শিরোনাম

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মিরে ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত ৩০

সিটিজেন ডেস্ক
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মিরে ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত ৩০
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। ছবি: এপি

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মিরে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ৩০ জনেরও বেশি নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে এ সংঘর্ষ বাধে।

জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। শুক্রবার রাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে রবিবার রাওয়ালকোট শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রাওয়ালকোটের শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পুলিশের গুলিতে নিহত ব্যবসায়ীর মরদেহ যে হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, জেএএসি সমর্থকরা সেটা ঘিরে ফেলে। এর ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে গোষ্ঠীটির কর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, পেট্রোল বোমা ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করে। এছাড়া বিক্ষোভকারীরা সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ প্রধান লিয়াকত মালিক বলেছেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ পাহাড়ি অঞ্চল থেকে ৩০ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে জেএএসি নেতা শওকত নওয়াজ মীর এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘রাওয়ালকোটে রাষ্ট্র আমাদের জনগণের ওপর গণহত্যা শুরু করেছে।’

জবাবে ওয়াহিদ খান বলেন, ‘জেএএসি নেতৃত্ব এটিকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। রাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা।’

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে গোষ্ঠীটির কর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, পেট্রোল বোমা ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করে।

আগামী ২ জুলাই আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ৪৫টি আসনের মধ্যে শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের প্রতিবাদে জেএএসি ৯ জুন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

জোটটি আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার সংরক্ষিত আসনগুলো বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে এমন প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যারা কাশ্মীরের নয়, বরং পাকিস্তানের অন্য কোথাও বাস করেন।

এর আগে শুক্রবার আঞ্চলিক সরকার একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে জেএএসিকে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করে এবং দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের ৯ জুনের আগে অঞ্চলটি ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।

সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স, আল জাজিরা

/জেএইচ/