কুবিতে র্যাগিং ইস্যুতে দুই পক্ষের আপস, অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন

কুবিতে র্যাগিং ইস্যুতে দুই পক্ষের আপস, অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন
কুবি সংবাদদাতা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলে র্যাগিংয়ের অভিযোগকারী অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আমির হোসেন অভিযোগটি প্রত্যাহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে আপসনামা হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিমের কাছে আপসনামাটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উভয় পক্ষের স্বাক্ষরিত আপসনামাটি প্রক্টর বরাবর জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অফিস সময় শেষ হওয়ায় তা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, গত ২০ আগস্ট অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেন প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দেন। এতে একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ, মো. হাসান ও সরোয়ার হাসান রিয়াদের বিরুদ্ধে রাতভর র্যাগিংয়ের অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ঘটনাও ঘটে।
পরবর্তীতে অভিযোগপত্রের সঙ্গে উভয় পক্ষের স্বাক্ষরযুক্ত একটি আপসনামা জমা দেওয়া হয়। আপসনামায় অভিযোগকারী আমির হোসেন উল্লেখ করেন, ‘আমি উক্ত ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং আমার আচরণের কারণে অন্তু ভাই, রিয়াদ ভাই ও হাসান ভাই যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন, তার জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
আপসনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের কেউ পরস্পরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বিরূপ আচরণ, হয়রানি, হুমকি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন না। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে শিক্ষক ও বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়ে আমির হোসেন বলেন, ‘বিভাগীয় প্রধানের হস্তক্ষেপে দুই পক্ষ একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করেছি। যেহেতু এটি একই বিভাগের সিনিয়র-জুনিয়রের ঘটনা, তাই আমি আর বিষয়টি বড় করতে চাইছি না। প্রক্টর বরাবর করা অভিযোগটি প্রত্যাহারের জন্যও আবেদন করেছি।’
এ ব্যাপারে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ বলেন, ‘অভিযোগকারী শিক্ষার্থী আমির হোসেন আমার একই বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় বিভাগের শ্রদ্ধেয় বিভাগীয় প্রধান এবং ছাত্র উপদেষ্টা মহোদয় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে তাদের নির্দেশনায় বিভাগীয় প্রধান, ছাত্র উপদেষ্টা এবং সিনিয়রদের উপস্থিতিতে আমরা একটি আলোচনা সভায় বসি।’
তিনি আরও বলেন, ‘উক্ত আলোচনায় আমির হোসেন নিজের ভুল স্বীকার করে নেয়। সে স্বীকার করে যে, পূর্বে তার বিরুদ্ধে ওঠা হুমকির অভিযোগকে ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যেই সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছিল। একই সঙ্গে সে তার এমন কর্মকাণ্ডের জন্য লিখিত ও মৌখিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং তার একাডেমিক জীবন যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে কথা চিন্তা করে আমরা বিষয়টি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে আপসে সম্মত হই।’
তবে আমিরের বিরুদ্ধে করা জিডি প্রত্যাহারের বিষয়ে অন্তু দাশ বলেন, ‘আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে আমাদের আপসের সিদ্ধান্ত জানিয়েছি। তবে এই মুহূর্তে জিডি প্রত্যাহার করছি না। বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য আরও কিছু সময় নিতে চাই। ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ নিরাপদ বোধ করলে জিডিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেব।’
অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, ‘দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর তারা বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান করে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।’
প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘তাদের আবেদনপত্র পেয়েছি। উভয় পক্ষ আপসনামা জমা দিয়েছে। তারা নিজেদের ভুলত্রুটি স্বীকার করে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করবে না বলে জানিয়েছে। পরবর্তীতে কোনো অভিযোগ করা হলে প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা তারা মেনে নেবে।’
উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট রাতে বিজয়-২৪ হলের একটি কক্ষে আমির হোসেনকে রাতভর র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। পরে গত ২০ আগস্ট তিনি প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। একই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা আমিরের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ এনে থানায় জিডি করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলে র্যাগিংয়ের অভিযোগকারী অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আমির হোসেন অভিযোগটি প্রত্যাহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে আপসনামা হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিমের কাছে আপসনামাটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উভয় পক্ষের স্বাক্ষরিত আপসনামাটি প্রক্টর বরাবর জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অফিস সময় শেষ হওয়ায় তা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, গত ২০ আগস্ট অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেন প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দেন। এতে একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ, মো. হাসান ও সরোয়ার হাসান রিয়াদের বিরুদ্ধে রাতভর র্যাগিংয়ের অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ঘটনাও ঘটে।
পরবর্তীতে অভিযোগপত্রের সঙ্গে উভয় পক্ষের স্বাক্ষরযুক্ত একটি আপসনামা জমা দেওয়া হয়। আপসনামায় অভিযোগকারী আমির হোসেন উল্লেখ করেন, ‘আমি উক্ত ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং আমার আচরণের কারণে অন্তু ভাই, রিয়াদ ভাই ও হাসান ভাই যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন, তার জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
আপসনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের কেউ পরস্পরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বিরূপ আচরণ, হয়রানি, হুমকি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন না। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে শিক্ষক ও বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়ে আমির হোসেন বলেন, ‘বিভাগীয় প্রধানের হস্তক্ষেপে দুই পক্ষ একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করেছি। যেহেতু এটি একই বিভাগের সিনিয়র-জুনিয়রের ঘটনা, তাই আমি আর বিষয়টি বড় করতে চাইছি না। প্রক্টর বরাবর করা অভিযোগটি প্রত্যাহারের জন্যও আবেদন করেছি।’
এ ব্যাপারে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ বলেন, ‘অভিযোগকারী শিক্ষার্থী আমির হোসেন আমার একই বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় বিভাগের শ্রদ্ধেয় বিভাগীয় প্রধান এবং ছাত্র উপদেষ্টা মহোদয় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে তাদের নির্দেশনায় বিভাগীয় প্রধান, ছাত্র উপদেষ্টা এবং সিনিয়রদের উপস্থিতিতে আমরা একটি আলোচনা সভায় বসি।’
তিনি আরও বলেন, ‘উক্ত আলোচনায় আমির হোসেন নিজের ভুল স্বীকার করে নেয়। সে স্বীকার করে যে, পূর্বে তার বিরুদ্ধে ওঠা হুমকির অভিযোগকে ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যেই সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছিল। একই সঙ্গে সে তার এমন কর্মকাণ্ডের জন্য লিখিত ও মৌখিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং তার একাডেমিক জীবন যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে কথা চিন্তা করে আমরা বিষয়টি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে আপসে সম্মত হই।’
তবে আমিরের বিরুদ্ধে করা জিডি প্রত্যাহারের বিষয়ে অন্তু দাশ বলেন, ‘আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে আমাদের আপসের সিদ্ধান্ত জানিয়েছি। তবে এই মুহূর্তে জিডি প্রত্যাহার করছি না। বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য আরও কিছু সময় নিতে চাই। ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ নিরাপদ বোধ করলে জিডিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেব।’
অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, ‘দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর তারা বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান করে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।’
প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘তাদের আবেদনপত্র পেয়েছি। উভয় পক্ষ আপসনামা জমা দিয়েছে। তারা নিজেদের ভুলত্রুটি স্বীকার করে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করবে না বলে জানিয়েছে। পরবর্তীতে কোনো অভিযোগ করা হলে প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা তারা মেনে নেবে।’
উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট রাতে বিজয়-২৪ হলের একটি কক্ষে আমির হোসেনকে রাতভর র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। পরে গত ২০ আগস্ট তিনি প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। একই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা আমিরের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ এনে থানায় জিডি করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কুবিতে র্যাগিং ইস্যুতে দুই পক্ষের আপস, অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন
কুবি সংবাদদাতা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলে র্যাগিংয়ের অভিযোগকারী অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আমির হোসেন অভিযোগটি প্রত্যাহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে আপসনামা হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিমের কাছে আপসনামাটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উভয় পক্ষের স্বাক্ষরিত আপসনামাটি প্রক্টর বরাবর জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অফিস সময় শেষ হওয়ায় তা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, গত ২০ আগস্ট অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেন প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দেন। এতে একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ, মো. হাসান ও সরোয়ার হাসান রিয়াদের বিরুদ্ধে রাতভর র্যাগিংয়ের অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ঘটনাও ঘটে।
পরবর্তীতে অভিযোগপত্রের সঙ্গে উভয় পক্ষের স্বাক্ষরযুক্ত একটি আপসনামা জমা দেওয়া হয়। আপসনামায় অভিযোগকারী আমির হোসেন উল্লেখ করেন, ‘আমি উক্ত ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং আমার আচরণের কারণে অন্তু ভাই, রিয়াদ ভাই ও হাসান ভাই যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন, তার জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
আপসনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের কেউ পরস্পরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বিরূপ আচরণ, হয়রানি, হুমকি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন না। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে শিক্ষক ও বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়ে আমির হোসেন বলেন, ‘বিভাগীয় প্রধানের হস্তক্ষেপে দুই পক্ষ একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করেছি। যেহেতু এটি একই বিভাগের সিনিয়র-জুনিয়রের ঘটনা, তাই আমি আর বিষয়টি বড় করতে চাইছি না। প্রক্টর বরাবর করা অভিযোগটি প্রত্যাহারের জন্যও আবেদন করেছি।’
এ ব্যাপারে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ বলেন, ‘অভিযোগকারী শিক্ষার্থী আমির হোসেন আমার একই বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় বিভাগের শ্রদ্ধেয় বিভাগীয় প্রধান এবং ছাত্র উপদেষ্টা মহোদয় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে তাদের নির্দেশনায় বিভাগীয় প্রধান, ছাত্র উপদেষ্টা এবং সিনিয়রদের উপস্থিতিতে আমরা একটি আলোচনা সভায় বসি।’
তিনি আরও বলেন, ‘উক্ত আলোচনায় আমির হোসেন নিজের ভুল স্বীকার করে নেয়। সে স্বীকার করে যে, পূর্বে তার বিরুদ্ধে ওঠা হুমকির অভিযোগকে ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যেই সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছিল। একই সঙ্গে সে তার এমন কর্মকাণ্ডের জন্য লিখিত ও মৌখিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং তার একাডেমিক জীবন যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে কথা চিন্তা করে আমরা বিষয়টি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে আপসে সম্মত হই।’
তবে আমিরের বিরুদ্ধে করা জিডি প্রত্যাহারের বিষয়ে অন্তু দাশ বলেন, ‘আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে আমাদের আপসের সিদ্ধান্ত জানিয়েছি। তবে এই মুহূর্তে জিডি প্রত্যাহার করছি না। বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য আরও কিছু সময় নিতে চাই। ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ নিরাপদ বোধ করলে জিডিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেব।’
অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, ‘দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর তারা বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান করে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।’
প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘তাদের আবেদনপত্র পেয়েছি। উভয় পক্ষ আপসনামা জমা দিয়েছে। তারা নিজেদের ভুলত্রুটি স্বীকার করে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করবে না বলে জানিয়েছে। পরবর্তীতে কোনো অভিযোগ করা হলে প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা তারা মেনে নেবে।’
উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট রাতে বিজয়-২৪ হলের একটি কক্ষে আমির হোসেনকে রাতভর র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। পরে গত ২০ আগস্ট তিনি প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। একই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা আমিরের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ এনে থানায় জিডি করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।









