শিরোনাম

রংপুরে ৪ হত্যা: আদালতে দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

রংপুর সংবাদদাতা
রংপুর সংবাদদাতা
রংপুরে ৪ হত্যা: আদালতে দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় দুই আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে, গতকাল রবিবার বিকাল পাঁচটার দিকে মামলার দুই আসামিকে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

আসামিরা হলেন– মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তারা দুজনই রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় বাসিন্দা। তাদের মধ্যে মুগ্ধ দাস নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন। আর সিদ্ধার্থ দাস প্রায় আট বছর ধরে একটি জুয়েলার্সে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করেন।

হত্যার শিকার একই পরিবারের চার সদস্য
হত্যার শিকার একই পরিবারের চার সদস্য

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিলন চ্যাটার্জি বলেন, চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। দায় স্বীকার করায় তাদের রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

জবানবন্দিতে তারা কী বলেছেন?– এমন প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিনা, সে বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

এর আগে, গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন দোতলা বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ দাবি করেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে ছাদে যান গণপতি। তাদের বাধা দিলে তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। গণপতির চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতেই তাকে হত্যা করা হয়। এরপর মেয়েকে এবং সর্বশেষ ১২ বছরের শিশু প্রিয়মকে হত্যা করা হয়।

এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলা হওয়ার দিনই পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করে পুলিশ।

/এফআর/