শিরোনাম

রাশিয়ার দুই সামরিক ঘাঁটির দায়িত্ব বুঝে পেলো সিরিয়া

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
রাশিয়ার দুই সামরিক ঘাঁটির দায়িত্ব বুঝে পেলো সিরিয়া
স্যাটেলাইট চিত্রে তারতুস নৌ-ঘাঁটি

সিরিয়ায় অবস্থিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ রুশ সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছেছে দামেস্ক ও মস্কো। রবিবার (৯ আগস্ট) সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এখন থেকে হমেইমিম বিমানবন্দর ও তারতুস বন্দরের বাণিজ্যিক জেটিসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনার পরিচালনা সিরিয়ার নিজস্ব বেসামরিক প্রশাসনের আওতায় আসবে। একই সঙ্গে দুটি ঘাঁটির সামরিক অবকাঠামোগুলোকে উভয় দেশের যৌথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে, যা আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভূমধ্যসাগর ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি এবং প্রভাব ধরে রাখার মূল কেন্দ্র ছিল এ তারতুস নৌ-ঘাঁটি ও হমেইমিম বিমানঘাঁটি। সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে টিকিয়ে রাখতে রুশ বাহিনী এই কেন্দ্রগুলোকে ব্যবহার করেছিল। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর গঠিত নতুন সিরীয় প্রশাসনের সঙ্গে এ ঘাঁটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়।

চুক্তির বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। সিরিয়ার জেনারেল অথরিটি ফর পোর্টস অ্যান্ড কাস্টমস এক আলাদা বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, তারতুস বন্দরের আগে রাশিয়ার অধীনে থাকা ৪ নম্বর জেটি, সংশ্লিষ্ট গুদামঘর ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর পূর্ণ দায়িত্ব এখন থেকে সিরিয়ার।

উল্লেখ্য, নৌ-ঘাঁটির বাইরের সুরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত এ ৪ নম্বর জেটিকে কেন্দ্র করে একটি বাণিজ্যিক লজিস্টিকস হাব গড়ে তুলতে চেয়েছিল মস্কো। তবে সমঝোতা অনুযায়ী, সেখানে যেকোনো ধরনের বাণিজ্য বা কার্যক্রম এখন থেকে সিরিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও প্রত্যক্ষ নজরদারিতেই পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সামরিক নির্ভরতা কাটিয়ে ঘাঁটিগুলোতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও বেসামরিক কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করল দামেস্ক।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/