শিরোনাম
ইউপি নির্বাচনের নতুন আচরণবিধি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে নিতে হবে অনুমতি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার
চালাতে নিতে হবে অনুমতি
নির্বাচন কমিশনের লোগো

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে তৈরি ছবি অসৎ উদ্দেশ্য ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার–প্রচারণা চালানোর আগে তা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। এসব নিয়ম লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড বা জরিমানা হবে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা–২০২৬’ জারি করেছে। এতে এসব আইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আচরণবিধিতে বলা হয়, নির্বাচনে অসৎ উদ্দেশ্যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর, কুরুচিপূর্ণ কন্টেন্ট তৈরি কিংবা কারও চেহারা বিকৃত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডিজিটাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হলে প্রার্থীর নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডিসহ শনাক্তকরণ তথ্য প্রচার শুরুর আগেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে।

আচরণবিধিতে আরও বলা হয়, প্রার্থী নিজে, তাঁর নির্বাচনি এজেন্ট বা তাঁদের সম্মতিতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা আইডির তথ্য জমা না দিয়ে প্রচার চালালে, এআই দিয়ে ভুয়া বা বিকৃত কন্টেন্ট তৈরি করলে বা চরিত্র হনন করলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত সাপেক্ষে ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল করতে পারবে।

আচরণবিধির বিধি ৬-এ উল্লেখ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় দেশের আইন মানতে হবে। ফলে ধর্মীয় বা জাতিগত উসকানি, মানহানি বা ভুয়া তথ্য ছড়ালে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি প্রচলিত সাইবার ও ফৌজদারি আইনেও পৃথক বিচার ও শাস্তির ঝুঁকি থাকতে পারে।

আচরণবিধিতে আরও বলা হয়, যানবাহনের চতুর্পাশে ডিজিটাল প্রযুক্তি বা সাধারণ সামগ্রী ব্যবহার করে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত ভ্রাম্যমান বাহনে প্রচারণার সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে। তবে যানজট সৃষ্টি করা যাবে না।

আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলে অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হতে পারে। অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে বলে আচরণবিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল হতে পারে।

ভোটারদের প্রভাবিত করতে ভোটার বা তার পরিবারের ব্যক্তিগত এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করা এবং বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এর জন্য মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। পলিথিনের আবরণ, প্লাস্টিক বা পিভিসি ব্যানার, রেক্সিন বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো অপচনশীল দ্রব্য ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্ধারিত আকারের পোস্টার, লিফলেট বা বিলবোর্ড ব্যবহার করতে হবে। ব্যানার, ফেস্টুন বা লিফলেট-এ প্রার্থী নিজের ছবি ও প্রতীক ব্যতীত অন্য কারও ছবি বা প্রতীক ছাপাতে পারবেন না। প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতায় ৬ ফুটের বেশি হতে পারবে না।

প্রচারকার্যে ব্যবহৃত মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্রের শব্দের মানমাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে। দুপুর ১২টার পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পর মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ। প্রতি ওয়ার্ডে একের অধিক মাইক ব্যবহার করা যাবে না।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার সময় কোনো মিছিল বা শো-ডাউন করা যাবে না এবং প্রার্থীসহ সর্বোচ্চ ৫ জন সমর্থক উপস্থিত থাকতে পারবেন। চেয়ারম্যান পদে সর্বোচ্চ তিনটি, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে একটি এবং সাধারণ সদস্য পদে একটির বেশি ক্যাম্প করা যাবে না। ক্যাম্পের আয়তন ৩৫০ বর্গফুটের বেশি হতে পারবে না।

ক্যাম্পে কোনো টিভি, ভিসিআর, প্রজেক্টর, এলইডি ডিসপ্লে ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না এবং ভোটারদের কোনো খাদ্য বা পানীয় পরিবেশন করা যাবে না। আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলে নির্বাচন কমিশন তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল করতে পারবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলা নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থিতা চূড়ান্ত হলেই তারা বিভিন্ন আইনের আওতাভুক্ত হবেন। এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। তাই এই মুহূর্তে কেউ ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালালে নির্বাচন কমিশনের এক্ষেত্রে কিছু করার নেই। কারণ যিনি প্রচার করছেন তাকে কোনো আইনের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া সম্ভব না। তবে তিনি যখন বৈধ প্রার্থী হিসেবে গণ্য হবেন তখনই তার ওপর এই সমস্ত আইন বা বিধি প্রযোজ্য হবে।

/বিবি/