শিরোনাম

হাইকোর্টের রায় বহাল, ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
হাইকোর্টের রায় বহাল, ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট
সুপ্রিম কোর্ট। ছবি:সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

দেশের সংবিধানে আবারও পুনর্বহাল হলো বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ ঐতিহাসিক চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। এর আগে টানা তিন দিন দীর্ঘ ও নিবিড় শুনানি শেষে বুধবার (৮ জুলাই) আদালত রায়ের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন।

গুরুত্বপূর্ণ এ মামলার শুনানিতে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রিট আবেদনকারীর পক্ষে লড়েন ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছিলেন। মূলত গত বছরের ৩ নভেম্বর সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চেয়ে এই লিভ টু আপিল দায়ের করেছিলেন।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলকে অবৈধ ঘোষণা করে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে এনেছিলেন। তবে সে রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনীটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। তৎকালীন রায়ের পর্যবেক্ষণে উচ্চ আদালত উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র হলো আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা কেবল অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই বিকশিত হয়। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি এবং দলীয় ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা না থাকার ফলেই দেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। হাইকোর্ট জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুসারেই সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ।

হাইকোর্টের সেই রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়, যা আজ আপিল বিভাগেও বহাল থাকল। আদালত বলেছিলেন, এ অনুচ্ছেদ দুটি গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত হওয়া ৭ক, ৭খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়েছে।

গণভোটের বিষয়ে আদালত স্পষ্ট করেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, যার ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদটি পুনরায় কার্যকর হলো। তবে জাতির পিতার স্বীকৃতি ও ২৬ মার্চের ভাষণের মতো অন্যান্য বিষয়গুলো পুরোপুরি বাতিল না করে, ভবিষ্যৎ জাতীয় সংসদের মাধ্যমে জনগণের মতামত নিয়ে তা পরিমার্জনের সুযোগ রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হওয়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্ত করেছিল, যা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও রুল জারির পর অবশেষে আজ চূড়ান্তভাবে অবৈধ ঘোষিত হলো।

/এমএকে/