শিরোনাম

বালিশকাণ্ডে আরও এক প্রকৌশলীকে অবসর

নিজস্ব প্রতিবেদক
বালিশকাণ্ডে আরও এক প্রকৌশলীকে অবসর
রূপপুর গ্রিনসিটি প্রকল্প। ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর গ্রিনসিটি প্রকল্পে আসবাবপত্র কেনা ও ভবনে তোলার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহমেদ সাজ্জাদ খানকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে সরকার।

বুধবার (৬ মে) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্পের আসবাবপত্র ক্রয় ও সরবরাহে অস্বাভাবিক ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ এনে বিভাগীয় মামলা করা হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিলেও তা সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি। ব্যক্তিগত শুনানিসহ সব প্রক্রিয়া শেষে তদন্ত কমিটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেয়।

এর ভিত্তিতে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তে সরকারি কর্ম কমিশনও সম্মতি জানায়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর শাস্তিটি চূড়ান্ত করা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে জারি করা সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তিনি আর্থিক সুবিধা পাবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে আলোচনায় আসে এই ঘটনা। রূপপুর গ্রিনসিটি প্রকল্পের ১৬ ও ২০ তলা ভবনের জন্য আসবাবপত্র কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে গণপূর্ত অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের পৃথক তদন্তে সেই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়।

তদন্তে দেখা যায়, বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দামে বালিশ, কমফোর্টার ও বিছানার চাদর কেনা হয়েছে। এমনকি এসব সামগ্রী ভবনে তুলতেও অস্বাভাবিক ব্যয় দেখানো হয়। পুরো কেনাকাটা ছয়টি প্যাকেজে ভাগ করে কেন্দ্রীয় অনুমোদন এড়িয়ে স্থানীয়ভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে একাধিক কর্মকর্তা ও ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে বিভাগীয় ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু হয়।

/এসএ/