শিরোনাম

গ্রিন রোড হাসপাতাল হাবে পরিণত হলো যেভাবে

গ্রিন রোড হাসপাতাল হাবে পরিণত হলো যেভাবে
গ্রিন রোডের দুই পাশে বহুতল ভবনগুলোতে চলছে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের কার্যক্রম। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

আশির দশকেও অনেক শান্ত ও সবুজে ঘেরা ছিল রাজধানীর গ্রিন রোড। অধিকাংশ বাড়ি ছিল একতলা বা দুইতলা। বাড়ির সামনে ছিল গাছপালা ও খালি জায়গা। কিন্তু নব্বই দশকের দিকে এসে বদলে যেতে থাকে গ্রিন রোডের চেহারা। ছোট ছোট ভবনের বদলে গড়ে তোলা শুরু হয় বহুতল ও উঁচু ভবন।

এসব ভবনে চিকিৎসকদের চেম্বার, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাসপাতাল ও ক্লিনিক চালু করা হয়। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবস্থান এবং দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকদের সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকায় এলাকাটি হাসপাতাল হাবে পরিণত হয়েছে। এতে রোগীরা উপকৃত হলেও গ্রিন রোডের যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি পোহান সাধারণ মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রিন রোড এলাকাটি ঢাকা শহরের প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার খুব কাছে। যেমন ধানমন্ডি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, সায়েন্স ল্যাব ও কলাবাগানের পাশেই এই এলাকা। এই রোডের সঙ্গে মিরপুর রোড, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ এবং প্রগতি সরণির মতো প্রধান সড়কগুলো যুক্ত হয়েছে। ফলে ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে রোগীরা খুব সহজে যাতায়াত করতে পারেন। সায়েদাবাদ, গাবতলী বা মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার বাইরের রোগীরাও সরাসরি এই এলাকায় সহজে পৌঁছাতে পারেন।

যেভাবে শুরু

স্থানীয় লোকজন, হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশির দশকের শেষে গ্রিন রোডে প্রথমে সেন্ট্রাল হাসপাতাল চালু হয়। এর কয়েক বছর পর কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় গ্রিন লাইফ হাসপাতাল। এরপর ২০০৬ সালে একে একে ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও ২০০৮ সালে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ শতাধিক হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়।

গ্রিন রোডের পাশের ভুতের গলি এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ধানমন্ডির গ্রিন রোড পুরোটাই আবাসিক এলাকা ছিল। নব্বই দশকের শুরুতে এখানে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, গ্রিন রোডে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় রোগীদের উপকার হয়েছে। তবে রোগীদের সমাগম বেশি হওয়াসহ নানা কারণে এলাকায় সার্বক্ষণিক তীব্র যানজট লেগে থাকে। আর সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি হয়েছে স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনায়। আবাসিক হিসেবে এখানে স্যুয়ারেজ লাইন গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু এখন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় লোড নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই এখানে পানি জমে যায়। এতে স্থানীয়দের ভোগান্তি অনেক বেড়ে যায়।

গ্রিন রোডের দুই পাশে অসংখ্য হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকায় অনেক রোগী ও তাদের স্বজনেরা আসে। এতে এই সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
গ্রিন রোডের দুই পাশে অসংখ্য হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকায় অনেক রোগী ও তাদের স্বজনেরা আসে। এতে এই সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রিন রোডে গ্রিন লাইফ হাসপাতাল, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ, ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ল্যাবএইড হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল, আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, আনোয়ার খান মডার্ন কার্ডিয়াক সেন্টার, কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হসপিটাল, সেন্ট্রাল হসপিটাল লিমিটেড, এসআইবিএল ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাব সায়েন্স ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নিউ লাইফ হাসপাতাল লিমিটেড, ভাসকুলার স্পেশালিস্ট সেন্টার (ভিএসসি), ক্রিসেন্ট গ্যাস্ট্রোলিভার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল, রিলায়েন্স জেনারেল অ্যান্ড রেনাল হাসপাতাল, হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতাল, হার্টবিট ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ফার্টিলিটি ক্লিনিক, স্পেশালাইজড ইএনটি অ্যান্ড ভার্টিগো সেন্টার, কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হসপিটাল, ধানমন্ডি ক্লিনিক প্রাইভেট লিমিটেড, সুর্যের হাসি ক্লিনিক গড়ে তোলা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে গ্রিন রোড এলাকা এভাবে হাসপাতালে হাবে পরিণত হওয়ার বেশকিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কারণ এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখানেই বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনেক বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অধ্যাপক এখানে রোগী দেখেন। এসব কারণে ২০০০ সালে গ্রিন রোডে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান তৈরির প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

সম্প্রতি গলার সমস্যা নিয়ে গ্রিন রোডের গ্রিন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন কেরানীগঞ্জের বোরহান উদ্দিন। এখানে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে অল্প খরচে চিকিৎসা পাওয়া যায়। এক হাসপাতালে ডাক্তার না থাকলে আরেক হাসপাতালে যাওয়া যায়। এ কারণে এখানে তিনি ও তার পরিবারের লোকজন নিয়মিত আসেন।

কয়েকদিন আগে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার রোগী মরিয়ম বেগম চোখের সমস্যা নিয়ে গ্রিন লাইফ হাসপাতালে আসেন। কিন্তু সেখানে চিকিৎসক না পেয়ে তিনি পাশের আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে যান। গ্রিন রোডে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে ডাক্তার দেখানো সহজ। পরীক্ষা-নিরীক্ষা আশপাশে থেকে সহজে করানো যায়। এখানে খরচও অনেক কম। এজন্য তারা গ্রিন রোডে আসেন।

আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন

ধানমন্ডি সংলগ্ন গ্রিন রোড মূলত আবাসিক এলাকা। কিন্তু ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে এটিকে বাণিজ্যিক এলাকায় রূপান্তরিত করা হয়। যেমন ধানমন্ডির ৪, ৫ ও ৭ নম্বর সড়ক আবাসিক এলাকা। অথচ এখন এখানে বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে ওঠেছে। প্রথমে ৭ নম্বর সড়কে মিরপুর রোডের পাশে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। এখন সেটি সম্প্রসারণ করে ৭ নম্বর সড়কে ভেতরে আবাসিক এলাকায় আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, আনোয়ার খান কার্ডিয়াক সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে।

গ্রিন রোডের দুই পাশে  হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
গ্রিন রোডের দুই পাশে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

মিরপুর রোডের পাশেই ধানমন্ডির ৪, ৫ এবং ৭ নম্বর সড়কে আবাসিক প্লট ও ভবন রয়েছে। তবে বাণিজ্যিক কারণে এই সড়কগুলোতে এখন বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠছে। মিরপুর রোড থেকে ল্যাবএইড হাসপাতালের পাশ দিয়ে ৪ নম্বর সড়ক ঢুকে গেছে। এর মূল রাস্তার প্রবেশ পথ বাণিজ্যিক হলেও ভেতরের দিকে অসংখ্য আবাসিক প্লট ও বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। মিরপুর রোড ঘেঁষে থাকা প্লটগুলো রাজউকের অনুমোদনক্রমে এখন বাণিজ্যিক বা মিশ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গ্রিন রোডের দি আইচ ইএনটি কেয়ারের মালিক নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন শহরে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে আইটি, স্বাস্থ্যসহ নানা খাতের হাব গড়ে তোলা হয়। কোনো বিশেষায়িত খাতের হাব গড়ে ওঠলে সেখানে সহজেই সেবা মিলে। গ্রিন রোডও এমন একটি হাসপাতাল হাবে পরিণত হয়েছে।

গ্রিন রোডটি মূলত আবাসিক এলাকা ছিল। ১৯৮৫ সালের দিকে কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু করা হয়। আর পূর্ণাঙ্গ করপোরেট হাসপাতাল হিসেবে প্রথম গড়ে ওঠে সেন্ট্রাল হাসপাতাল। ১৯৯৪ সালে সেন্টাল হাসপাতালটি ধানমন্ডির ৭ নম্বর সড়কে নিবেদিতা নার্সিং হোম নামে চালু হয়। সেখানে রোগীর অত্যাধিক চাপ এবং স্বজনদের অনুরোধে সেন্ট্রাল হাসপাতালটি তৈরি হয়। ১৯৯৯ সালে এটি প্রথম চালু হয়। আস্তের পুরো গ্রিন রোডই হাসপাতালে রূপান্তর হয়। ডা. সুজিত রায় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, সেন্ট্রাল হাসপাতাল

সেন্ট্রাল হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুজিত রায় বলেন, ‘গ্রিন রোডটি মূলত আবাসিক এলাকা ছিল। ১৯৮৫ সালের দিকে কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু করা হয়। আর পূর্ণাঙ্গ করপোরেট হাসপাতাল হিসেবে প্রথম গড়ে ওঠে সেন্ট্রাল হাসপাতাল। ১৯৯৪ সালে সেন্টাল হাসপাতালটি ধানমন্ডির ৭ নম্বর সড়কে নিবেদিতা নার্সিং হোম নামে চালু হয়। সেখানে রোগীর অত্যাধিক চাপ এবং স্বজনদের অনুরোধে সেন্ট্রাল হাসপাতালটি তৈরি হয়। ১৯৯৯ সালে এটি প্রথম চালু হয়। আস্তের পুরো গ্রিন রোডই হাসপাতালে রূপান্তর হয়।’

জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এম এইচ চৌধুরী (লেলিন) সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ঢাকা শহর মূলত একটি অপরিকল্পিত নগরী। এই শহরের কোন এলাকা ঠিক কতসংখ্যক মানুষের বসবাসের উপযোগী সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই। এ কারণে গ্রিন রোডের যত্রতত্র হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তোলায় এখানের লাখ লাখ বাসিন্দার সমস্যা হচ্ছে।

গ্রিন রোডে হাসপাতালগুলো কতটা বৈধ

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) অনুযায়ী গ্রিন রোড একটি একটি মিশ্র বা আবাসিক এলাকা ছিল। তবে একটি সময় এই এলাকাকে রাজউক আংশিক বাণিজ্যিক ও মিশ্র এলাকাভুক্ত করেছে। এখানে যেসব হাসপাতাল পার্কিংয়ের জায়গা নিশ্চিত করে হাসপাতালের কার্যক্রম চালাচ্ছে তারা বৈধ।

কিন্তু প্রধান সড়কের পেছনে বা আবাসিক ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে কোনো প্রকার পার্কিং বা অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া যেসব ছোট ছোট ক্লিনিক ও ল্যাব গড়ে উঠেছে, সেগুলো অবৈধ।

গ্রিন রোডের প্রস্থ অনেক কম। এর পাশে এত বিপুলসংখ্যক হাসপাতাল ও ল্যাব গড়ে ওঠায় দিনের অধিকাংশ সময় তীব্র যানজট হয। একটি আদর্শ ‘হেলথ জোন’ বা হাসপাতাল এলাকার রাস্তা কমপক্ষে ৬০ থেকে ১০০ ফুট চওড়া হওয়া উচিত, যা গ্রিন রোডে নেই। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সগুলো প্রায়ই যানজটে আটকে থাকে।

বাংলাদেশে সরকারি বা অন্য কোনো হাসপাতাল থেকে কত দূরে অপর একটি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন করা যাবে-সে বিষয়ে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বা সরকারি নীতিমালা নেই। তবে দূরত্ব সংক্রান্ত কোনো নিয়ম না থাকলেও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণায়ের বেশ কিছু কড়া শর্ত, লাইসেন্সিং বিধিমালা ও নির্দেশিকা রয়েছে।

২০২২ সালের বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন অনুযায়ী, একটি মেডিকেল বা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন করতে হলে অন্য কোনো মেডিকেল কলেজ থেকে সরকার নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে এই আইনে সুনির্দিষ্ঠভাবে কতটুকু দূরত্ব হবে তা বলা হয়নি। এই কারণেই সরকারি মেডিকেল বা জেলা হাসপাতালগুলোর একদম সীমানা ঘেঁষেই শত শত বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক গড়ে উঠতে দেখা যায়।

তবে এই আইন অনুযায়ী, হাসপাতালের ক্ষেত্রে প্রতি রোগীর জন্য কমপক্ষে ৮০ বর্গফুট ফ্লোর স্পেস থাকতে হবে। ব্যবসা শুরু করার আগে সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, সুপরিসর পার্কিং ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন এবং পরমাণু শক্তি কমিশনের ছাড়পত্র (এক্স-রে বা ইমেজিং মেশিনের জন্য) নেওয়া বাধ্যতামূলক।

ডিটেইলড এরিয়া প্লানে পরিকল্পনা করা হয়েছিল নগরীর কোথায় কি তৈরি হবে। কিন্তু রাজধানীর গ্রিন রোডে সেভাবে গড়ে ওঠেনি। সেখানে বৃষ্টি হলে প্রচুর পানি জমে যায় এবং এলাকাটি নিচু। সরকারের উচিত হবে বিষয়টি দেখভাল করা। যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান অপরিকল্পিতভাবে গড়ে না ওঠে। ইকবাল হাবিব নগর পরিকল্পনাবিদ

এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, ‘ডিটেইলড এরিয়া প্লানে পরিকল্পনা করা হয়েছিল নগরীর কোথায় কি তৈরি হবে। কিন্তু রাজধানীর গ্রিন রোডে সেভাবে গড়ে ওঠেনি। সেখানে বৃষ্টি হলে প্রচুর পানি জমে যায় এবং এলাকাটি নিচু। সরকারের উচিত হবে বিষয়টি দেখভাল করা। যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান অপরিকল্পিতভাবে গড়ে না ওঠে।’

গ্রিন রোডে অবাধে হাসপাতাল ও ক্লিনিক স্থাপনের কঠোর সমালোচনা করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, আবাসিক এলাকায় কীভাবে একের পর এক রাজউক বাণিজ্যিক বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান করার অনুমোদন দিল সেটি বুঝে আসছে না। ট্রাফিক ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট ছাড়া এই ধরনের অনুমোদন দেওয়া কোনোমতেই ঠিক না। এক্ষেত্রে রাজউক পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। যে কেউ চাইলে সেখানে একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান করতে পারছে। এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। সরকারকে এ ব্যাপারে এখনই উদ্যোগ দিতে হবে।

/বিবি/