শিরোনাম

নেপালে সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৪৬ জনের বেঁচে থাকার আশা

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
নেপালে সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৪৬ জনের বেঁচে থাকার আশা
সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছে নেপাল সেনাবাহিনী

হিমবাহধসে নেপালের পাহাড়ি উপত্যকাগুলো লণ্ডভণ্ড হওয়ার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কাদা ও পাথরের তোড়ে ভেসে গেছে বহু গ্রাম, সেতু ও একের পর এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। চারপাশে শুধু ধ্বংসের ছাপ, কিন্তু এর মধ্যেই সুড়ঙ্গের নিচে জমে থাকা বাতাস বা ‘এয়ার পকেটে’ ভর করে জীবনযুদ্ধের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। কাদা-পানিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া অন্ধকূপের ভেতরে এখনো কয়েক ডজন শ্রমিক জীবিত আছেন- এমন প্রত্যাশা নিয়েই চলছে রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান।

দুর্যোগের ৯ দিন পর সম্প্রতি ত্রিশূলী-৩ এ সুড়ঙ্গ থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। যদিও তাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবে এ ঘটনা উদ্ধারকারীদের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে। তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ভূগর্ভস্থ কক্ষে এখনো অন্তত ৪৬ জন শ্রমিক আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির বোর্ড সদস্য অংশু কিরণ শাহি বলেন, ‘এক সপ্তাহ পরও তারা বেঁচে আছেন বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী। কারণ, ওই ভবনের ভেতরে তাদের জন্য খাবার ও পানি ছিল।’

নেপালে ভয়াবহ বন্যার ধ্বংসচিত্র
নেপালে ভয়াবহ বন্যার ধ্বংসচিত্র

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে এখনও অন্তত ৬৩৯ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাস থাকার কারণে রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং আপার ত্রিশুলি ৩এ প্রকল্পে জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

তবে দিন যত গড়াচ্ছে, সুড়ঙ্গের বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের হাহাকার তত বাড়ছে। সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ভাইয়ের অপেক্ষায় থাকা ষাটোর্ধ্ব দুর্গা গুরুং বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা শুধু সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করছি।’ উদ্ধার কাজের তথ্যে অস্পষ্টতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের কেউ আমাদের কিছুই বলেনি। অনেক দিন পার হয়ে গেছে। এখন এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে, অলৌকিক কোনো ঘটনা ছাড়া আমাদের আর কোনো আশা নেই।’ দুর্গা আরও যোগ করেন, ‘আমাদের স্বজনেরা অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভেতরে বসে আছেন। তারা আর কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারবেন?’

বর্তমানে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। দুর্গম এলাকা হওয়ায় বহু স্থানে শুধু হেলিকপ্টার দিয়েই পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। ভারতীয়, চীনা, দক্ষিণ কোরীয় ও অস্ট্রেলীয় বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের মুখ খোলার চেষ্টা চলছে।

সুড়ঙ্গ থেকে একজনকে উদ্ধার করে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা
সুড়ঙ্গ থেকে একজনকে উদ্ধার করে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, ‘আমরা আশা করছি সেখানে জীবিত মানুষ পাওয়া যাবে। কারণ, আমাদের জানানো হয়েছে, সুড়ঙ্গের ভেতরে একটি শুকনা জায়গা আছে। এখন আমরা সুড়ঙ্গে প্রবেশের পথ তৈরি করার চেষ্টা করছি।’

ভয়াবহ এ দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৫২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে এবং চার হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপে জমেছে প্রায় ২২ লাখ টন কাদা ও পাথর। ১১টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশের ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এ ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কয়েকশ কোটি ডলার লেগে যেতে পারে। সমস্ত প্রতিকূলতা ঠেলে সুড়ঙ্গের অন্ধকারে জীবনের স্পন্দন খুঁজে পেতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এমএকে/