ইয়েমেন সংঘাতের প্রধান পক্ষগুলো কারা, কার কী ভূমিকা

ইয়েমেন সংঘাতের প্রধান পক্ষগুলো কারা, কার কী ভূমিকা
সিজেডএন ডেস্ক

সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর ওপর হুথি বিদ্রোহীদের আকস্মিক হামলায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইয়েমেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এ গৃহযুদ্ধ এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে আঞ্চলিক সংকটের রূপ নিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই দক্ষিণ সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হুথি হামলায় আহত হয়েছেন বহু মানুষ। বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশটিতে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সবচেয়ে বড় সংঘাত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ জটিল সংঘাতের পক্ষগুলো হলো-
হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী
স্থানীয়ভাবে ‘আনসার আল্লাহ’ বা আল্লাহর সমর্থক নামে পরিচিত এ সশস্ত্র গোষ্ঠীটি রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের সিংহভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ১৯৯০-এর দশকে উত্থান ঘটলেও ২০১৪ সালে তারা ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখল করে। ফলে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়।
ইরানের সমর্থনে পরিচালিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ জোটের অংশ হিসেবে পরিচিত হলেও শিয়া জাইদি সম্প্রদায়ের গোষ্ঠীটির নিজস্ব রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ রয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বছরের পর বছর ধরে চলা হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের আক্রমণ প্রতিহত করে তারা নিজেদের শক্তিমত্তা প্রমাণ করেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল এবং লোহিত সাগরের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সৌদি আরব
২০১৫ সালের মার্চে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে পুনর্বহাল করতে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোট গঠন করে ইয়েমেন যুদ্ধে প্রবেশ করে রিয়াদ। মূলত আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের প্রভাব বলয় রুখতে এবং দক্ষিণ সীমান্তে বিপদের ঝুঁকি এড়াতে এ পদক্ষেপ নিয়েছিল সৌদি আরব। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যকার সমঝোতার পর দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা বরফ গলেছিল। কিন্তু ইয়েমেনের মাঠের সমীকরণ পুরোপুরি বদলায়নি।
প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল(পিএলসি)
২০২২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি তার ক্ষমতা ৮ সদস্যের একটি নতুন সংস্থার কাছে হস্তান্তর করলে এ পরিষদ গঠিত হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী এই সংস্থার প্রধান হলেন রশাদ আল-আলিমি। উত্তর ও দক্ষিণের রাজনীতিবিদ এবং সামরিক নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এ পরিষদকে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে সৌদি আরব। দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থাপনা এবং শান্তি আলোচনার পথ সুগম করাই এই পরিষদের প্রধান দায়িত্ব।
ইসলাহ পার্টি
সুন্নি ইসলামপন্থী এ রাজনৈতিক আন্দোলনের পুরো নাম ইয়েমেনি কনগ্রেগেশন ফর রিফর্ম। এর সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে পিএলসি সরকারের অংশ হলেও দলটির একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্তা রয়েছে। দেশের একমাত্র গ্যাস উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং প্রধান তেলক্ষেত্রগুলোর ঘাঁটি মারিবজুড়েই তাদের মূল রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বিস্তৃত।
ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আলী আবদুল্লাহ সালেহের ভাতিজা তারেক সালেহের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই সরকারি সমর্থিত সামরিক গোষ্ঠীটি পিএলসি-র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সৌদি আরবের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাহিনীটি একটি ঐক্যবদ্ধ ইয়েমেনের পক্ষে কাজ করছে। একইসঙ্গে হুথি বিদ্রোহী এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী- উভয় পক্ষেরই কঠোর প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে তারা।
ইয়েমেন যুদ্ধের জটিলতা
ইয়েমেনের যুদ্ধকে কেবল হুথি বিদ্রোহী আর সরকারি বাহিনীর দ্বান্দ্বিক লড়াই হিসেবে ভাবলে এর গভীরে পৌঁছানো সম্ভব নয়। হুথিরা দেশের একটা বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং তাদের পেছনে রয়েছে ইরানের জোরালো সমর্থন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সৌদি আরব। কিন্তু এই দ্বিপক্ষীয় হিসাবের বাইরেও চিত্রটা বেশ জটিল, কারণ পিএলসি, ইসলাহ কিংবা ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের মতো স্থানীয় দলগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামরিক উচ্চাভিলাষ রয়েছে। এর সঙ্গে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বিভেদ পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।
ইয়েমেনে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে চাইলে শুধু হুথি আর সরকারের মধ্যে সমঝোতা করলেই চলবে না। দেশের ভেতরের সব কটি রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আস্থায় আনা, সৌদি আরব ও ইরানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ইতিবাচক ভূমিকা এবং দেশটির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় কাঠামো কেমন হবে তার একটা সমন্বিত রূপরেখা তৈরি করা জরুরি।
সূত্র: আল জাজিরা

সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর ওপর হুথি বিদ্রোহীদের আকস্মিক হামলায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইয়েমেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এ গৃহযুদ্ধ এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে আঞ্চলিক সংকটের রূপ নিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই দক্ষিণ সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হুথি হামলায় আহত হয়েছেন বহু মানুষ। বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশটিতে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সবচেয়ে বড় সংঘাত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ জটিল সংঘাতের পক্ষগুলো হলো-
হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী
স্থানীয়ভাবে ‘আনসার আল্লাহ’ বা আল্লাহর সমর্থক নামে পরিচিত এ সশস্ত্র গোষ্ঠীটি রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের সিংহভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ১৯৯০-এর দশকে উত্থান ঘটলেও ২০১৪ সালে তারা ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখল করে। ফলে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়।
ইরানের সমর্থনে পরিচালিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ জোটের অংশ হিসেবে পরিচিত হলেও শিয়া জাইদি সম্প্রদায়ের গোষ্ঠীটির নিজস্ব রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ রয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বছরের পর বছর ধরে চলা হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের আক্রমণ প্রতিহত করে তারা নিজেদের শক্তিমত্তা প্রমাণ করেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল এবং লোহিত সাগরের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সৌদি আরব
২০১৫ সালের মার্চে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে পুনর্বহাল করতে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোট গঠন করে ইয়েমেন যুদ্ধে প্রবেশ করে রিয়াদ। মূলত আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের প্রভাব বলয় রুখতে এবং দক্ষিণ সীমান্তে বিপদের ঝুঁকি এড়াতে এ পদক্ষেপ নিয়েছিল সৌদি আরব। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যকার সমঝোতার পর দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা বরফ গলেছিল। কিন্তু ইয়েমেনের মাঠের সমীকরণ পুরোপুরি বদলায়নি।
প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল(পিএলসি)
২০২২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি তার ক্ষমতা ৮ সদস্যের একটি নতুন সংস্থার কাছে হস্তান্তর করলে এ পরিষদ গঠিত হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী এই সংস্থার প্রধান হলেন রশাদ আল-আলিমি। উত্তর ও দক্ষিণের রাজনীতিবিদ এবং সামরিক নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এ পরিষদকে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে সৌদি আরব। দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থাপনা এবং শান্তি আলোচনার পথ সুগম করাই এই পরিষদের প্রধান দায়িত্ব।
ইসলাহ পার্টি
সুন্নি ইসলামপন্থী এ রাজনৈতিক আন্দোলনের পুরো নাম ইয়েমেনি কনগ্রেগেশন ফর রিফর্ম। এর সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে পিএলসি সরকারের অংশ হলেও দলটির একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্তা রয়েছে। দেশের একমাত্র গ্যাস উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং প্রধান তেলক্ষেত্রগুলোর ঘাঁটি মারিবজুড়েই তাদের মূল রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বিস্তৃত।
ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আলী আবদুল্লাহ সালেহের ভাতিজা তারেক সালেহের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই সরকারি সমর্থিত সামরিক গোষ্ঠীটি পিএলসি-র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সৌদি আরবের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাহিনীটি একটি ঐক্যবদ্ধ ইয়েমেনের পক্ষে কাজ করছে। একইসঙ্গে হুথি বিদ্রোহী এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী- উভয় পক্ষেরই কঠোর প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে তারা।
ইয়েমেন যুদ্ধের জটিলতা
ইয়েমেনের যুদ্ধকে কেবল হুথি বিদ্রোহী আর সরকারি বাহিনীর দ্বান্দ্বিক লড়াই হিসেবে ভাবলে এর গভীরে পৌঁছানো সম্ভব নয়। হুথিরা দেশের একটা বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং তাদের পেছনে রয়েছে ইরানের জোরালো সমর্থন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সৌদি আরব। কিন্তু এই দ্বিপক্ষীয় হিসাবের বাইরেও চিত্রটা বেশ জটিল, কারণ পিএলসি, ইসলাহ কিংবা ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের মতো স্থানীয় দলগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামরিক উচ্চাভিলাষ রয়েছে। এর সঙ্গে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বিভেদ পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।
ইয়েমেনে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে চাইলে শুধু হুথি আর সরকারের মধ্যে সমঝোতা করলেই চলবে না। দেশের ভেতরের সব কটি রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আস্থায় আনা, সৌদি আরব ও ইরানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ইতিবাচক ভূমিকা এবং দেশটির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় কাঠামো কেমন হবে তার একটা সমন্বিত রূপরেখা তৈরি করা জরুরি।
সূত্র: আল জাজিরা

ইয়েমেন সংঘাতের প্রধান পক্ষগুলো কারা, কার কী ভূমিকা
সিজেডএন ডেস্ক

সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর ওপর হুথি বিদ্রোহীদের আকস্মিক হামলায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইয়েমেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এ গৃহযুদ্ধ এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে আঞ্চলিক সংকটের রূপ নিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই দক্ষিণ সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হুথি হামলায় আহত হয়েছেন বহু মানুষ। বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশটিতে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সবচেয়ে বড় সংঘাত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ জটিল সংঘাতের পক্ষগুলো হলো-
হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী
স্থানীয়ভাবে ‘আনসার আল্লাহ’ বা আল্লাহর সমর্থক নামে পরিচিত এ সশস্ত্র গোষ্ঠীটি রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের সিংহভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ১৯৯০-এর দশকে উত্থান ঘটলেও ২০১৪ সালে তারা ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখল করে। ফলে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়।
ইরানের সমর্থনে পরিচালিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ জোটের অংশ হিসেবে পরিচিত হলেও শিয়া জাইদি সম্প্রদায়ের গোষ্ঠীটির নিজস্ব রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ রয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বছরের পর বছর ধরে চলা হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের আক্রমণ প্রতিহত করে তারা নিজেদের শক্তিমত্তা প্রমাণ করেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল এবং লোহিত সাগরের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সৌদি আরব
২০১৫ সালের মার্চে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে পুনর্বহাল করতে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোট গঠন করে ইয়েমেন যুদ্ধে প্রবেশ করে রিয়াদ। মূলত আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের প্রভাব বলয় রুখতে এবং দক্ষিণ সীমান্তে বিপদের ঝুঁকি এড়াতে এ পদক্ষেপ নিয়েছিল সৌদি আরব। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যকার সমঝোতার পর দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা বরফ গলেছিল। কিন্তু ইয়েমেনের মাঠের সমীকরণ পুরোপুরি বদলায়নি।
প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল(পিএলসি)
২০২২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি তার ক্ষমতা ৮ সদস্যের একটি নতুন সংস্থার কাছে হস্তান্তর করলে এ পরিষদ গঠিত হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী এই সংস্থার প্রধান হলেন রশাদ আল-আলিমি। উত্তর ও দক্ষিণের রাজনীতিবিদ এবং সামরিক নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এ পরিষদকে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে সৌদি আরব। দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থাপনা এবং শান্তি আলোচনার পথ সুগম করাই এই পরিষদের প্রধান দায়িত্ব।
ইসলাহ পার্টি
সুন্নি ইসলামপন্থী এ রাজনৈতিক আন্দোলনের পুরো নাম ইয়েমেনি কনগ্রেগেশন ফর রিফর্ম। এর সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে পিএলসি সরকারের অংশ হলেও দলটির একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্তা রয়েছে। দেশের একমাত্র গ্যাস উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং প্রধান তেলক্ষেত্রগুলোর ঘাঁটি মারিবজুড়েই তাদের মূল রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বিস্তৃত।
ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আলী আবদুল্লাহ সালেহের ভাতিজা তারেক সালেহের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই সরকারি সমর্থিত সামরিক গোষ্ঠীটি পিএলসি-র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সৌদি আরবের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাহিনীটি একটি ঐক্যবদ্ধ ইয়েমেনের পক্ষে কাজ করছে। একইসঙ্গে হুথি বিদ্রোহী এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী- উভয় পক্ষেরই কঠোর প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে তারা।
ইয়েমেন যুদ্ধের জটিলতা
ইয়েমেনের যুদ্ধকে কেবল হুথি বিদ্রোহী আর সরকারি বাহিনীর দ্বান্দ্বিক লড়াই হিসেবে ভাবলে এর গভীরে পৌঁছানো সম্ভব নয়। হুথিরা দেশের একটা বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং তাদের পেছনে রয়েছে ইরানের জোরালো সমর্থন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সৌদি আরব। কিন্তু এই দ্বিপক্ষীয় হিসাবের বাইরেও চিত্রটা বেশ জটিল, কারণ পিএলসি, ইসলাহ কিংবা ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের মতো স্থানীয় দলগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামরিক উচ্চাভিলাষ রয়েছে। এর সঙ্গে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বিভেদ পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।
ইয়েমেনে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে চাইলে শুধু হুথি আর সরকারের মধ্যে সমঝোতা করলেই চলবে না। দেশের ভেতরের সব কটি রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আস্থায় আনা, সৌদি আরব ও ইরানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ইতিবাচক ভূমিকা এবং দেশটির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় কাঠামো কেমন হবে তার একটা সমন্বিত রূপরেখা তৈরি করা জরুরি।
সূত্র: আল জাজিরা

হুথিরা ফোন করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই চায় না: ট্রাম্প
হুথিদের অগ্রযাত্রা ইরান যুদ্ধে কী প্রভাব ফেলবে
হুথিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে বাব আল-মান্দেব প্রণালি







