শিরোনাম

ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র পুনর্নির্মাণের স্পষ্ট প্রমাণ নেই: আইএএইএ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র পুনর্নির্মাণের স্পষ্ট প্রমাণ নেই: আইএএইএ
আইএএইএ-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ইরান তার ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নতুন করে পুনর্নির্মাণ করার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএএইএ)। আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র ক্লারিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের এ পরমাণু নজরদারি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এ কথা জানান। তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধের কারণে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা পুরোপুরি থমকে আছে।

গ্রোসি বলেন, গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪৪০ কেজি (৯৭২ পাউন্ড) উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম এখনও আগের স্থানেই রয়েছে। স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্ভবত তারা তাদের কিছু অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ শুরু করছে। এট অস্বীকার করা যায় না, কিন্তু এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। সুতরাং, বিষয়টি একটি বড় অমীমাংসিত ব্যাপার হিসেবেই রয়ে গেছে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক নজরদারি পুনরায় চালু করতে আগ্রহী বলে উল্লেখ করেন তিনি। আইএএইএ প্রধান বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত, এবং আশা করি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেখানে কাজ পুনরায় শুরু করতে পারব’।

পরবর্তীতে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা সহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য জটিল ইস্যুগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অগ্রাধিকার পাবে না।

এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও ধারাবাহিক সামরিক হামলা সত্ত্বেও নিজেদের পরমাণু খাতের সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তেহরান। বুধবার (২৬ আগস্ট) ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি দাবি করেন, সব বাধা পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে তাদের পরমাণু শিল্প শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আজ ইরানের পারমাণবিক শিল্প এই ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর পাশাপাশি এবং সমানে সমানে এগিয়ে চলেছে।’ এসলামির মতে, শত্রুপক্ষ মূলত ইরানের অগ্রগতি রুখে দিতে এবং দেশকে দুর্বল করতেই মিথ্যা অজুহাত দাঁড় করাচ্ছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে তাদের এ কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতেই তিনি ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে এই সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। অথচ আমেরিকার নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যে বলা হয়েছিল যে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির সরাসরি কোনো পরিকল্পনা করছিল না। অবশ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, এ যুদ্ধের পর ইরান হয়তো শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকেই আরও বেশি ঝুঁকে পড়তে পারে।

সূত্র: সৌদি গেজেট

/এমএকে/