নিখোঁজ সন্তানের খোঁজে ঝরছে চোখের জল

নিখোঁজ সন্তানের খোঁজে ঝরছে চোখের জল
মেহেদী হাছান মাহীম

সন্তান হারানোর বেদনায় প্রতিটি দিনই যেন কাটছে চোখের জলে। নিখোঁজ সন্তানের খোঁজে বাবা-মায়ের অপেক্ষার যেন শেষ নেই। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও প্রিয় সন্তান একদিন ফিরে আসবে—এই আশায় পথ চেয়ে থাকেন তারা।
ঘরের কোণে পড়ে থাকা সন্তানের জামাকাপড়, ফেলে যাওয়া স্মৃতি কিংবা পথে দেখা প্রতিটি অচেনা মুখের মধ্যে যেন সন্তানকে খুঁজে ফেরেন তারা। সন্তান কোথায়—এই একটি প্রশ্নই থমকে দিয়েছে তাদের স্বাভাবিক জীবন। নিখোঁজ সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি, উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘ অপেক্ষাই হয়ে উঠেছে তাদের প্রতিদিনের নির্মম বাস্তবতা।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ জন শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হলেও এখনো ২ হাজার ৩৮ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে।
আজ থেকে ৩ হাজার ১৫০ দিন আগে, ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি রাজধানীর লালবাগ থেকে নিখোঁজ হয় ৮ বছর বয়সি শিশু সকাল। আদরের সন্তানকে হারিয়ে সেই থেকে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তার বাবা-মা। চারদিকে খোঁজাখুঁজির পর লালবাগ থানায় জিডি করেন সকালের বাবা ইসমাঈল হাসান।
শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রশাসনের কাছ থেকেও তেমন সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই সময় তিনি বৃহত্তর লালবাগ থানা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জাসাসের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান, নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের সন্তানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন ইসমাঈল হাসান।
নিখোঁজ শিশুদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মুন অ্যালার্ট’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিখোঁজ হওয়া প্রায় ৩০ শিশুর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে ইসমাঈল হাসান বলেন, ‘ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে যা কিছু অর্জন করেছি, সবকিছু চলে গেছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। মৃত্যুর আগে আমার সন্তানকে একবারের জন্য দেখে যেতে চাই। এছাড়া আমার কিছু চাওয়ার নেই।’
প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক নিখোঁজ সন্তান যাতে পিতামাতার কাছে ফিরে আসে, সেই ব্যবস্থা করবেন এবং বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন।’
ইসমাঈল হাসানের মতোই কান্নায় ভেঙে পড়েন দেড় মাস আগে নিখোঁজ হওয়া শিশু মো. আলীর বাবা মো. হোসেন। ঝিনাইদহ জেলার খাজুরা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয় তার ছেলে।
মো. হোসেন বলেন, ‘আমি হকারি করে পরিবার চালাই। আমার ছেলে কোরআনে হাফেজ। আমার ১৩ বছর বয়সি ছেলে গত ২৯ জুলাই দুপুরে বাসা থেকে বের হয়েছে। এরপর থেকে আর বাসায় আসেনি। পরবর্তীতে থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি। টানা তিন দিন থানায় যাওয়ার পর পুলিশ জিডি নিয়েছে। আমার ছেলেকে খুঁজতে পুলিশের তেমন কোনো তৎপরতা দেখিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রামসহ অনেক জায়গায় ছেলেকে খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। আজ দেড় মাস যাবৎ ছেলেকে আদর করতে পারি না। খাওয়াতে পারি না, ভালো পোশাক কিনে দিতে পারি না। আমার দুঃখের শেষ নেই।’
এদিকে, ৩৮ দিন আগে সাভারের বলিয়াপুর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় ৫ বছর বয়সি যাদব কর্মকার। তার মা অর্চনা রানী দাস একজন পোশাকশ্রমিক। সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পাগলপ্রায় তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে অর্চনা রানী দাস বলেন, ‘আমি আমার বাচ্চাকে চাই। এই বাচ্চা ছাড়া আমি বাঁচব না। বাচ্চাকে না পেয়ে আমি সুইসাইড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কিন্তু আমার বাবার দিকে তাকিয়ে আর করিনি। আমার ছেলে ছাড়া আমার কিছুই ভালো লাগে না।’
সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে আপনারা আইনা দেন।’
একই দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নিখোঁজ শিশুদের স্বজনদের কণ্ঠে ছিল একটাই আকুতি—তাদের সন্তানদের খুঁজে বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। কারও অপেক্ষার বয়স কয়েক বছর, কারও কয়েক মাস, আবার কারও মাত্র কয়েক সপ্তাহ। কিন্তু অপেক্ষার সময় যতই দীর্ঘ হচ্ছে, ততই ভারী হচ্ছে স্বজনদের বুকের ভেতরের শূন্যতা। সন্তান ফিরে আসবে—এই আশাটুকু আঁকড়ে ধরেই দিন কাটছে তাদের।

সন্তান হারানোর বেদনায় প্রতিটি দিনই যেন কাটছে চোখের জলে। নিখোঁজ সন্তানের খোঁজে বাবা-মায়ের অপেক্ষার যেন শেষ নেই। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও প্রিয় সন্তান একদিন ফিরে আসবে—এই আশায় পথ চেয়ে থাকেন তারা।
ঘরের কোণে পড়ে থাকা সন্তানের জামাকাপড়, ফেলে যাওয়া স্মৃতি কিংবা পথে দেখা প্রতিটি অচেনা মুখের মধ্যে যেন সন্তানকে খুঁজে ফেরেন তারা। সন্তান কোথায়—এই একটি প্রশ্নই থমকে দিয়েছে তাদের স্বাভাবিক জীবন। নিখোঁজ সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি, উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘ অপেক্ষাই হয়ে উঠেছে তাদের প্রতিদিনের নির্মম বাস্তবতা।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ জন শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হলেও এখনো ২ হাজার ৩৮ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে।
আজ থেকে ৩ হাজার ১৫০ দিন আগে, ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি রাজধানীর লালবাগ থেকে নিখোঁজ হয় ৮ বছর বয়সি শিশু সকাল। আদরের সন্তানকে হারিয়ে সেই থেকে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তার বাবা-মা। চারদিকে খোঁজাখুঁজির পর লালবাগ থানায় জিডি করেন সকালের বাবা ইসমাঈল হাসান।
শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রশাসনের কাছ থেকেও তেমন সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই সময় তিনি বৃহত্তর লালবাগ থানা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জাসাসের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান, নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের সন্তানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন ইসমাঈল হাসান।
নিখোঁজ শিশুদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মুন অ্যালার্ট’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিখোঁজ হওয়া প্রায় ৩০ শিশুর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে ইসমাঈল হাসান বলেন, ‘ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে যা কিছু অর্জন করেছি, সবকিছু চলে গেছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। মৃত্যুর আগে আমার সন্তানকে একবারের জন্য দেখে যেতে চাই। এছাড়া আমার কিছু চাওয়ার নেই।’
প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক নিখোঁজ সন্তান যাতে পিতামাতার কাছে ফিরে আসে, সেই ব্যবস্থা করবেন এবং বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন।’
ইসমাঈল হাসানের মতোই কান্নায় ভেঙে পড়েন দেড় মাস আগে নিখোঁজ হওয়া শিশু মো. আলীর বাবা মো. হোসেন। ঝিনাইদহ জেলার খাজুরা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয় তার ছেলে।
মো. হোসেন বলেন, ‘আমি হকারি করে পরিবার চালাই। আমার ছেলে কোরআনে হাফেজ। আমার ১৩ বছর বয়সি ছেলে গত ২৯ জুলাই দুপুরে বাসা থেকে বের হয়েছে। এরপর থেকে আর বাসায় আসেনি। পরবর্তীতে থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি। টানা তিন দিন থানায় যাওয়ার পর পুলিশ জিডি নিয়েছে। আমার ছেলেকে খুঁজতে পুলিশের তেমন কোনো তৎপরতা দেখিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রামসহ অনেক জায়গায় ছেলেকে খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। আজ দেড় মাস যাবৎ ছেলেকে আদর করতে পারি না। খাওয়াতে পারি না, ভালো পোশাক কিনে দিতে পারি না। আমার দুঃখের শেষ নেই।’
এদিকে, ৩৮ দিন আগে সাভারের বলিয়াপুর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় ৫ বছর বয়সি যাদব কর্মকার। তার মা অর্চনা রানী দাস একজন পোশাকশ্রমিক। সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পাগলপ্রায় তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে অর্চনা রানী দাস বলেন, ‘আমি আমার বাচ্চাকে চাই। এই বাচ্চা ছাড়া আমি বাঁচব না। বাচ্চাকে না পেয়ে আমি সুইসাইড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কিন্তু আমার বাবার দিকে তাকিয়ে আর করিনি। আমার ছেলে ছাড়া আমার কিছুই ভালো লাগে না।’
সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে আপনারা আইনা দেন।’
একই দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নিখোঁজ শিশুদের স্বজনদের কণ্ঠে ছিল একটাই আকুতি—তাদের সন্তানদের খুঁজে বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। কারও অপেক্ষার বয়স কয়েক বছর, কারও কয়েক মাস, আবার কারও মাত্র কয়েক সপ্তাহ। কিন্তু অপেক্ষার সময় যতই দীর্ঘ হচ্ছে, ততই ভারী হচ্ছে স্বজনদের বুকের ভেতরের শূন্যতা। সন্তান ফিরে আসবে—এই আশাটুকু আঁকড়ে ধরেই দিন কাটছে তাদের।

নিখোঁজ সন্তানের খোঁজে ঝরছে চোখের জল
মেহেদী হাছান মাহীম

সন্তান হারানোর বেদনায় প্রতিটি দিনই যেন কাটছে চোখের জলে। নিখোঁজ সন্তানের খোঁজে বাবা-মায়ের অপেক্ষার যেন শেষ নেই। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও প্রিয় সন্তান একদিন ফিরে আসবে—এই আশায় পথ চেয়ে থাকেন তারা।
ঘরের কোণে পড়ে থাকা সন্তানের জামাকাপড়, ফেলে যাওয়া স্মৃতি কিংবা পথে দেখা প্রতিটি অচেনা মুখের মধ্যে যেন সন্তানকে খুঁজে ফেরেন তারা। সন্তান কোথায়—এই একটি প্রশ্নই থমকে দিয়েছে তাদের স্বাভাবিক জীবন। নিখোঁজ সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি, উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘ অপেক্ষাই হয়ে উঠেছে তাদের প্রতিদিনের নির্মম বাস্তবতা।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ জন শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হলেও এখনো ২ হাজার ৩৮ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে।
আজ থেকে ৩ হাজার ১৫০ দিন আগে, ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি রাজধানীর লালবাগ থেকে নিখোঁজ হয় ৮ বছর বয়সি শিশু সকাল। আদরের সন্তানকে হারিয়ে সেই থেকে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তার বাবা-মা। চারদিকে খোঁজাখুঁজির পর লালবাগ থানায় জিডি করেন সকালের বাবা ইসমাঈল হাসান।
শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রশাসনের কাছ থেকেও তেমন সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই সময় তিনি বৃহত্তর লালবাগ থানা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জাসাসের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান, নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের সন্তানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন ইসমাঈল হাসান।
নিখোঁজ শিশুদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মুন অ্যালার্ট’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিখোঁজ হওয়া প্রায় ৩০ শিশুর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে ইসমাঈল হাসান বলেন, ‘ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে যা কিছু অর্জন করেছি, সবকিছু চলে গেছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। মৃত্যুর আগে আমার সন্তানকে একবারের জন্য দেখে যেতে চাই। এছাড়া আমার কিছু চাওয়ার নেই।’
প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক নিখোঁজ সন্তান যাতে পিতামাতার কাছে ফিরে আসে, সেই ব্যবস্থা করবেন এবং বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন।’
ইসমাঈল হাসানের মতোই কান্নায় ভেঙে পড়েন দেড় মাস আগে নিখোঁজ হওয়া শিশু মো. আলীর বাবা মো. হোসেন। ঝিনাইদহ জেলার খাজুরা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয় তার ছেলে।
মো. হোসেন বলেন, ‘আমি হকারি করে পরিবার চালাই। আমার ছেলে কোরআনে হাফেজ। আমার ১৩ বছর বয়সি ছেলে গত ২৯ জুলাই দুপুরে বাসা থেকে বের হয়েছে। এরপর থেকে আর বাসায় আসেনি। পরবর্তীতে থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি। টানা তিন দিন থানায় যাওয়ার পর পুলিশ জিডি নিয়েছে। আমার ছেলেকে খুঁজতে পুলিশের তেমন কোনো তৎপরতা দেখিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রামসহ অনেক জায়গায় ছেলেকে খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। আজ দেড় মাস যাবৎ ছেলেকে আদর করতে পারি না। খাওয়াতে পারি না, ভালো পোশাক কিনে দিতে পারি না। আমার দুঃখের শেষ নেই।’
এদিকে, ৩৮ দিন আগে সাভারের বলিয়াপুর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় ৫ বছর বয়সি যাদব কর্মকার। তার মা অর্চনা রানী দাস একজন পোশাকশ্রমিক। সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পাগলপ্রায় তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে অর্চনা রানী দাস বলেন, ‘আমি আমার বাচ্চাকে চাই। এই বাচ্চা ছাড়া আমি বাঁচব না। বাচ্চাকে না পেয়ে আমি সুইসাইড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কিন্তু আমার বাবার দিকে তাকিয়ে আর করিনি। আমার ছেলে ছাড়া আমার কিছুই ভালো লাগে না।’
সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে আপনারা আইনা দেন।’
একই দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নিখোঁজ শিশুদের স্বজনদের কণ্ঠে ছিল একটাই আকুতি—তাদের সন্তানদের খুঁজে বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। কারও অপেক্ষার বয়স কয়েক বছর, কারও কয়েক মাস, আবার কারও মাত্র কয়েক সপ্তাহ। কিন্তু অপেক্ষার সময় যতই দীর্ঘ হচ্ছে, ততই ভারী হচ্ছে স্বজনদের বুকের ভেতরের শূন্যতা। সন্তান ফিরে আসবে—এই আশাটুকু আঁকড়ে ধরেই দিন কাটছে তাদের।









