শিরোনাম

এশিয়ায় বাড়ছে এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
এশিয়ায় বাড়ছে এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ
গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

সারা বিশ্বে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। গ্যাস আমদানির পর তা প্রক্রিয়াজাত করতে অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। আর এ খাতে বিনোয়োগে সবচেয়ে এগিয়ে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ।

জলবায়ু নীতি, বিদ্যুৎতায়ন ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রার চাপের মুখে বিশ্বজুড়ে তেল ও কয়লার ব্যবহার কমে আসছে। এই পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পাইপলাইন এবং আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রক্রিয়াজাত করতে অবকাঠামো নির্মাণে বেশি বিনিয়োগ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের (জিইএম) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে চালু থাকা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার সবচেয়ে বড় অংশ এশিয়ায়। অঞ্চলটিতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মেগাওয়াট। আমেরিকায় এ ক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার মেগাওয়াট এবং ইউরোপে প্রায় ৩ লাখ ৬৬ হাজার মেগাওয়াট।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পাইপলাইন নির্মাণে এগিয়ে এশিয়া

শুধু উৎপাদন সক্ষমতাই নয়, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেও এশিয়া অন্য অঞ্চলগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে। এশিয়ায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন। অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় এই পরিমাণ তিন গুণেরও বেশি।

দেশভিত্তিক হিসাবে বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সক্ষমতা প্রায় ৫ লাখ ৬২ হাজার মেগাওয়াট। অন্যদিকে নির্মাণাধীন সক্ষমতার দিক থেকে এগিয়ে চীন।

গ্যাস সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পাইপলাইন নির্মাণেও গুরুত্ব্ বাড়ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার কিলোমিটার গ্যাস পাইপলাইন চালু রয়েছে। এশিয়ায় চালু পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ লাখ ৮১ হাজার কিলোমিটার এবং ইউরোপে প্রায় ২ লাখ ৬২ হাজার ৬৮০ কিলোমিটার।

তবে নতুন পাইপলাইন নির্মাণে আবারও এগিয়ে এশিয়া। অঞ্চলটিতে প্রায় ৫৬ হাজার কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণাধীন। এর মধ্যে চীনে প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার এবং ভারতে প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ হচ্ছে।

এলএনজি আমদানির বড় বাজার এশিয়া

এলএনজি আমদানিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজার এশিয়া। বর্তমানে বিশ্বের চালু এলএনজি আমদানি সক্ষমতার ৬৬ শতাংশের বেশি এশিয়ায়। নির্মাণাধীন আমদানি সক্ষমতার ক্ষেত্রেও এশিয়ার অংশ প্রায় ৭০ শতাংশ।

দেশ হিসেবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি এলএনজি আমদানি করে তা প্রক্রিয়াজাত অবকাঠামো রয়েছে জাপানে। দেশটির বার্ষিক আমদানি সক্ষমতা প্রায় ২৪ কোটি ২০ লাখ টন। তবে নতুন অবকাঠামো নির্মাণে চীন অনেক এগিয়ে। দেশটিতে প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ টন বার্ষিক এলএনজি আমদানি সক্ষমতা নির্মাণাধীন।

রপ্তানিতেও এশিয়ার গুরুত্ব বাড়ছে

বিশ্বের শীর্ষ গ্যাস উৎপাদনকারী এবং বর্তমানে সবচেয়ে বেশি এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তবে গ্যাস রপ্তানিতে অঞ্চল হিসেবে এশিয়া এগিয়ে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এলএনজি রপ্তানি অবকাঠামো এশিয়ার অবস্থান শক্তিশালী করেছে।

এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার নতুন অবকাঠামো নির্মাণেও যুক্তরাষ্ট্র বড় বিনিয়োগ করছে। জিইএমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি টন বার্ষিক রপ্তানি সক্ষমতার এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণাধীন।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পাইপলাইন ও এলএনজি টার্মিনালের মতো জ্বালানি অবকাঠামো সাধারণত দীর্ঘদিন ব্যবহৃত হয়। ফলে যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন চালু আছে এবং যেগুলো নির্মাণাধীন সেগুলোর ভবিষ্যতের বৈশ্বিক জ্বালানির চাহিদা মেটাতে প্রাকৃতিক গ্যাস অবশ্যই প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করবে।

/বিবি/