ডিও লেটারে ওসি প্রত্যাহার, আবার আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

ডিও লেটারে ওসি প্রত্যাহার, আবার আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
সিজেডএন ডেস্ক

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। যোগদানের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নগর পুলিশের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) রাতে সিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়। আদেশে প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জানা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পাঠানো একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা দেয়। পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ওই ডিও লেটারের উল্লেখও রয়েছে।
সিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওসি শরীফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই করতে একজন উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ অধিশাখার উপসচিব নাসরিন সুলতানা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
উপসচিব নাসরিন সুলতানা অফিস আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী চিঠিটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত ১ জুলাই ডিও লেটারটি পাঠান। তিনি বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন থানার ওসিকে নিয়ে বগুড়ার একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর এমন উদ্যোগ পুলিশ প্রশাসনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ডিও লেটার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব মেলেনি। তাঁর সহকারী একান্ত সচিব তৌহিদুল ইসলাম টিটুও ফোন ধরেননি।
প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ তাসনিমুজ্জামান বলেন, অনেক ডিও লেটার পাঠানো হয়। এ ধরনের কোনো চিঠি পাঠানো হয়েছে কি না, তা তাঁর মনে নেই। বিষয়টি জানতে তিনি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
মুহাম্মদ শরীফ ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান। এর কিছুদিন পর আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট এক নেতার পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া এবং গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগে তিনি আলোচনায় আসেন। পরে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায় এবং নিহত শিশুর পরিবারকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মানববন্ধন হয়। কর্ণফুলী নদীকেন্দ্রিক চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া সিআইডিতে কর্মরত থাকাকালে বিদেশি মুদ্রা উদ্ধারসংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে অনিয়মের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর আদালত তাঁকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযোগ ছিল, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত যথাযথভাবে সংরক্ষণ বা আদালতে উপস্থাপন না করেই তিনি অভিযোগপত্র জমা দেন।
পরবর্তীতে তাকে কর্ণফুলী থানা থেকে সিএমপির বিশেষ শাখায় এবং পরে অ্যাস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখায় বদলি করা হয়। সর্বশেষ গত ১৮ জুন সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।
সিএমপির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, অতীতের নানা বিতর্ক সত্ত্বেও সম্প্রতি মুহাম্মদ শরীফ আবারও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন। বিভিন্ন থানায় ওসি পদায়ন নিয়েও তিনি পর্দার আড়াল থেকে প্রভাব বিস্তার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে একজন অতিরিক্ত ডিআইজির সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের বিষয়টিও পুলিশ প্রশাসনে আলোচিত ছিল।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুহাম্মদ শরীফ। তিনি বলেন, ‘আমি একজন ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তা। পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাকে ভুল বুঝেছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন।’

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। যোগদানের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নগর পুলিশের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) রাতে সিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়। আদেশে প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জানা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পাঠানো একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা দেয়। পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ওই ডিও লেটারের উল্লেখও রয়েছে।
সিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওসি শরীফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই করতে একজন উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ অধিশাখার উপসচিব নাসরিন সুলতানা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
উপসচিব নাসরিন সুলতানা অফিস আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী চিঠিটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত ১ জুলাই ডিও লেটারটি পাঠান। তিনি বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন থানার ওসিকে নিয়ে বগুড়ার একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর এমন উদ্যোগ পুলিশ প্রশাসনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ডিও লেটার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব মেলেনি। তাঁর সহকারী একান্ত সচিব তৌহিদুল ইসলাম টিটুও ফোন ধরেননি।
প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ তাসনিমুজ্জামান বলেন, অনেক ডিও লেটার পাঠানো হয়। এ ধরনের কোনো চিঠি পাঠানো হয়েছে কি না, তা তাঁর মনে নেই। বিষয়টি জানতে তিনি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
মুহাম্মদ শরীফ ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান। এর কিছুদিন পর আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট এক নেতার পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া এবং গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগে তিনি আলোচনায় আসেন। পরে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায় এবং নিহত শিশুর পরিবারকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মানববন্ধন হয়। কর্ণফুলী নদীকেন্দ্রিক চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া সিআইডিতে কর্মরত থাকাকালে বিদেশি মুদ্রা উদ্ধারসংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে অনিয়মের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর আদালত তাঁকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযোগ ছিল, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত যথাযথভাবে সংরক্ষণ বা আদালতে উপস্থাপন না করেই তিনি অভিযোগপত্র জমা দেন।
পরবর্তীতে তাকে কর্ণফুলী থানা থেকে সিএমপির বিশেষ শাখায় এবং পরে অ্যাস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখায় বদলি করা হয়। সর্বশেষ গত ১৮ জুন সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।
সিএমপির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, অতীতের নানা বিতর্ক সত্ত্বেও সম্প্রতি মুহাম্মদ শরীফ আবারও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন। বিভিন্ন থানায় ওসি পদায়ন নিয়েও তিনি পর্দার আড়াল থেকে প্রভাব বিস্তার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে একজন অতিরিক্ত ডিআইজির সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের বিষয়টিও পুলিশ প্রশাসনে আলোচিত ছিল।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুহাম্মদ শরীফ। তিনি বলেন, ‘আমি একজন ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তা। পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাকে ভুল বুঝেছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন।’

ডিও লেটারে ওসি প্রত্যাহার, আবার আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
সিজেডএন ডেস্ক

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। যোগদানের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নগর পুলিশের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) রাতে সিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়। আদেশে প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জানা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পাঠানো একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা দেয়। পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ওই ডিও লেটারের উল্লেখও রয়েছে।
সিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওসি শরীফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই করতে একজন উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ অধিশাখার উপসচিব নাসরিন সুলতানা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
উপসচিব নাসরিন সুলতানা অফিস আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী চিঠিটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত ১ জুলাই ডিও লেটারটি পাঠান। তিনি বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন থানার ওসিকে নিয়ে বগুড়ার একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর এমন উদ্যোগ পুলিশ প্রশাসনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ডিও লেটার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব মেলেনি। তাঁর সহকারী একান্ত সচিব তৌহিদুল ইসলাম টিটুও ফোন ধরেননি।
প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ তাসনিমুজ্জামান বলেন, অনেক ডিও লেটার পাঠানো হয়। এ ধরনের কোনো চিঠি পাঠানো হয়েছে কি না, তা তাঁর মনে নেই। বিষয়টি জানতে তিনি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
মুহাম্মদ শরীফ ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান। এর কিছুদিন পর আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট এক নেতার পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া এবং গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগে তিনি আলোচনায় আসেন। পরে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায় এবং নিহত শিশুর পরিবারকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মানববন্ধন হয়। কর্ণফুলী নদীকেন্দ্রিক চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া সিআইডিতে কর্মরত থাকাকালে বিদেশি মুদ্রা উদ্ধারসংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে অনিয়মের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর আদালত তাঁকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযোগ ছিল, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত যথাযথভাবে সংরক্ষণ বা আদালতে উপস্থাপন না করেই তিনি অভিযোগপত্র জমা দেন।
পরবর্তীতে তাকে কর্ণফুলী থানা থেকে সিএমপির বিশেষ শাখায় এবং পরে অ্যাস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখায় বদলি করা হয়। সর্বশেষ গত ১৮ জুন সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।
সিএমপির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, অতীতের নানা বিতর্ক সত্ত্বেও সম্প্রতি মুহাম্মদ শরীফ আবারও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন। বিভিন্ন থানায় ওসি পদায়ন নিয়েও তিনি পর্দার আড়াল থেকে প্রভাব বিস্তার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে একজন অতিরিক্ত ডিআইজির সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের বিষয়টিও পুলিশ প্রশাসনে আলোচিত ছিল।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুহাম্মদ শরীফ। তিনি বলেন, ‘আমি একজন ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তা। পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাকে ভুল বুঝেছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন।’




