। এই অবস্থায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দায়ভার কে নেবে? শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যেখানে প্রক্টর অফিস সার্বক্ষণিক সচল থাকার কথা, সেখানে প্রায় দুই মাস ধরে এটি বন্ধ রয়েছে।
প্রক্টর অফিসে তালা দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজন সজিব আহমেদ জেনিচ বলেন, ঈদের পরে আমরা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করেছি। প্রক্টরিয়াল বডি পুনর্গঠনসহ আমরা বেশ কিছু দাবি দাওয়া দিয়েছি। প্রশাসন আমাদের থেকে এক সপ্তাহের সময় নিয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমরা এই প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। প্রক্টর পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা তালা খুলবো না।
অফিস তালাবদ্ধ থাকায় প্রক্টরিয়াল কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনকে বলেছি এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করুন। এখনো পর্যন্ত আসামিকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে প্রক্টরও পদত্যাগ করছে না, যা বেশ সন্দেহজনক।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশে প্রক্টর অফিস খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছে, তারা তদন্তের ফলাফলে সন্তুষ্ট নয় এবং বিচার সঠিকভাবে হয়নি। আমরা শিক্ষার্থীদের বক্তব্য পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারি না। একই সঙ্গে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তও অমান্য করা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে, দ্রুতই প্রক্টর অফিস খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

টানা ৬৫ দিন তালাবদ্ধ জাবির প্রক্টর অফিস, বাড়ছে ভোগান্তি
জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার বিচার দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ১৭ মে প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। ঘটনার প্রায় ৬৫ দিন পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তর এখনও খুলে দেওয়া হয়নি। ফলে একদিকে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে প্রক্টরিয়াল বডির স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার তদন্তভার ইতোমধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিচারের দাবিতে প্রক্টর অফিস দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই। পাশাপাশি প্রক্টর অফিস খুলে দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট থেকেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গত ১২ মে রাত প্রায় ১১টার দিকে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল ও আলবেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশ সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে এক বহিরাগত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
তবে আন্দোলনের বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। দাবি-দাওয়া নির্ধারণ, কর্মসূচির ধরন, সাংবাদিকদের হেনস্তা, প্রক্টরকে অশালীন ভাষায় সম্বোধন এবং উপাচার্যকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেওয়াসহ নানা ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ প্রক্টর অফিসের আগের তালা ভেঙে নিজেদের তালা লাগিয়ে দেয়। সেই তালাই এখনও বহাল রয়েছে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি প্রশাসনিক সভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও দপ্তরগুলোর দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানাকে কমিটির সভাপতি এবং উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান আরিফকে সদস্যসচিব করা হয়।
গত ১৪ জুন উপাচার্য জানিয়েছিলেন, ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভার পর প্রক্টর অফিস খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু ওই সভা সম্পন্ন হলেও এখন পর্যন্ত অফিসটি খুলে দেওয়া হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে প্রক্টর অফিস বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা তদারকি, শিক্ষার্থীসেবা এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয়, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ কিংবা আ ফ ম কামালউদ্দীন হলের অফিসে বসে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে প্রক্টর অফিসসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইতিহাস বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শামীম হোসেন বলেন, প্রক্টর অফিস তালাবদ্ধ থাকার কারণে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রয়োজনের সময় অফিসে গিয়ে বন্ধ পেয়েছি। এই অবস্থায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দায়ভার কে নেবে? শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যেখানে প্রক্টর অফিস সার্বক্ষণিক সচল থাকার কথা, সেখানে প্রায় দুই মাস ধরে এটি বন্ধ রয়েছে।
প্রক্টর অফিসে তালা দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজন সজিব আহমেদ জেনিচ বলেন, ঈদের পরে আমরা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করেছি। প্রক্টরিয়াল বডি পুনর্গঠনসহ আমরা বেশ কিছু দাবি দাওয়া দিয়েছি। প্রশাসন আমাদের থেকে এক সপ্তাহের সময় নিয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমরা এই প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। প্রক্টর পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা তালা খুলবো না।
অফিস তালাবদ্ধ থাকায় প্রক্টরিয়াল কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনকে বলেছি এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করুন। এখনো পর্যন্ত আসামিকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে প্রক্টরও পদত্যাগ করছে না, যা বেশ সন্দেহজনক।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশে প্রক্টর অফিস খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছে, তারা তদন্তের ফলাফলে সন্তুষ্ট নয় এবং বিচার সঠিকভাবে হয়নি। আমরা শিক্ষার্থীদের বক্তব্য পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারি না। একই সঙ্গে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তও অমান্য করা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে, দ্রুতই প্রক্টর অফিস খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।








