শিরোনাম

বাজেটে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বহুমুখী উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজেটে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বহুমুখী উদ্যোগ
গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বহুমুখী উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়টিকে অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সরকারের একটি ‘বিগ পুশ’ মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করানোর জন্য ব্যবসা প্রক্রিয়া সহজীকরণে সরকার ইতোমধ্যে ‘বাংলাবিজ’ নামের একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। যার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা জটিলতা ছাড়াই নিবন্ধন ও লাইসেন্স পাবেন। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে ১৯টি সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করে একটি ‘হিট ম্যাপ’ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য রোপম্যাপ হিসেবে কাজ করবে।

দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়নের চাকা দ্রুত ঘোরাতে পটুয়াখালী ও যশোরে নতুন করে দুটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। যেখানে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী। একইসঙ্গে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, চাঁদপুর ও কুষ্টিয়ায় নতুন চারটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। যা আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে সমতাভিত্তিক শিল্পায়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক খাতের বিশ্লেষকরা।

বাণিজ্য সম্প্রসারণে সরকার সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), পছন্দসই বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পাদনে উদ্যোগ নিয়েছে। যা দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় পণ্যের বৈশ্বিক বাজার সৃষ্টি করবে। রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আটটি খাতকে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্কমুক্ত পণ্য খালাস সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যালস, ইলেকট্রনিক্স, স্বর্ণ ও ডায়মন্ডসহ সব শতভাগ রপ্তানিমুখী সম্ভাবনাময় খাতকেও কাস্টমস বন্ডেড সুবিধা বা শুল্কমুক্ত ব্যাংক গ্যারান্টির আওতায় আমদানি সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

আগামী বাজেটে জ্বালানি সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক বাস, ট্রাক, বাইক ও স্কুটার উৎপাদনে নীতিগত সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ও ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে যুগোপযোগী পদক্ষেপ।

এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হলেও এর সফলতা নির্ভর করবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ঘোষিত সংস্কারের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।’

ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সহজীকরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘স্টিমুলাস প্যাকেজ-২০২৬’ ঘোষণা করেছে। যার মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা রিফাইন্যান্সিং তহবিল এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল হিসাবে রাখা হয়েছে। এই প্যাকেজের আওতায় বন্ধ কলকারখানা চালুকরণ ও সেবা খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১০ হাজার কোটি, কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএমএসএমই) খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গকে কৃষি ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে আরও ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

এই পুনর্ভরণযোগ্য স্কিমগুলোর আওতায় দেওয়া ঋণের সুদের হার নমনীয় রাখতে সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে, যা উদ্যোক্তাদের ঋণের চাপ কমাবে বলে মনে করছেন ব্যাংক খাতের অর্থনীতিবিদরা। সরকার আশা করছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ২৫ লাখের অধিক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। অর্থমন্ত্রী জানান, এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রেখে রাজস্ব নীতি ও মুদ্রা নীতির মধ্যে সুসমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরিয়ে আনার একটি অনন্য প্রচেষ্টা।

এসএমই খাতের বিকাশে বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় বিনিয়োগ করা হবে। যেমন-ইডকল, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

/বিবি/