শিরোনাম

চলচ্চিত্র প্রযোজকদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ পদক্ষেপ সৌদির

সিটিজেন ডেস্ক
চলচ্চিত্র প্রযোজকদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ পদক্ষেপ সৌদির

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে খেলাধুলা ও বিনোদন জগৎ। দেশটি ২০২১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত কেবল খেলাধুলার পেছনে ৬৩০ কোটি ডলার (৬৮ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা) ব্যয় করেছে দেশটি। এবার তারা ঝুঁকছে বিনোদন জগতের দিকে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রযোজকদের আকৃষ্ট করতে শুটিং ও স্থানীয় ব্যয়ের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ ছাড় বা ক্যাশ রিবেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব।

শুক্রবার (১৫ মে) কান উৎসবের মার্শে দু ফিল্ম সেশনে এই পরিকল্পনার কথা জানান সৌদি ফিল্ম কমিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ বিন নাসের আল-কাহতানি।

তিনি বলেন, পরিমার্জিত প্রণোদনা কার্যক্রমে শুধু রিবেটের হার বাড়ানো হয়নি, একই সঙ্গে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থা কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের সঙ্গে অংশীদারিত্বে নতুন একটি অর্থায়ন প্যাকেজও চালু করা হয়েছে। এই ফান্ড সৌদি সাংস্কৃতিক খাতে রাষ্ট্রীয় মূলধন সরবরাহের মূল মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

সৌদি ফিল্ম কমিশন জানিয়েছে, এই পরিবর্তনগুলো মূলত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিচালন পরিবেশ সহজ করা এবং শুটিং চক্রজুড়ে নগদ অর্থপ্রবাহের পূর্বাভাসযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের চলচ্চিত্র সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে বৈশ্বিক প্রযোজকদের যেসব অভিযোগ আগে উঠেছিল, এই সংস্কারগুলো সেগুলোরই জবাব বলে মনে করছেন অনেকে।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সৌদি আরবের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্প বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ২০১৯ সালে বিদেশি পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলে দেওয়ার পর সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে আন্তর্জাতিক পর্যটন খাত সম্প্রসারণ করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই অস্থিরতায় দেশটির পর্যটন খাতই এখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন সরকারি বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়ে সৌদি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছে, আঞ্চলিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও তারা নিজেদের কনটেন্ট উৎপাদন সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ কর্মপরিকল্পনায় চলচ্চিত্র ও বিনোদন খাতকে অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন মধ্যপ্রাচ্যে শুটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।

কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাজেদ বিন আবদুল মুহসেন আল-হুগাইল বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পের বদলে যাওয়া চাহিদা ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন অর্থায়ন কাঠামো চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক চলচ্চিত্র বাজারে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়াই বিনিয়োগ ও প্রযোজনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো এমন একটি কার্যকর ও নমনীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা বিভিন্ন ধাপের চলচ্চিত্র প্রকল্পকে সহায়তা করবে এবং আন্তর্জাতিক প্রযোজনার জন্য নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে সৌদি আরবের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি আরও বলেন, ৬০ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা সৌদি আরবকে বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্র রিবেট ব্যবস্থার শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। ইউরোপের অধিকাংশ দেশের জাতীয় রিবেট সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এমনকি এটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক উদ্যোগ।

তবে আন্তর্জাতিক প্রযোজকদের কাছে এই কর্মসূচির মোট বরাদ্দ এবং বার্ষিক ব্যয়ের সীমা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। কারণ সৌদি ফিল্ম কমিশন এখনো এ সংক্রান্ত বিস্তারিত কোন তথ্য প্রকাশ করেনি। ফলে নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে আগ্রহী নির্মাতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে ।

/এসবি/