শিরোনাম

জেনেরিক ওষুধে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের, ভারতের উদ্বেগ

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
জেনেরিক ওষুধে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের, ভারতের উদ্বেগ
কোলাজ: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

আমেরিকায় জেনেরিক ওষুধের উৎপাদন বাড়াতে পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১ আগস্ট থেকে প্রথম দুই বছর আমদানিকৃত জেনেরিক ওষুধে কোনো শুল্ক থাকছে না। তবে এরপরই ২০২৮ সালের আগস্ট থেকে ১০০ শতাংশ এবং তার পরের বছর তা বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের বার্তা- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা ও পরিকাঠামো তৈরি না করলে কোম্পানিগুলোকে এ চড়া শুল্ক দিতে হবে। তবে এতে মার্কিন বাজারে সস্তা ওষুধের সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ভারতের ওষুধ শিল্প বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত প্রায় সমস্ত প্রেসক্রিপশনের ওষুধই জেনেরিক, যার বড় অংশ তৈরি হয় বিদেশে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো স্বল্পমূল্যের এ ওষুধ উৎপাদন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া। কিন্তু বাণিজ্য নীতি বিশেষজ্ঞ ডেবোরা এলমস মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে কারখানা গড়ে তোলা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। তাছাড়া ওষুধের মূল কাঁচামালও বিদেশ থেকেই আনতে হয়। ফলে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেও এই মৌলিক বাস্তবতায় খুব একটা পরিবর্তন আসবে না।

পেটেন্টকৃত ও ব্র্যান্ডেড ওষুধের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। ফাইজার, এলি লিলি এবং নোভো নরডিস্কের মতো বড় প্রধান ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো ট্রাম্পের মোস্ট-ফেভারড-নেশন নীতির আওতায় ওষুধের দাম কমানোর চুক্তি করে তিন বছরের জন্য শুল্ক ছাড় পেয়ে গেছে। তবে জেনেরিক ওষুধের ওপর নতুন এই শুল্কের খড়্গ ভারতের জন্য বেশ দুশ্চিন্তার।

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত মোট জেনেরিক ওষুধের প্রায় অর্ধেক সরবরাহ করে ভারতীয় কোম্পানিগুলো। এমনকি ভারতের মোট ওষুধ রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশই যায় মার্কিন বাজারে। অন্যদিকে, ওষুধ তৈরির প্রয়োজনীয় সক্রিয় উপাদানের বড় অংশই আসে চীন থেকে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই বছরের সাময়িক শুল্কমুক্ত সুবিধা মিললেও ট্রাম্পের এই নীতি ভারতের ওষুধ খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি বাড়াবে। যেহেতু এসব জেনেরিক ওষুধে মুনাফার হার খুবই কম, তাই অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক উৎপাদক নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ তৈরি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারেন।

তবে দুই বছরের সময়সীমাকে নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক ছাড় সংক্রান্ত আলোচনা ও বিনিয়োগের চুক্তি করার কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে। যেহেতু ২০২৮ সাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি নির্বাচনের বছর, তাই নয়াদিল্লি আশা করছে শেষ পর্যন্ত হয়তো এ কঠোর শুল্ক কার্যকর নাও হতে পারে। ইতোমধ্যে ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো আমেরিকান খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন পাওয়া, চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন বাড়ানো এবং বিকল্প বাজার খোঁজার প্রস্তুতি শুরু করেছে।

সূত্র: সিএনবিসি

/এমএকে/