শিরোনাম

পাতায়া ছেড়ে গেল মার্কিন রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
পাতায়া ছেড়ে গেল মার্কিন রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’
মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’

পাঁচ দিনের সংক্ষিপ্ত সফর ও বিশ্রাম শেষে থাইল্যান্ডের পাতায়া ছেড়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর সুবিশাল বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও সেনাসদস্য নিয়ে ‘লেম চাবাং’ বন্দর থেকে নোঙর তোলে জাহাজটি। তবে পাতায়া ছাড়ার পর এটি কোন গন্তব্যে রওনা হয়েছে, সে বিষয়ে মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালনের ক্লান্তি কাটাতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থাইল্যান্ডের উপকূলবর্তী এ পর্যটন শহরে এসে পৌঁছেছিল মার্কিন সেনাদল। থাইল্যান্ডে এখন পর্যটনের মন্দা মৌসুম বা ‘অফ-সিজন’ চলায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা সদস্যের আগমন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। সমুদ্রসৈকত ও জমজমাট নৈশজীবনের জন্য খ্যাত পাতায়ায় ছুটি কাটাতে এসে কেনাকাটা ও ঘোরাঘুরিতে মেতে ওঠেন সেনারা। পাতায়ার মেয়র পোরামাস এনগাম্পিচেস জানান, ছুটির এ কয়েক দিনে মার্কিন সেনারা স্থানীয় বাজারে আনুমানিক ১০ কোটি বাথ (প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার) ব্যয় করেছেন।

আইনপ্রণেতাদের সাম্প্রতিক এক খবরে জানা যায়, মোতায়েন থাকা অবস্থায় রণতরীটিতে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছিল। সেই ঘাটতি মেটাতে নাবিকরা স্থানীয় বাজার থেকে বিপুল পরিমাণে টুথপেস্ট ও সাবানের মতো প্রসাধনসামগ্রী কেনেন। এটি থেকে শহরের ব্যবসায়ীরা আরও কয়েক মিলিয়ন বাথ আয় করেছেন। দূরে থাকা স্বজনদের জন্য স্থানীয় দোকানগুলো থেকে প্রচুর উপহার সামগ্রীও কিনেছেন তারা।

সেনাদের আগমনকে কেন্দ্র করে পাতায়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। শহরের যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধেও পুলিশ আগেই কঠোর পদক্ষেপ নেয়। যদিও মেয়র দাবি করেছেন এর সঙ্গে মার্কিন সেনাদের সফরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বহুল আলোচিত এ সফরে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই মিশন শেষ হয়েছে। পাতায়ার নৈশজীবনের মূল কেন্দ্র ‘ওয়াকিং স্ট্রিট’-এ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে মদ্যপ অবস্থায় দু'জন নাবিকের ঝগড়ায় জড়ানো ছাড়া আর কোনো বাজে ঘটনা ঘটেনি। থাইল্যান্ড পুলিশের পক্ষ থেকে পাতায়ার পুলিশ প্রধান আনেক স্রাথংইউ বলেন, সবকিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে টানা দায়িত্ব পালনের সময় জাহাজটিতে খাদ্যসংকট, খারাপ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য অবক্ষয়ের খবর নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা বিষয়টি তদন্তের দাবি জানালেও ডোনাল্ড ট্রাম্প তা উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে এসব ঘটনা ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অবস্থানের সমালোচনা বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে এ যুদ্ধজাহাজটির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/