শিরোনাম

হরমুজ প্রণালি দিয়ে দিনে ১৫টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি ইরানের

সিটিজেন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি দিয়ে দিনে ১৫টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি  ইরানের
হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পূর্বনির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী অবশেষে খুলে দেওয়া হচ্ছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। তবে এ জলপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর বিধিমালা ও কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে ইরান।

তেহরান জানিয়েছে, যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় নৌচলাচল ফিরতে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে এবং এখন থেকে দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ এই পথে চলাচলের অনুমতি পাবে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের প্রাক্কালে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বর্তমানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি-র প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ প্রণালি দিয়ে বিশেষ প্রটোকল মেনে দিনে ১৫টিরও কম জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালে জাহাজ চলাচল অবশ্যই দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয় ও কারিগরি সীমাবদ্ধতা বিবেচনা সাপেক্ষে পরিচালিত হবে।

এদিকে আইআরজিসি হরমুজ প্রণালির একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে জাহাজগুলোকে ওমান উপকূলের প্রথাগত রুট বদলে আরও উত্তর দিকে অর্থাৎ ইরানের উপকূল ঘেঁষে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত প্রধান ট্রাফিক জোনে জাহাজ বিধ্বংসী মাইনের উপস্থিতির আশঙ্কায় নিরাপত্তার খাতিরে এ রুট পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রধান পথটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছিল ইরান, যার ফলে বিশ্বজুড়ে চরম জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে ভয়াবহ হামলার হুমকি দিলেও গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের তহবিল সংগ্রহে ইরান প্রতিটি জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত অথবা প্রতি ব্যারেল তেলের বিপরীতে এক ডলার করে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে, যা ওমানের সঙ্গে ভাগাভাগি হতে পারে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/