শিরোনাম

জাবির বাসে ছাত্রীকে হেনস্তা, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

জাবি প্রতিনিধি
জাবি প্রতিনিধি
জাবির বাসে ছাত্রীকে হেনস্তা, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
অভিযুক্ত মো. হাসানুর রহমান। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীর অনুমতি ছাড়াই গোপনে ছবি তোলা এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান এসব তথ্য জানান।

বহিষ্কৃত ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. হাসানুর রহমান। তিনি জাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম আবর্তনের ছাত্র।

লিখিত অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যাওয়া বঙ্গবাজারগামী বাসে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর অজান্তে তার একাধিক ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন অভিযুক্ত হাসানুর রহমান। বিষয়টি বাসে উপস্থিত এক শিক্ষার্থীর নজরে এলে ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রমাণ হিসেবে অভিযুক্তের মোবাইল ফোনটি নিজের কাছে রাখেন। এ সময় অভিযুক্ত হাসানুর রহমান ছবি তোলার অভিযোগ অস্বীকার করে ফোনটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে ছাত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে ওই ছাত্রী বাসের ভেতরে পড়ে গিয়ে আহত হন জানা গেছে।

এক পর্যায়ে অভিযুক্ত জোরপূর্বক ফোনটি নিয়ে বাস থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে বাসে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া করে আটক করে এবং ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে এনে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে সোপর্দ করেন।

এসব ঘটনায় অভিযুক্ত হাসানুর রহমানকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ও অধ্যাপক শামীমা নাসরিন জলি।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় হাসানুর রহমান একটি লিখিত জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি অনুমতি ছাড়া ছবি তোলার বিষয়টি এবং মোবাইল ফোন ফেরত নেওয়ার সময় ভুক্তভোগী ছাত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা নিরাপত্তা অফিসে এসে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

/এফআর/