শিরোনাম

গ্যাস সংকটে দিনে ১৪ ঘণ্টা চুলা জ্বলে না: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্যাস সংকটে দিনে ১৪ ঘণ্টা চুলা জ্বলে না: নাহিদ ইসলাম
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

বিএনপি সরকার ১৮০ দিনের যে পরিকল্পনা দিয়েছিল, তার অধিকাংশ পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশজুড়ে চরম গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ঢাকার মতো শহরে দৈনিক ১২-১৪ ঘণ্টা চুলা জ্বলে না।

সোমবার (২৪ আগস্ট) ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের মূল্যায়ন’ নিয়ে এনসিপি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভায় সরকারের ১৮০ দিনের একটি পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছিল। যেখানে তারা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইন শৃঙ্খলার ‍উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ– এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। তবে বিগত ছয় মানে বিএনপি সরকার এই তিনটি বিষয়েই নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

তিনি বলেন, এই ছয় মাসে প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। এতে জীবনযাত্রায় ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় রয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তুলনায় আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিও ভয়াবহ খারাপ হয়েছে। আর বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহের যে পরিস্থিতি– তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকার আসার পরপরই জ্বালানি পাম্পগুলোতে ভয়াবহ পেট্রোল-ডিজেল সংকট তৈরি হয়েছিল। তখন জ্বালানিমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘দেশে জ্বালানি সংকট নেই। এগুলো কৃত্রিম সংকট।’ পরে কমিটি গঠন করা হলে বিরোধী দলের প্রস্তাবনা নিয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়। এতে পণ্য পরিবহন, সেচ, কৃষিসহ সব খাতেই এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, এই সংকটের পিছনে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের হাত ছিল। সেই সিন্ডিকেট সরকার এখন ভাঙতে পারেনি। বর্তামনে দেশের মোট গ্যাস চাহিদার ৪৩ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। দিনে ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস চাহিদা থাকলেও, সরবহরাহ রয়েছে মাত্র ২১৫ কোটি ঘনফুট। ঢাকার মতো শহরে দিনে ১২-১৪ ঘণ্টা চুলা জ্বলছে না। বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে বিকল্প ব্যবস্থাও করা যাচ্ছে না।

শিল্পখাতে গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ শূন্যে নেমে এসেছে। তবে ঘাটতি পূরণে সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং সংকটকে পুঁজি করে সরকার স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে গ্যাস ক্রয়ের আয়োজন করছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানা, নারায়ণগঞ্জে ৪৫০টি ডায়িং কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। বিজিএমইএ-এর সদস্য পোশাক কারখানাগুলোতে সক্ষমতার চেয়ে ৩০-৩৫ শতাংশ উৎপাদন কমেছে। আর সব খাত মিলিয়ে শিল্পখাতে গড় উৎপাদন ২৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

/এফআর/