শিরোনাম

ঘূর্ণিঝড় নারার তাণ্ডবে চীন-ভিয়েতনামে বন্যা, ঘরছাড়া হাজারো মানুষ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ঘূর্ণিঝড় নারার তাণ্ডবে চীন-ভিয়েতনামে বন্যা, ঘরছাড়া হাজারো মানুষ
চীনের গুয়াংজিতে টাইফুন নারার কারণে বন্যার পর উদ্ধারকর্মীরা নৌকায় করে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছেন। ছবি: রয়টার্স

সামুদ্রিক ঝড় ‘নারা’ স্থলভাগে আঘাত না হানলেও এর প্রভাবে টানা বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তর ভিয়েতনাম এবং চীনের গুয়াংজি প্রদেশ। বৃষ্টিতে নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে ডুবে গেছে ঘরবাড়ি ও বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নেওয়ায় চীনের গুয়াংজি থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫৪ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজারের বেশি মানুষ ঠাঁই পেয়েছেন জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে।

ঝড়ের ধাক্কায় উত্তর ভিয়েতনামেও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে সেখানে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ৪ হাজার ৩ শতাধিক পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, নারা আপাতত বেইবু বা টঙ্কিন উপসাগরের ওপর অবস্থান করছে। এটি সরাসরি উপকূলে আছড়ে না পড়লেও এর প্রভাবে উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ভিয়েতনামের লাং সন এবং কাও বাং প্রদেশে ২৩৬ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ভিয়েতনামের কুয়াং নিন প্রদেশও। শহরের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সেখানকার পর্যটন, পরিবহন ও মৎস্য আহরণ পুরোপুরি থমকে গেছে। ঝড়ের কারণে বন্ধ রাখতে হয়েছে স্কুল ও অফিস-আদালত। এছাড়া বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৫৫ হাজার পরিবার। একই সঙ্গে পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান ও অন্যান্য ফসল।

চীনেও পরিস্থিতি বেশ জটিল। দেশটির অন্তত ১৫টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঘোলা পানিতে ঢেকে গেছে চংজুও শহরের পথঘাট ও নিচু ভবন। কোথাও হাঁটু-সমান পানি ভেঙে, আবার কোথাও নৌকা নিয়ে আটকে পড়া বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, গুয়াংজি, গুয়াংডং, হাইনান ও ফুজিয়ান প্রদেশে বুধবার (২৬ আগস্ট) পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/