শিরোনাম

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে যে বিষয়গুলো ভূমিকা রেখেছে

সিটিজেন ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে যে বিষয়গুলো ভূমিকা রেখেছে
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নেতা-কর্মীরা বিজয় উদযাপন করছেন। ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো জয় পেতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফল জানা না গেলেও ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির দল সরকার গড়তে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে মুখ্যোমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটলো।

প্রগতিশীল সমাজ ও বাম রাজনীতির আতুড়ঘর খ্যাত এ রাজ্যে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির এ অভাবনীয় জয় বিস্মিত করেছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে এ জয়ের পিছনে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র যেসব বিষয় ভূমিকা রেখেছে তা চিহ্নিত করেছেন। তাদের মতে যে ৫ টি কারণ রয়েছে-

১. নারী ভোট

কেন্দ্রে এনডিএ সরকারের নারী সংরক্ষণ বিলের উদ্যোগ নারী ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিরোধী দলগুলো ‘নারীবিরোধী’ বিজেপির এমন প্রচার সাধারণ মানুষের মনে সাড়া ফেলেছে। দলের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে বিজেপির পক্ষে নারী ভোট অন্তত ৫ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান।

২. সরকারি কর্মীদের মন জয়

সরকারি কর্মচারীদের ‘অধিকার হরণের’ অভিযোগ ঘিরে থাকা ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েছে বিজেপি। ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর এবং শূন্যপদ পূরণের প্রতিশ্রুতি সরকারি কর্মচারী ও চাকরিপ্রার্থীদের আকৃষ্ট করেছে। এটি প্রায় ২০ থেকে ৫০ লাখ ভোটারের ওপর প্রভাব ফেলেছে। উল্লেখ্য, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিজীবী ভোটারের সংখ্যা বেশি।

৩. কেন্দ্র-নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন

‘মোদি বনাম মমতা’ প্রচারই এবারের নির্বাচনে বাজিমাত করেছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়া এবং পরিকাঠামোর অভাবকে হাতিয়ার করেছিল বিজেপি। রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক ডজনের বেশি জনসভার প্রতিশ্রুতি মধ্যবিত্ত ও তরুণ ভোটারদের (২০-২৯ বছর বয়সী ১.৩১ কোটি ভোটার) ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছে।

৪. নিরাপত্তা, বাহিনী মোতায়েন ও সরকারবিরোধী ক্ষোভ

রাজনৈতিক হিংসাপ্রবণ এই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন সাধারণ ভোটারদের মনে সাহস জুগিয়েছে। তা ছাড়া আর জি কর কাণ্ডসহ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচার শাসক দলের বিরুদ্ধে বড় প্রভাব ফেলেছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের নিরলস প্রচারও ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

৫. ভোটার তালিকা সংশোধন ও বহিরাগত ইস্যু

ভোটার তালিকা থেকে ‘বহিরাগত’ বা ভুয়া ভোটারদের বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজেপি সফল হয়েছিল। ‘যৌক্তিক অসংগতি’র ভিত্তিতে ২৭ লাখের বেশি নাম বাদ দেওয়া পড়ে ভোটার তালিকা থেকে। ভোটার তালিকা ‘স্বচ্ছ’ করতে বিজেপির এই প্রচার ভোটেও প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে অভাবনীয় সাফল্যের প্রেক্ষিতে রাজ্যের অগণিত দলীয় কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলার মাটিতে দলের এই জয়ী যাত্রাকে তিনি কয়েক প্রজন্মের কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মত্যাগের ফসল হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সোমবার (৪ মে) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই রেকর্ড সৃষ্টিকারী বিজয় কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে অগণিত কর্মীদের নিরলস সংগ্রাম ও প্রচেষ্টার ফল। তিনি অত্যন্ত বিনম্রতার সঙ্গে বাংলার সেই সমস্ত নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের স্যালুট জানান, যারা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আদর্শের পথ থেকে বিচ্যুত হননি।

মোদি আরও উল্লেখ করেন, বাংলার কর্মীরা বছরের পর বছর ধরে তৃণমূল স্তরে কাজ করেছেন এবং সমস্ত ধরণের বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূলতাকে জয় করে জনগণের কাছে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্বীকার করেন, এই কর্মীরাই দলের আসল শক্তি। তাদের এই সুদীর্ঘ লড়াই এবং মাঠপর্যায়ের কর্মতৎপরতা না থাকলে আজকের এই ঐতিহাসিক জয় সম্ভব হতো না বলে তিনি মনে করেন।

বিজেপির এই সাফল্যে বাংলার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কর্মীদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই জয় আসলে সাধারণ মানুষের উন্নয়ন এবং এক নতুন পশ্চিমবঙ্গ গড়ার লক্ষ্যের প্রতি কর্মীদের অটল আস্থার জয়। অবশেষে, তিনি বাংলার কর্মীদের এই উদ্দীপনা ধরে রেখে আগামী দিনেও রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে নিয়োজিত থাকার আহ্বান জানান।

/এমআর/