শিরোনাম

পাকিস্তানে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৮ জন নিহত

সিটিজেন ডেস্ক
পাকিস্তানে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৮ জন নিহত
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার হরিপুরে একটি গ্যাস সরবরাহ লাইনে আগুন। ছবি: ডন

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হরিপুর জেলায় একটি গ্যাস পাইপলাইন ফেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের ৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। হরিপুরের হাত্তার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটের একটি কারখানার কাছে অবস্থিত সুঁই নর্দান গ্যাস পাইপলাইন লিমিটেডের (এসএনজিপিএল) একটি প্রধান সরবরাহ লাইনে এ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

হরিপুরের ডেপুটি কমিশনার ওয়াসিম আহমেদ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়েই বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কারখানার কাছাকাছি অবস্থিত ৩ থেকে ৪টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোট নাজিবুল্লাহ ইউনিয়ন কাউন্সিলের রুরাল হেলথ সেন্টারের (আরএইচসি) চিকিৎসক ডা. মুনাওয়ার আফ্রিদি জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার্স (ডিএইচকিউ) হাসপাতালে এবং বাকি পাঁচজনের মরদেহ আরএইচসি-তে নিয়ে আসা হয়েছে।

এসএনজিপিএল-এর কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমির জানান, ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের বিশাল পাইপলাইনটি উত্তরের অ্যাবোটাবাদ পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ করত এবং এটি হাত্তার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটের আবাসিক কোয়ার্টারের কাছেই অবস্থিত। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয়রা বিকট শব্দে গ্যাস বিস্ফোরণ ও বিশাল অগ্নিকাণ্ড দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়। খবর পেয়ে এসএনজিপিএল-এর মাঠ পর্যায়ের কর্মী, রেসকিউ ১১২২ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। মূল লাইন থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হলেও, পাইপলাইনের ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ গ্যাসের কারণে আগুন নেভাতে উদ্ধারকর্মীদের চরম বেগ পেতে হয় এবং টানা তিন ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও এর লেলিহান শিখা দেখা যাচ্ছিল।

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এসএনজিপিএল কর্মকর্তা আমির ধারণা করছেন, কারখানার গুদামে থাকা কোনো রাসায়নিক পদার্থের লিকেজ থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। অন্যদিকে, জেলা পুলিশ কর্মকর্তা শফিউল্লাহ খান জানিয়েছেন, পাইপলাইনের ভেতরে অতিরিক্ত গ্যাসের চাপের কারণেই এ বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজ তদারকি শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, বর্তমানে ঘটনাস্থলে আর কেউ আটকে নেই এবং উদ্ধারকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে।

সূত্র: ডন

/এমএকে/