শিরোনাম

বিদেশি ড্রোনে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
বিদেশি ড্রোনে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের
প্রতীকী ছবি ও ইনসেটে ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোলাজ: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ড্রোন শিল্পের ভিত শক্ত করতে ও চীনের ওপর প্রযুক্তিগত নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বিদেশি তৈরি ড্রোন ও এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ড্রোন প্রযুক্তিতে বেইজিংয়ের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। সেই ঝুঁকি সামলাতেই শুল্ক বাড়ানোর এ সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দেশে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিমালার আওতায় ২৫ কেজির চেয়ে ভারী কিংবা থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ড্রোনের ক্ষেত্রে শতভাগ শুল্ক কার্যকর হবে। এসব উচ্চপ্রযুক্তির ড্রোন মূলত দাবানল পর্যবেক্ষণ, নিখোঁজ মানুষের সন্ধান কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হয়, যার বড় একটি অংশই চীনে তৈরি। তবে তুলনামূলক ছোট ও কম প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোনে শুল্ক ধরা হয়েছে ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোর জন্য কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও তাইওয়ান থেকে আসা ড্রোন ও যন্ত্রাংশে ১৫ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক ড্রোনের বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে চীনা প্রতিষ্ঠান ডিজেআই। বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক ড্রোনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি যোগান দেয় শেনজেনভিত্তিক এ টেক-জায়ান্ট। সরকারের এমন কঠোর সিদ্ধান্তে এখন বিপাকে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ব্যবহারকারীরা। তাদের মতে, আমেরিকায় এখনও চীনা ড্রোনের পর্যাপ্ত বিকল্প তৈরি হয়নি। ফলে রাতারাতি শুল্ক বাড়ায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, উদ্ধারকারী দল থেকে শুরু করে নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ীদের ড্রোন ব্যবহারের খরচ একলাফে অনেক বেড়ে যাবে।

মার্কিন সরকারের এ কড়া পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চীন। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত অবাধ প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করবে এবং বৈশ্বিক ড্রোন সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাবে। এর মধ্যেই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি)। তারা বিদেশি ড্রোনের নতুন কিছু মডেলের বিক্রির ওপর আরও নতুন বিধিনিষেধ আনার পরিকল্পনা করছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

/এমএকে/