শিরোনাম

শিমের কেজি ১৬০ টাকা, দাম বেড়েছে পাঙাশেও

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শিমের কেজি ১৬০ টাকা, দাম বেড়েছে পাঙাশেও
শিম ও পাঙাশ মাছ। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর কাঁচাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ বাড়ায় পটল, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, ঝিঙে, জালি ও পেঁপেসহ বেশ কয়েকটি সবজির দাম কমেছে। তবে শিমের দাম ২০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঙাশের দামও বাড়তি। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে সোনালি মুরগি, গরু ও খাসির মাংসের দাম।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে রাজধানীর শ্যামবাজার ও সূত্রাপুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

সবজির বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, গত সপ্তাহেও যা ছিলো ১৪০ টাকা। গাজর কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল ৫০ টাকা, বরবটি ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব সবজির দাম ১০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে করলা ৬০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, ঢেড়শ ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ টাকা ও কচুর মুখি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহে চেয়ে শিম ২০ টাকা বেশি দরে শিম বিক্রি করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে কিছু সবজির সরবরাহ কমে যায়, এতে দামও বেড়ে যায়।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, শিং মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহে যা ছিল ৩২০ টাকা। পাবদা ৩২০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৩০০ টাকা। আর পাঙাস ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহে যা ছিল ১৬০ টাকা। এছাড়া পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ছিল ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা।

তেলাপিয়া কেজি প্রতি ১৮০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা, কাতলা ৩৫০ টাকা, আইর ৪৫০ টাকা, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা শাখাওয়াত বলেন, বৃষ্টি হওয়ার কারণে মাছের দাম বেড়েছে। পাঙাশ মাছের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে কেজি ২০ টাকা বেশি। তবুও বিক্রি ভালোই হচ্ছে।

তেলের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০৫ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পামওয়েল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। যদিও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার, তবে নতুন বোতলজাত তেল আসেনি বলে জানান বিক্রেতারা।

এদিকে মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৫০ টাকা ও মুগডাল ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২ কেজির তীর আটা ১১৫ টাকা ও পুষ্টি আটা ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি প্যাকেটে ৫ টাকা করে বেড়েছে। আর চিনি আগের চেয়ে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি কেজি ১১০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বাসমতী চাল প্রতি কেজি ৯০ টাকা, জিরা নাজির ৮০ টাকা, আটাশ ৭৫ টাকা, চাউল চিনিগুড়া ৮০ টাকা, মিনিকেট ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পোলাও চাল ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা।

ক্রেতা সিফাত বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ দ্রব্যমূলের উর্ধ্বগতিতে বিপর্যস্ত। সরকারের প্রতি আহ্বান থাকবে সিন্ডিকেট ভেঙে বাজার মনিটরিং করুক।

চালের দোকানী মাসুদ বলেন, মিনিকেট চালের দাম অনেক দিন ধরে স্বাভাবিক থাকলেও পোলাও চালের দাম অনেক বেশি। প্যাকেটের পোলাও চাল দাম বেশি হওয়ায় আমার মতো অনেক দোকানদার রাখে না।

মাংসের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহে যা ছিল ১৯০ টাকা। সোনালি মুরগির দাম ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহে একই ছিল। এছাড়া খাসির মাংস প্রতি কেজি ১২০০ টাকা ও গরুর মাংস ৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহেও দাম একই ছিল।

দোকানি ওয়াসিম বলেন, ‘বাজারে বেশিরভাগ পণ্যের দাম বাড়তি। তাই ক্রেতা জিনিসপত্র কম কিনছে। আগের চেয়ে বিক্রি কম হচ্ছে।’

এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল ঘোষণার প্রভাব বাজারে এখনো পড়েনি বলে জানান ক্রেতা ও বিক্রেতারা। তবে তাদের আশঙ্কা করছেন খুব শীঘ্রই এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়তে পারে।

/জেএইচ/