শিরোনাম

ইসরায়েলকে স্বীকৃতি ছাড়া পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর নয়: ট্রাম্প

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ইসরায়েলকে স্বীকৃতি ছাড়া পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর নয়: ট্রাম্প
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: বিবিসি

মার্কিন-সৌদি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিটি রিয়াদের ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এই সমঝোতার আওতায় সৌদিকে কোনো পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হবে না এবং এটি কেবল বেসামরিক ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এ সুবিধা পেতে হলে রিয়াদকে অবশ্যই ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গঠিত ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিতে হবে।

ট্রাম্পের এ অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, আব্রাহাম চুক্তিতে সৌদি আরবের যোগদান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হবে। তবে ট্রাম্পের এ সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে রিয়াদ ধারাবাহিকভাবে বলে এসেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেবে না।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন দশকের পর দশক ধরে চলা বৈরিতা ভুলে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। পরবর্তীতে সুদান, মরক্কো ও কাজাখস্তানও এ চুক্তিতে যুক্ত হয়। নতুন এ পারমাণবিক সমঝোতা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাদের মতে, খসড়া অপ্রকাশিত থাকা এ চুক্তি অস্থিতিশীল এই অঞ্চলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অবশ্য মার্কিন জ্বালানি বিভাগ দাবি করেছে, এটি একটি শান্তিপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি যা আমেরিকান কোম্পানিগুলোর জন্য বড় বাণিজ্যিক সুযোগ নিয়ে আসবে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কারণে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ২০১৮ সালে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক বোমা তৈরি করে তবে রিয়াদও দ্রুত একই পথ অনুসরণ করবে। আগের কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রস্তাবিত চুক্তিতে সৌদিকে নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে- যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব। কিন্তু ট্রাম্পের মন্তব্য সেই সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়েছে। মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ-এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো দেশকে নিজ মাটিতে জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ দেওয়া মানেই সামরিক পারমাণবিক ঝুঁকির দরজা খুলে দেওয়া, যা যুক্তরাষ্ট্র অতীতে কখনো করেনি।

খসড়া চুক্তিটি এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনের উভয় পক্ষের কিছু আইনপ্রণেতা এ চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিরোধীরা এটি আটকে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভোট পাবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

/এমএকে/