শিরোনাম

২০ গুণ শক্তিশালী আঘাত করেছি, চুক্তির জন্য মরিয়া ইরান: ট্রাম্প

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
২০ গুণ শক্তিশালী আঘাত করেছি, চুক্তির জন্য মরিয়া ইরান: ট্রাম্প
ইরানে হামলার দৃশ্য (বাঁয়ে) ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডানে)। কোলাজ: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইরানশাহরের একটি বিমানঘাঁটিসহ দেশটির দক্ষিণ উপকূলের বেশ কিছু কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে আঘাত করা হলে এর চেয়ে ২০ গুণ শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।

ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসনের জবাবে তেহরানও বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধে করা অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, কুয়েতের সামরিক বাহিনী তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করলেও এই আঞ্চলিক সংঘাত দিন দিন আরও বড় পরিসরে রূপ নিচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির দক্ষিণ উপকূলের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কমপ্লেক্স, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর আব্বাস ও সিরিক বন্দরেও ব্যাপক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেছেন, একের পর এক হামলার মুখে তেহরান এখন ওয়াশিংটনের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, কিছুক্ষণ আগে ইরান থেকে একটি ফোনকলের মাধ্যমে চুক্তির বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল, যদিও তিনি এই চুক্তির কার্যকারিতা এবং ইরানিদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে মার্কিন বাহিনী ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট এবং প্রধান তেল উৎপাদন কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলা চালাতে পারে কিংবা সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজটা পুরোপুরি শেষ করে দিতে পারে।

মার্কিন হুমকিতে দমে না গিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ ও তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরানও। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্সে এক পোস্টে জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি এখন থেকে কেবল ইরানের ব্যবস্থাপনা ও নীতি অনুযায়ীই খোলা থাকবে এবং প্রতিটি আঘাতের পাল্টা জবাব দেয়া হবে। একই সুর শোনা গেছে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির কণ্ঠেও। তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে বছরের পর বছর ধরে চালানো মার্কিন বলপ্রয়োগ ও নিষেধাজ্ঞা নীতির ব্যর্থতার স্বীকৃতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা বলেছেন, বীর ও সভ্য ইরানি জাতিকে অবমাননা করে লাভ নেই, ইরান এই অশালীনতার জবাব মাঠের কর্ম ও বীরত্বের মাধ্যমেই দেবে।

এই চলমান সংঘাত ও ট্রাম্পের পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আঙ্কারায় ন্যাটোর সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যেও ট্রাম্প ইরানের ওপর আরও কঠোর হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমন এক সময়ে এই তীব্র যুদ্ধাবস্থা তৈরি হলো, যখন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়া ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায় এবং নিয়মভঙ্গকারী নৌযানে হামলার মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ তারা কোনোভাবেই হাতছাড়া করবে না।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/