শিরোনাম

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত ছাড়ালো ৩৫০০

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত ছাড়ালো ৩৫০০
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এক ভবনে উদ্ধার অভিযান

ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬ হাজার ৭৪০ জন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সোমবার দেশটির আইনপ্রণেতা জর্জ রদ্রিগেজ জানান, সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আর আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন আহত হয়েছেন। এতে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন অন্তত ১৭ হাজার ৮৫৪ জন।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় অঞ্চল কারাকাস ও লা গুয়াইরাজুড়ে ৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অন্তত ১২ হাজার ৮০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

এর আগে বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, প্রথম আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২। এর কেন্দ্র ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে। এর ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়, যার মাত্রা ছিল ৭.৫। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ভেনেজুয়েলার ইউমারে শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।

এটি ছিল গত ১২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

ভূমিকম্পে ভয়াবহতার মধ্যে দেশটিতে এখন নতুন করে স্বাস্থ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্লেষকরা। হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ভেনেজুয়েলার নাগরিক জনাকীর্ণ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অথবা খোলা আকাশের নিচে বিশুদ্ধ পানির সুবিধা ছাড়াই অবস্থান করছেন। অনেকেই চিকিৎসাবিহীন আঘাত এবং সংক্রামক রোগে ভুগছেন। বর্তমানে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

কারাকাসের হোসে গ্রেগোরিও হার্নান্দেজ হাসপাতালের ট্রমা ইউনিটের প্রধান ইউজেনিয়ো কোভা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দুর্যোগকবলিত পরিবেশে থাকা মানুষের মধ্যে অদূর ভবিষ্যতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে জীবিতদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে দেশি-বিদেশি সংস্থা। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহর লা গুয়াইরার অধিকাংশ ধসে পড়া ভবনে ‘ডি (ডিসিস্ট)’ চিহ্ন দিয়ে রাখা হয়েছে। এর অর্থ, সেখানে তল্লাশি চালিয়ে জীবিত কাউকে পাওয়া যায়নি।

সাধারণত এই ধরনের দুর্যোগের পর পরবর্তী তিন দিনই জীবিতদের খুঁজে বের করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। মানুষ পানি ছাড়া তিন দিনই বাঁচতে পারে। তবে এর মাঝেও অলৌকিক কিছু ঘটনা ঘটছে। ভূমিকম্পের ৮ দিন পর এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এটাকে অলৌকিক ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: আল জাজিরা

/জেএইচ/