শিরোনাম

হুথিদের হামলায় পাইপলাইন বন্ধ, তেলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় সৌদি

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
হুথিদের হামলায় পাইপলাইন বন্ধ, তেলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় সৌদি
সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন

সৌদি আরবের লোহিত সাগরগামী প্রধান তেল পাইপলাইনে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ পাইপলাইন সচল করা না গেলে দেশটির রপ্তানিযোগ্য তেলের মজুত সম্পূর্ণ ফুরিয়ে যাবে। ফলে বিশ্ববাজারে দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর বাধ্য হয়েই নিজেদের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় রিয়াদ। তবে এ হামলায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা মেরামতে কত দিন সময় লাগবে, সে বিষয়ে সৌদি সরকার এখনো কোনো কিছু জানায়নি।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মধ্যেও রয়েছে ভিন্নমত। একটি সূত্র জানিয়েছে, পাইপলাইনটি ঠিক করতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে। আবার অন্য একটি সূত্রের দাবি, কাজ কিছুটা দ্রুত শেষ করা সম্ভব হতে পারে এবং মেরামতের ফাঁকে আংশিক তেল সরবরাহও চালুর সুযোগ থাকতে পারে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও সৌদি আরবের সরকারি তথ্য দপ্তর ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মরুভূমির বুক চিরে চলা পাইপলাইনটি গত ছয় মাস ধরে সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানির প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোর রপ্তানি যখন স্থবির, তখন এ বিকল্প পথ ব্যবহার করেই নিজেদের বাজার ধরে রেখেছিল দেশটি।

বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশটি এ পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে নিয়ে আসত, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে পাইপলাইন বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরে যে তেল মজুত রয়েছে, তা দিয়ে বড় জোর পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সৌদির তেল রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত তিনটি সূত্র।

পাশাপাশি, লোহিত সাগরের মিসরের আইন সুখনা এবং ভূমধ্যসাগরীয় সিদি কেরিও বন্দরের মাধ্যমে গ্রাহকদের আরও কিছু দিন তেল দেওয়ার মতো সামান্য মজুত সৌদি আরবের হাতে রয়েছে। শিল্প খাতের হিসাব বলছে, ইয়ানবু বন্দরের তেল ধারণক্ষমতা তিন কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল এবং আইন সুখনা ও সিদি কেরিরের যথাক্রমে এক কোটি ৮০ লাখ ও দুই কোটি ব্যারেল। তবে এই কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে সম্পূর্ণ মজুত নেই, ফলে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দ্রুত চালু না হলে এই বিকল্প মজুতও দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বা আইইএ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় আগস্টে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

সংস্থাটির সতর্কবার্তা অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ দিনে ৫৭ লাখ ব্যারেল বা প্রায় ৬ শতাংশ কমে যেতে পারে। এদিকে পাইপলাইনে হামলার পাশাপাশি লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে একটি দ্বীপ দখল করেছে হুথি বিদ্রোহীরা এবং সৌদি ট্যাংকারগুলোতে হামলার হুমকি দিয়ে চলেছে।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/