শিরোনাম

সৌদি ঘাঁটিতে বিধ্বস্ত মার্কিন নজরদারি বিমানের ছবি প্রকাশ

সিটিজেন ডেস্ক
সৌদি ঘাঁটিতে বিধ্বস্ত মার্কিন নজরদারি বিমানের ছবি প্রকাশ
ইরানি হামলায় বিধ্বস্ত ই-৩ অ্যাওয়াকস জেট। ছবি: সিএনএন

২৭ মার্চ (শুক্রবার) সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ‘ই-থ্রি সেন্ট্রি’ (E-3 Sentry) বা আওয়াক্স (AWACS) নজরদারি বিমান পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। এয়ারবাসের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে সরবরাহ করা নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়টি সম্প্রতি উঠে এসেছে।

গত ২৯ মার্চ (রবিবার) ধারণ করা ছবিতে দেখা যায়, হামলায় বিমানটির মধ্যভাগ বা ফিউজেলেজ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বিশাল গোলাকার রাডার ডোমটি মূল কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটির আশপাশে বেশ কয়েকটি সামরিক যানকেও জড়ো হতে দেখা গেছে।

বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও চরম গাফিলতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। ছবিতে স্পষ্ট দেখা গেছে, হামলার দুই দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও একই ঘাঁটিতে আরও দুটি 'ই-থ্রি সেন্ট্রি' বিমান কোনো ধরনের সুরক্ষা ছাউনি বা বিশেষ হ্যাঙ্গার ছাড়াই খোলা আকাশের নিচে অরক্ষিত অবস্থায় রাখা ছিল। এর মধ্যে একটি বিমান ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমানটি থেকে মাত্র ১ হাজার ৩০০ মিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থান করছিল। শুধু তা-ই নয়, ঘাঁটিতে থাকা বেশ কিছু রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার এবং ই-টু হকআই (E-2 Hawkeye) নজরদারি বিমানকেও একইভাবে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল, যা সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সামরিক প্রটোকলের একটি বড় লঙ্ঘন।

মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য আওয়াক্স বিমানগুলো গত কয়েক দশক ধরে আকাশপথে নজরদারির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে আসছে। মাটি থেকে শুরু করে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমাইল বিস্তীর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রের ওপর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চালাতে সক্ষম এই অত্যাধুনিক বিমানের ধ্বংস হওয়াকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) জন্য একটি বড় কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সেন্টকমের কাছে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: সিএনএন

/এমএকে/