যুগোপযোগী ভিসা নীতি প্রণয়ন করছে সরকার

যুগোপযোগী ভিসা নীতি প্রণয়ন করছে সরকার
আয়নাল হোসেন
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ২০: ১২

ছবি: সংগৃহীত
আধুনিক ও যুগোপযোগী ভিসা নীতি প্রণয়ন করছে সরকার। ৩৪টি ক্যাটাগরিতে ভিসা দেওয়ার জন্য একটি খসড়া তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য খসড়া নীতিমালা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (৬ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা এক চিঠিতে মতামত চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বর্হিগমন) জিয়াউদ্দিন আহমেদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ব্যবসার নামে ভিসা নিয়ে অনেক বিদেশি বাংলাদেশে চাকরি করে দেশ থেকে টাকা নিয়ে যেতেন। ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে থেকে যাওয়া ও তাবলীগের নামে ভিসা নিয়ে বছরের পর বছর বাংলাদেশে অবস্থান করতেন বিদেশিরা। এগুলো এখন আর করা যাবে না। নির্ধারিত সময়ের বেশি বাংলাদেশে অবস্থান করলে তাদেরকে সে অনুযায়ী জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিশ বছর আগে করা ভিসা নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে। এরপর এটি চূড়ান্ত নীতিতে পরিণত হবে।
প্রস্তাবিত ‘ভিসা নীতিমালা-২০২৬’এর মূল পরিবর্তনগুলো
নতুন নীতিমালায় ভিসার শ্রেণিবিন্যাস আরও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এতে মোট ৩৪টি ক্যাটাগরিতে ভিসা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ক্যাটাগরি হলো: এ ক্যাটাগরি ভিসার ক্ষেত্রে সরকারি সফর ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের জন্য এ১, এ২ ও এফএ২ ভিসা। ই ক্যাটাগরি ভিসার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি কর্মীদের জন্য ই-১, ই-২ ও ই-৩ এবং তাদের পরিবার (এফই) ক্যাটাগরি। বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য পিআই ক্যাটাগরি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক ও তাদের পরিবারের জন্য এফবিএন ক্যাটাগরি।
বিনিয়োগ আকর্ষণে ছাড়ের প্রস্তাব
খসড়া নীতিতে বলা হয়, বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে নীতিমালায় বড় ধরনের ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। যদি কোনো বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে অন্তত ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেন, তাহলে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশ সাপেক্ষে তার জন্য ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ (এনভিআর) সুবিধা দেওয়া যাবে।
এছাড়া ব্যবসা সংক্রান্ত ভিসার মেয়াদ ১ বছর থেকে বাড়িয়ে ২ বছর পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অবৈধভাবে বসবাসকারীদের জন্য জরিমানার হার পরিবর্তন
নতুন ভিসা নীতিতে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের জন্য জরিমানার হারে পরিবর্তনে আনা হয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কেও যদি বাংলাদেশে অবস্থান করে তাহলে তাকে জরিমানা গুণতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথম ১৫ দিনের জন্য প্রতিদিন এক হাজার টাকা করে এবং ১৬–৯০ দিনের জন্য প্রতিদিন দুই হাজার টাকা করে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে । তবে ৯০ দিনের বেশি যদি কেও অবস্থান করে তাহলে দৈনিক তিন হাজার টাকা করে জরিমানা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকছে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জরিমানা মওকুফের বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে নতুন ভিসা নীতিতে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর সাধারণত ভিসার ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা নিষিদ্ধ থাকলেও, ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ (ভিওএ) নিয়ে প্রবেশ করলে তা বিশেষ কিছু ক্যাটাগরিতে (যেমন ই-১, এফ-১, ই-৩, পি-১ এবং জে) পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এজন্য ২০০ মার্কিন ডলার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের জন্য নো ভিসা রিকুয়ার্ড (এনভিআর) সুবিধা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের নাগরিকরাও এই সুবিধা পাবেন। এজন্য ৮০ মার্কিন ডলার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পাসপোর্টের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।
বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ ৩ মাস
বিদেশি সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ বা তথ্যচিত্র নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি ভিসা এবং প্রয়োজনে ওয়ার্ক পারমিট গ্রহণের শর্ত দেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়, কোচ বা সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩০ দিন থেকে শুরু করে চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী ২ বছর পর্যন্ত ভিসার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিশেষ শাখা থেকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার নিয়ম রাখা হয়েছে।
এছাড়া ভিসার আবেদনের সময় পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে । কোনো প্রতিষ্ঠান তথ্য গোপন করে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিলে প্রতি ব্যক্তির জন্য ১-২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ‘ভিসা নীতিমালা-২০২৬’ বাস্তবায়িত হলে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য বাংলাদেশে আসার প্রক্রিয়া সহজ হবে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাবে। এই খসড়া নীতিমালার ওপর আগামী ১৪ মে এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতামত দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আধুনিক ও যুগোপযোগী ভিসা নীতি প্রণয়ন করছে সরকার। ৩৪টি ক্যাটাগরিতে ভিসা দেওয়ার জন্য একটি খসড়া তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য খসড়া নীতিমালা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (৬ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা এক চিঠিতে মতামত চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বর্হিগমন) জিয়াউদ্দিন আহমেদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ব্যবসার নামে ভিসা নিয়ে অনেক বিদেশি বাংলাদেশে চাকরি করে দেশ থেকে টাকা নিয়ে যেতেন। ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে থেকে যাওয়া ও তাবলীগের নামে ভিসা নিয়ে বছরের পর বছর বাংলাদেশে অবস্থান করতেন বিদেশিরা। এগুলো এখন আর করা যাবে না। নির্ধারিত সময়ের বেশি বাংলাদেশে অবস্থান করলে তাদেরকে সে অনুযায়ী জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিশ বছর আগে করা ভিসা নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে। এরপর এটি চূড়ান্ত নীতিতে পরিণত হবে।
প্রস্তাবিত ‘ভিসা নীতিমালা-২০২৬’এর মূল পরিবর্তনগুলো
নতুন নীতিমালায় ভিসার শ্রেণিবিন্যাস আরও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এতে মোট ৩৪টি ক্যাটাগরিতে ভিসা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ক্যাটাগরি হলো: এ ক্যাটাগরি ভিসার ক্ষেত্রে সরকারি সফর ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের জন্য এ১, এ২ ও এফএ২ ভিসা। ই ক্যাটাগরি ভিসার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি কর্মীদের জন্য ই-১, ই-২ ও ই-৩ এবং তাদের পরিবার (এফই) ক্যাটাগরি। বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য পিআই ক্যাটাগরি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক ও তাদের পরিবারের জন্য এফবিএন ক্যাটাগরি।
বিনিয়োগ আকর্ষণে ছাড়ের প্রস্তাব
খসড়া নীতিতে বলা হয়, বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে নীতিমালায় বড় ধরনের ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। যদি কোনো বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে অন্তত ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেন, তাহলে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশ সাপেক্ষে তার জন্য ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ (এনভিআর) সুবিধা দেওয়া যাবে।
এছাড়া ব্যবসা সংক্রান্ত ভিসার মেয়াদ ১ বছর থেকে বাড়িয়ে ২ বছর পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অবৈধভাবে বসবাসকারীদের জন্য জরিমানার হার পরিবর্তন
নতুন ভিসা নীতিতে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের জন্য জরিমানার হারে পরিবর্তনে আনা হয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কেও যদি বাংলাদেশে অবস্থান করে তাহলে তাকে জরিমানা গুণতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথম ১৫ দিনের জন্য প্রতিদিন এক হাজার টাকা করে এবং ১৬–৯০ দিনের জন্য প্রতিদিন দুই হাজার টাকা করে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে । তবে ৯০ দিনের বেশি যদি কেও অবস্থান করে তাহলে দৈনিক তিন হাজার টাকা করে জরিমানা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকছে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জরিমানা মওকুফের বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে নতুন ভিসা নীতিতে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর সাধারণত ভিসার ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা নিষিদ্ধ থাকলেও, ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ (ভিওএ) নিয়ে প্রবেশ করলে তা বিশেষ কিছু ক্যাটাগরিতে (যেমন ই-১, এফ-১, ই-৩, পি-১ এবং জে) পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এজন্য ২০০ মার্কিন ডলার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের জন্য নো ভিসা রিকুয়ার্ড (এনভিআর) সুবিধা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের নাগরিকরাও এই সুবিধা পাবেন। এজন্য ৮০ মার্কিন ডলার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পাসপোর্টের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।
বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ ৩ মাস
বিদেশি সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ বা তথ্যচিত্র নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি ভিসা এবং প্রয়োজনে ওয়ার্ক পারমিট গ্রহণের শর্ত দেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়, কোচ বা সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩০ দিন থেকে শুরু করে চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী ২ বছর পর্যন্ত ভিসার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিশেষ শাখা থেকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার নিয়ম রাখা হয়েছে।
এছাড়া ভিসার আবেদনের সময় পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে । কোনো প্রতিষ্ঠান তথ্য গোপন করে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিলে প্রতি ব্যক্তির জন্য ১-২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ‘ভিসা নীতিমালা-২০২৬’ বাস্তবায়িত হলে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য বাংলাদেশে আসার প্রক্রিয়া সহজ হবে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাবে। এই খসড়া নীতিমালার ওপর আগামী ১৪ মে এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতামত দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যুগোপযোগী ভিসা নীতি প্রণয়ন করছে সরকার
আয়নাল হোসেন
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ২০: ১২

ছবি: সংগৃহীত
আধুনিক ও যুগোপযোগী ভিসা নীতি প্রণয়ন করছে সরকার। ৩৪টি ক্যাটাগরিতে ভিসা দেওয়ার জন্য একটি খসড়া তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য খসড়া নীতিমালা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (৬ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা এক চিঠিতে মতামত চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বর্হিগমন) জিয়াউদ্দিন আহমেদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ব্যবসার নামে ভিসা নিয়ে অনেক বিদেশি বাংলাদেশে চাকরি করে দেশ থেকে টাকা নিয়ে যেতেন। ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে থেকে যাওয়া ও তাবলীগের নামে ভিসা নিয়ে বছরের পর বছর বাংলাদেশে অবস্থান করতেন বিদেশিরা। এগুলো এখন আর করা যাবে না। নির্ধারিত সময়ের বেশি বাংলাদেশে অবস্থান করলে তাদেরকে সে অনুযায়ী জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিশ বছর আগে করা ভিসা নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে। এরপর এটি চূড়ান্ত নীতিতে পরিণত হবে।
প্রস্তাবিত ‘ভিসা নীতিমালা-২০২৬’এর মূল পরিবর্তনগুলো
নতুন নীতিমালায় ভিসার শ্রেণিবিন্যাস আরও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এতে মোট ৩৪টি ক্যাটাগরিতে ভিসা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ক্যাটাগরি হলো: এ ক্যাটাগরি ভিসার ক্ষেত্রে সরকারি সফর ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের জন্য এ১, এ২ ও এফএ২ ভিসা। ই ক্যাটাগরি ভিসার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি কর্মীদের জন্য ই-১, ই-২ ও ই-৩ এবং তাদের পরিবার (এফই) ক্যাটাগরি। বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য পিআই ক্যাটাগরি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক ও তাদের পরিবারের জন্য এফবিএন ক্যাটাগরি।
বিনিয়োগ আকর্ষণে ছাড়ের প্রস্তাব
খসড়া নীতিতে বলা হয়, বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে নীতিমালায় বড় ধরনের ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। যদি কোনো বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে অন্তত ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেন, তাহলে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশ সাপেক্ষে তার জন্য ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ (এনভিআর) সুবিধা দেওয়া যাবে।
এছাড়া ব্যবসা সংক্রান্ত ভিসার মেয়াদ ১ বছর থেকে বাড়িয়ে ২ বছর পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অবৈধভাবে বসবাসকারীদের জন্য জরিমানার হার পরিবর্তন
নতুন ভিসা নীতিতে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের জন্য জরিমানার হারে পরিবর্তনে আনা হয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কেও যদি বাংলাদেশে অবস্থান করে তাহলে তাকে জরিমানা গুণতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথম ১৫ দিনের জন্য প্রতিদিন এক হাজার টাকা করে এবং ১৬–৯০ দিনের জন্য প্রতিদিন দুই হাজার টাকা করে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে । তবে ৯০ দিনের বেশি যদি কেও অবস্থান করে তাহলে দৈনিক তিন হাজার টাকা করে জরিমানা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকছে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জরিমানা মওকুফের বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে নতুন ভিসা নীতিতে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর সাধারণত ভিসার ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা নিষিদ্ধ থাকলেও, ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ (ভিওএ) নিয়ে প্রবেশ করলে তা বিশেষ কিছু ক্যাটাগরিতে (যেমন ই-১, এফ-১, ই-৩, পি-১ এবং জে) পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এজন্য ২০০ মার্কিন ডলার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের জন্য নো ভিসা রিকুয়ার্ড (এনভিআর) সুবিধা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের নাগরিকরাও এই সুবিধা পাবেন। এজন্য ৮০ মার্কিন ডলার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পাসপোর্টের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।
বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ ৩ মাস
বিদেশি সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ বা তথ্যচিত্র নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি ভিসা এবং প্রয়োজনে ওয়ার্ক পারমিট গ্রহণের শর্ত দেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়, কোচ বা সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩০ দিন থেকে শুরু করে চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী ২ বছর পর্যন্ত ভিসার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিশেষ শাখা থেকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার নিয়ম রাখা হয়েছে।
এছাড়া ভিসার আবেদনের সময় পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে । কোনো প্রতিষ্ঠান তথ্য গোপন করে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিলে প্রতি ব্যক্তির জন্য ১-২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ‘ভিসা নীতিমালা-২০২৬’ বাস্তবায়িত হলে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য বাংলাদেশে আসার প্রক্রিয়া সহজ হবে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাবে। এই খসড়া নীতিমালার ওপর আগামী ১৪ মে এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতামত দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
/এমআর/




