শিরোনাম

অনলাইনে ধর্ষকামী বার্তার প্রতিবাদ ঢাবির প্রীতিলতা ব্রিগেডের

ঢাবি সংবাদদাতা
ঢাবি সংবাদদাতা
অনলাইনে ধর্ষকামী বার্তার প্রতিবাদ ঢাবির প্রীতিলতা ব্রিগেডের
ঢাবির নারী শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘প্রীতিলতা ব্রিগেড’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কতিপয় পুরুষ শিক্ষার্থী পরিচালিত একটি অনলাইন গ্রুপে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ধর্ষকামী, নিপীড়নমূলক আলোচনা ও যৌন বিকৃতিপূর্ণ মানসিকতার প্রকাশের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘প্রীতিলতা ব্রিগেড’। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ কথা জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রীতিলতা ব্রিগেড উল্লেখ করে, ব্যক্তিগত বার্তালাপের গোপনীয়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হলেও, একাধিক নারী শিক্ষার্থীকে ঘিরে নিপীড়নের পরিকল্পনা ও বিকৃত মানসিকতার প্রকাশ একে আর নিছক ব্যক্তিগত আলাপের পরিসরে রাখে না। এটি সরাসরি নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।

সংগঠনটির মতে, এ ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো বিকৃতি নয়; বরং দীর্ঘদিনের পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতাকাঠামো ও লিঙ্গবৈষম্যের সামাজিক প্রতিফলন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী কিংবা সহপাঠীদের সম্পর্কে ক্ষমতার অসমতা, সম্মতির অবমূল্যায়ন ও জবাবদিহির অনুপস্থিতির কারণেই অনলাইন ও অফলাইনে নিপীড়নের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। কার্যকর বিচার না হলে একদিকে ভুক্তভোগীর নীরবতা আর অন্যদিকে নিপীড়কের দায়মুক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় তার জ্ঞানচর্চার মুক্ত পরিসর হারিয়ে নিপীড়নের নিরাপদ ভূখণ্ডে পরিণত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মিমোর মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক ও ক্ষমতার অসমতার ওই ঘটনা এই বাস্তবতাকে আরও গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে। ২০০৯ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ও স্বাধীন সেল থাকা বাধ্যতামূলক হলেও তা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে নিরাপদ অভিযোগ গ্রহণ, মানসিক সহায়তা প্রদান এবং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নিপীড়নবিরোধী একটি জবাবদিহিমূলক পরিবেশ গড়ে তুলে বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসানের আহ্বান জানিয়েছে প্রীতিলতা ব্রিগেড।

/এমআর/